শিবগঞ্জে মণিপুরী পরিবারকে সম্পত্তি থেকে বিতাড়িত করতে হামলা ও নির্যাতন
উত্তরাধিকার সূত্রে পাওয়া পৈতৃক সম্পত্তি থেকে একটি সংখ্যালঘু পরিবারকে উচ্ছেদ করতে প্রভাবশালী চক্রের জাল দলিল তৈরি, সন্ত্রাসী হামলা এবং প্রাণনাশের হুমকির বিস্তারিত চিত্র।
সূত্র: দৈনিক কাজির বাজার
বক্তা: এস রীনা দেবী (সভানেত্রী, বাংলাদেশ মণিপুরী মহিলা সমিতি)
প্রেক্ষাপট ও বিরোধপূর্ণ সম্পত্তি
এই অংশে বিবদমান পক্ষগুলোর পরিচয় এবং যে ৪৪ শতক জমি নিয়ে এই দীর্ঘস্থায়ী সংঘাত, তার বর্তমান অবস্থা ও ব্যবহারের একটি দৃশ্যমান ধারণা প্রদান করা হয়েছে।
ভুক্তভোগী পক্ষ
- আবেদনকারী: এস রীনা দেবী ও তার পরিবার
- পরিচয়: সভানেত্রী, বাংলাদেশ মণিপুরী মহিলা সমিতি
- দাবি: কয়েক শতাব্দী ধরে রায়নগর মৌজার এই সম্পত্তিতে বসবাস। স্বামী অমৃত সিংহের মৃত্যুর পর হিন্দু আইনে তিনি সম্পত্তির উত্তরাধিকারী।
মূল অভিযুক্তগণ
- ১. আজিজুর রহমান মানিক মিয়া: সাবেক চেয়ারম্যান
- ২. আজাদুর রহমান আজাদ: সিটি কাউন্সিলর (মানিকের ভাই)
- অভিযোগ: ক্ষমতার অপব্যবহার করে জাল দলিল তৈরি ও সন্ত্রাসী হামলার নেতৃত্ব প্রদান।
সম্পত্তির অবস্থান ও ব্যবহার (৪৪ শতক)
শিবগঞ্জ বাজারস্থ কিচেন মার্কেট ও মকবুল টাওয়ারের বিপরীতে অবস্থিত এই জমিতে বর্তমানে পরিবারটির জীবন-জীবিকার বিভিন্ন স্থাপনা রয়েছে।
জালিয়াতির খতিয়ান
সম্পত্তি গ্রাস করার উদ্দেশ্যে কীভাবে জাল দলিল তৈরি করা হয়েছিল এবং পরবর্তীতে পুলিশি তদন্ত ও আদালতে এর কী অবস্থা দাঁড়ায়, তার বিস্তারিত তথ্য নিচের ট্যাবগুলোতে দেওয়া হলো।
📜 জাল বিনিময় দলিল (নং ১৫৮৬৫)
রীনা দেবীর ভাষ্যমতে, জমিটি অবৈধভাবে দখলের জন্য ১৯৮৮ সালের ২৭ ডিসেম্বর একটি জাল বিনিময় দলিল তৈরি করে দখলদার চক্র।
দলিলের শর্তাবলি (যাহা সম্পূর্ণ জাল):
- ১ম পক্ষ: আব্দুস সালাম (মৃত আব্দুল আউয়ালের পুত্র, টিলাগড় শাপলাবাগ)।
- ২য় পক্ষ: অমৃত সিংহ (রীনা দেবীর স্বামী)।
- বিনিময় চুক্তি: ১ম পক্ষ ২য় পক্ষের শিবগঞ্জের ৪৪ শতক জমি নেবেন এবং বিনিময়ে ২য় পক্ষকে দক্ষিণগাছ মৌজার বিভিন্ন দাগে ৭৮ শতক জমি দেবেন।
প্রকৃত সত্য: রীনা দেবীর স্বামী কোনোদিন এমন কোনো দলিল করেননি এবং বিনিময়ে কোনো জমিও পাননি। এই দলিলের ভিত্তিতে চক্রটি আরও ৬টি জাল দলিল তৈরি করে।
🔍 ডিবি পুলিশের তদন্ত প্রতিবেদন
জালিয়াতির বিষয়টি সামনে এলে ২০১৪ সালের ১৪ নভেম্বর সিলেট পুলিশ কমিশনার বরাবর ডিবি পুলিশের সহকারী কমিশনার একটি তদন্ত প্রতিবেদন জমা দেন।
"তদন্ত প্রতিবেদনে স্পষ্টভাবে দেখা যায়, প্রথম পক্ষ আব্দুস সালাম যে সকল জমি (দক্ষিণগাছ মৌজায় ৭৮ শতক) অমৃত সিংহকে বিনিময় হিসেবে দিয়েছেন বলে দলিলে উল্লেখ করেছেন, বাস্তবে সেই সমস্ত জমি আব্দুস সালামের নিজের আত্মীয়-স্বজনদের দখলেই রয়েছে।"
সিদ্ধান্ত: এই প্রতিবেদন জাল দলিলের অস্তিত্ব এবং জালিয়াতির বিষয়টি সন্দেহাতীতভাবে প্রমাণ করে।
⚖️ বর্তমান আইনি পদক্ষেপ
জাল দলিলের বিষয়টি প্রমাণিত হওয়ার পর পরিবারটি তাদের অধিকার আদায়ে আইনি লড়াই চালিয়ে যাচ্ছে।
স্বত্ব মোকদ্দমা
স্বামী ও শ্বশুরের রেখে যাওয়া দখলী সম্পত্তির স্বত্ব পাওয়ার জন্য রীনা দেবী স্বত্ব মোকদ্দমা (৫২/০৬) দায়ের করেছেন, যা বর্তমানে আদালতে বিচারাধীন রয়েছে।
নামজারি বাতিল
দখলদার চক্রটি অবৈধ দলিলের বলে ভূমি অফিসে সম্পত্তি নিজেদের নামে নামজারি করানোর জন্য বারবার আবেদন করলেও তা ব্যর্থ হয়েছে।
নির্যাতন ও সন্ত্রাসী হামলার চিত্র
জালিয়াতির মাধ্যমে আইনিভাবে সম্পত্তি দখলে ব্যর্থ হয়ে অভিযুক্তরা কীভাবে বলপ্রয়োগ ও সন্ত্রাসের পথ বেছে নিয়েছে, তার ধারাবাহিক বিবরণ।
প্রথম বৃহৎ হামলা ও দখলের চেষ্টা
আজিজুর রহমান মানিকের নেতৃত্বে একদল লোক সম্পত্তিতে আকস্মিক হামলা চালায়। কোতোয়ালি থানার পুলিশের দ্রুত তৎপরতায় তারা সে যাত্রায় জমি দখলে ব্যর্থ হয়।
৮ থেকে ১০ বার সন্ত্রাসী হামলা
সম্পত্তি জোরপূর্বক দখলের উদ্দেশ্যে চক্রটি নিয়মিত বিরতিতে হামলা চালাতে থাকে।
- বসতবাড়ির তালা ভেঙে ভেতরে প্রবেশ।
- অস্ত্রের মহড়া ও গুলিবর্ষণ।
- বাড়ির মালামাল লুটপাট।
- পরিবারের সন্তানদের ওপর শারীরিক আঘাত ও আহত করা।
প্রাণনাশের ও অগ্নিসংযোগের হুমকি
বিভিন্ন অপরিচিত মোবাইল নম্বর থেকে রীনা দেবী ও তার পরিবারকে ক্রমাগত প্রাণে মারার এবং বসতবাড়িতে আগুন জ্বালিয়ে দেওয়ার হুমকি দেওয়া হচ্ছে। পরিবারটি চরম নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছে।
প্রধানমন্ত্রীর হস্তক্ষেপ কামনা
"সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের একজন নিরীহ নারী হিসেবে সন্তানদের নিয়ে উত্তরাধিকারী হিসেবে প্রাপ্ত সম্পত্তিতে শান্তিতে বসবাস করতে চাই।"
মাননীয় প্রধানমন্ত্রী
নিরাপত্তা নিশ্চিতকরণ ও ন্যায়বিচারের আবেদন
অর্থমন্ত্রী
প্রভাবশালীদের দৌরাত্ম্য বন্ধে পদক্ষেপ
স্থানীয় প্রশাসন
অবিলম্বে আইনি সুরক্ষা ও জালিয়াতদের শাস্তি
No comments:
Post a Comment
Please validate CAPTCHA