গণভোটে ‘হ্যাঁ’ জয়ী, কিন্তু পরিসংখ্যানে বড় গরমিল
নির্বাচন কমিশনের প্রকাশিত ফলাফলে গাণিতিক অসম্ভবতা এবং অসামঞ্জস্যের গভীর বিশ্লেষণ। কিছু আসনে ভোট কাস্টিং ২৪৪% এবং ভোটার সংখ্যার চেয়ে বেশি ‘হ্যাঁ’ ভোটের অভিযোগ।
জাতীয় পরিসংখ্যান (ইসি অনুযায়ী)
নিচের কার্ডগুলোতে নির্বাচন কমিশনের দেওয়া প্রাথমিক তথ্যের সারসংক্ষেপ তুলে ধরা হলো। আপাতদৃষ্টিতে স্বাভাবিক মনে হলেও, এই তথ্যের গভীরে লুকিয়ে আছে বড় ধরনের গরমিল।
⚠ প্রধান অসঙ্গতিসমূহ: যেখানে অংক মিলছে না
প্রতিবেদনে চিহ্নিত তিনটি প্রধান গরমিল বিস্তারিত দেখতে নিচের বাটনগুলোতে ক্লিক করুন। প্রতিটি ক্ষেত্রে নির্বাচন কমিশনের দেওয়া তথ্য গাণিতিক যুক্তির সাথে সাংঘর্ষিক।
গাণিতিক অসম্ভাব্যতা
রাজশাহী-৪ আসনে মোট ভোটারের চেয়ে দ্বিগুণেরও বেশি ভোট কাস্ট দেখানো হয়েছে। কোনো বৈধ নির্বাচনে ১০০% এর বেশি ভোট পড়া অসম্ভব। এটি ডেটা এন্ট্রির চরম ত্রুটি বা কারচুপির ইঙ্গিত দেয়।
- মোট ভোটার: ৩,১৯,৯০৯
- কাস্টকৃত ভোট: ৭,৮১,৫২৩
- কাস্টিং হার: ২৪৪.২৯৫%
চিত্র: রাজশাহী-৪ আসনে মোট ভোটার বনাম কাস্টকৃত ভোটের তুলনা
ভোটারের চেয়ে ‘হ্যাঁ’ ভোট বেশি!
নেত্রকোনা-৩ আসনে এক অদ্ভুত চিত্র দেখা গেছে। এখানে ‘হ্যাঁ’ ভোটের সংখ্যা মোট ভোটারের সংখ্যার চেয়ে ৮১,০০০ বেশি। অথচ, মোট প্রদত্ত ভোটের সংখ্যা দেখানো হয়েছে মাত্র ২.৩৮ লাখ। এটি একটি স্পষ্ট স্ববিরোধিতা।
নেত্রকোনা-৩ পরিসংখ্যান:
চিত্র: নেত্রকোনা-৩ আসনের অসঙ্গতিপূর্ণ ডেটা
একই দিন, দুই চিত্র
সিরাজগঞ্জ-১ আসনে একই দিনে অনুষ্ঠিত সংসদ নির্বাচন এবং গণভোটে কাস্টিং হারের মধ্যে বিশাল ব্যবধান। সংসদ নির্বাচনে যেখানে ৬০% মানুষ ভোট দিয়েছেন, সেখানে গণভোটে মাত্র ৭.৮% ভোট দেখানো হয়েছে।
প্রশ্ন:
একই ভোটাররা কি একই দিনে একটি ব্যালটে ভোট দিয়ে অন্যটি এড়িয়ে গেছেন? নাকি এটি রিপোর্টিংয়ের ভুল?
চিত্র: একই দিনে অনুষ্ঠিত দুই নির্বাচনে ভোটের হারের তুলনা
‘না’ ভোট জয়ী এলাকা
২৯৯টি আসনের মধ্যে ১১টিতে ‘না’ ভোট জয়যুক্ত হয়েছে। এর মধ্যে উল্লেখযোগ্য অঞ্চলগুলো হলো:
দ্রষ্টব্য: রাতের বেলায় কিছু আসনের ফল সংশোধন করা হলেও নেত্রকোনা-৩, ৪ ও ৫–এর গরমিল সম্পূর্ণভাবে সংশোধিত হয়নি।
গরমিলের সম্ভাব্য কারণ
বিশেষজ্ঞদের মতে, এই পরিসংখ্যানগত বিপর্যয়ের পেছনে চারটি প্রধান প্রযুক্তিগত ও পদ্ধতিগত কারণ থাকতে পারে:
ডাটা এন্ট্রি ত্রুটি
কেন্দ্রে ম্যানুয়াল ইনপুটে ভুল।
সিঙ্ক সমস্যা
সার্ভার ও আঞ্চলিক অফিসের অমিল।
যাচাইহীন প্রকাশ
অডিট বা ক্রস-চেক ছাড়া ঘোষণা।
টেকনিক্যাল গ্লিচ
অ্যালগরিদমিক বা প্রসেসিং ত্রুটি।
স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতার দাবি
নির্বাচনে জয়-পরাজয় বড় কথা নয়, বরং প্রক্রিয়ার স্বচ্ছতাই গণতন্ত্রের মূল শক্তি। যখন ২৪৪% কাস্টিং হারের মতো তথ্য সরকারিভাবে আসে, তখন তা পুরো নির্বাচনী ব্যবস্থার প্রতি জনমনে আস্থার সংকট তৈরি করে। জবাবদিহিতা নিশ্চিত করতে আমরা নিম্নলিখিত দাবিগুলো পেশ করছি:

No comments:
Post a Comment
Please validate CAPTCHA