- Bangladesh HR Defender | Human Rights, Rule of Law & Accountability

Latest

Saturday, February 14, 2026

গণভোট ২০২৬: পরিসংখ্যান বিশ্লেষণ ড্যাশবোর্ড
বিশ্লেষণ প্রতিবেদন

গণভোটে ‘হ্যাঁ’ জয়ী, কিন্তু পরিসংখ্যানে বড় গরমিল

নির্বাচন কমিশনের প্রকাশিত ফলাফলে গাণিতিক অসম্ভবতা এবং অসামঞ্জস্যের গভীর বিশ্লেষণ। কিছু আসনে ভোট কাস্টিং ২৪৪% এবং ভোটার সংখ্যার চেয়ে বেশি ‘হ্যাঁ’ ভোটের অভিযোগ।

প্রকাশিত: ১৪ ফেব্রুয়ারি ২০২৬

জাতীয় পরিসংখ্যান (ইসি অনুযায়ী)

নিচের কার্ডগুলোতে নির্বাচন কমিশনের দেওয়া প্রাথমিক তথ্যের সারসংক্ষেপ তুলে ধরা হলো। আপাতদৃষ্টিতে স্বাভাবিক মনে হলেও, এই তথ্যের গভীরে লুকিয়ে আছে বড় ধরনের গরমিল।

মোট ভোটার
১২ কোটি ৭৭ লাখ+
১২,৭৭,০২,৩৩৪
কাস্টিং হার
৬০.২৬%
জাতীয় গড়
‘হ্যাঁ’ ভোট
৬২.৪৭%
৪,৮০,৭৪,৪২৯ ভোট
‘না’ ভোট
২৯.৩২%
২,২৫,৬৫,৬২৭ ভোট

⚠ প্রধান অসঙ্গতিসমূহ: যেখানে অংক মিলছে না

প্রতিবেদনে চিহ্নিত তিনটি প্রধান গরমিল বিস্তারিত দেখতে নিচের বাটনগুলোতে ক্লিক করুন। প্রতিটি ক্ষেত্রে নির্বাচন কমিশনের দেওয়া তথ্য গাণিতিক যুক্তির সাথে সাংঘর্ষিক।

গাণিতিক অসম্ভাব্যতা

রাজশাহী-৪ আসনে মোট ভোটারের চেয়ে দ্বিগুণেরও বেশি ভোট কাস্ট দেখানো হয়েছে। কোনো বৈধ নির্বাচনে ১০০% এর বেশি ভোট পড়া অসম্ভব। এটি ডেটা এন্ট্রির চরম ত্রুটি বা কারচুপির ইঙ্গিত দেয়।

  • মোট ভোটার: ৩,১৯,৯০৯
  • কাস্টকৃত ভোট: ৭,৮১,৫২৩
  • কাস্টিং হার: ২৪৪.২৯৫%

চিত্র: রাজশাহী-৪ আসনে মোট ভোটার বনাম কাস্টকৃত ভোটের তুলনা

‘না’ ভোট জয়ী এলাকা

২৯৯টি আসনের মধ্যে ১১টিতে ‘না’ ভোট জয়যুক্ত হয়েছে। এর মধ্যে উল্লেখযোগ্য অঞ্চলগুলো হলো:

পার্বত্য তিন জেলা রাঙ্গামাটি, খাগড়াছড়ি, বান্দরবান
গোপালগঞ্জ ৩টি আসন
রাজশাহী-৪ (সংশোধনের পূর্বে)

দ্রষ্টব্য: রাতের বেলায় কিছু আসনের ফল সংশোধন করা হলেও নেত্রকোনা-৩, ৪ ও ৫–এর গরমিল সম্পূর্ণভাবে সংশোধিত হয়নি।

গরমিলের সম্ভাব্য কারণ

বিশেষজ্ঞদের মতে, এই পরিসংখ্যানগত বিপর্যয়ের পেছনে চারটি প্রধান প্রযুক্তিগত ও পদ্ধতিগত কারণ থাকতে পারে:

ডাটা এন্ট্রি ত্রুটি

কেন্দ্রে ম্যানুয়াল ইনপুটে ভুল।

🔄

সিঙ্ক সমস্যা

সার্ভার ও আঞ্চলিক অফিসের অমিল।

🔍

যাচাইহীন প্রকাশ

অডিট বা ক্রস-চেক ছাড়া ঘোষণা।

💻

টেকনিক্যাল গ্লিচ

অ্যালগরিদমিক বা প্রসেসিং ত্রুটি।

স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতার দাবি

নির্বাচনে জয়-পরাজয় বড় কথা নয়, বরং প্রক্রিয়ার স্বচ্ছতাই গণতন্ত্রের মূল শক্তি। যখন ২৪৪% কাস্টিং হারের মতো তথ্য সরকারিভাবে আসে, তখন তা পুরো নির্বাচনী ব্যবস্থার প্রতি জনমনে আস্থার সংকট তৈরি করে। জবাবদিহিতা নিশ্চিত করতে আমরা নিম্নলিখিত দাবিগুলো পেশ করছি:

আসনভিত্তিক Raw Data প্রকাশ
প্রযুক্তিগত ব্যাখ্যা প্রদান
স্বাধীন ফরেনসিক অডিট
কেন্দ্রভিত্তিক ফলাফল উন্মুক্তকরণ
ইন্ডিপেন্ডেন্ট হিউম্যান রাইটস ডিফেন্ডার রিপোর্ট

© ২০২৬ মানবাধিকার ও নির্বাচনী স্বচ্ছতা পর্যবেক্ষণ। সকল তথ্য নির্বাচন কমিশনের প্রাথমিক রিপোর্টের ভিত্তিতে সংকলিত।

No comments:

Post a Comment

Please validate CAPTCHA