Latest

Monday, March 9, 2026

‘বুদ্ধির মুক্তি’ আন্দোলনের অগ্রনায়ক মোতাহের হোসেন চৌধুরী

মোতাহের হোসেন চৌধুরী - ইনফোগ্রাফিক
✍️

মোতাহের হোসেন চৌধুরী

(১৯০৩ – ১৯৫৬)

মুক্তবুদ্ধি চর্চা ও সংস্কৃতির সাধক

💡

বিংশ শতাব্দীর অন্যতম প্রখ্যাত বাংলাদেশী প্রাবন্ধিক, শিক্ষাবিদ এবং ‘বুদ্ধির মুক্তি’ আন্দোলনের অগ্রনায়ক মোতাহের হোসেন চৌধুরী। তাঁর চিন্তাধারায় যুক্তি, মানবতাবাদ এবং পরিশীলিত রুচিবোধের এক অনন্য সমন্বয় ঘটেছিল।

📍

জন্মস্থান

কাঞ্চনপুর, নোয়াখালী

🎓

সর্বোচ্চ শিক্ষা

এমএ (বাংলা), ১৯৪৩

🏫

পেশা

অধ্যাপনা

🤝

সম্পৃক্ততা

'শিখা' গোষ্ঠী

জীবন-প্রবাহ

তাঁর শিক্ষাজীবন এবং কর্মজীবনের ধারাবাহিক পর্যায়গুলো নিচে তুলে ধরা হলো, যা একজন সাধারণ শিক্ষার্থী থেকে প্রখ্যাত শিক্ষাবিদ হয়ে ওঠার চিত্র ফুটিয়ে তোলে।

প্রাথমিক শিক্ষা

কুমিল্লার ইউসুফ হাইস্কুল থেকে ম্যাট্রিক এবং ভিক্টোরিয়া কলেজ থেকে আইএ ও বিএ পাস করেন।

উচ্চশিক্ষা (১৯৪৩)

প্রাইভেট পরীক্ষার্থী হিসেবে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে বাংলায় এমএ পাস করেন।

অধ্যাপনা জীবন

কলকাতা ইসলামিয়া কলেজ ও পরবর্তীতে চট্টগ্রাম কলেজে অধ্যাপক হিসেবে কর্মরত ছিলেন।

জীবনাবসান (১৯৫৬)

১৮ সেপ্টেম্বর ১৯৫৬ সালে রবীন্দ্রসঙ্গীত শুনতে শুনতেই শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন।

🧠

দার্শনিক প্রভাব

তিনি ইউরোপীয় উদারনৈতিক ভাবধারা এবং দেশীয় মননশীলতার দ্বারা গভীরভাবে প্রভাবিত ছিলেন। তাঁর চিন্তাধারার মূল ভিত্তিগুলো নিচের চার্টে দৃশ্যমান।

তাঁর দর্শনে যুক্তি, সভ্যতা ও সৌন্দর্যের অপূর্ব মিলন ঘটেছিল।

💬

মূল দর্শন ও বাণী

তাঁর রচনার প্রধান উপজীব্য হলো 'সংস্কৃতি'। তিনি সংস্কৃতিকে কেবল বিনোদন হিসেবে দেখেননি, বরং একে মনুষ্যত্বের সর্বোচ্চ সাধনা হিসেবে বিবেচনা করেছেন।

"

"ধর্ম সাধারণ লোকের কালচার, আর কালচার শিক্ষিত মার্জিত লোকের ধর্ম।"

অন্ধবিশ্বাসের চেয়ে পরিশীলিত রুচিকে প্রাধান্য দিয়েছেন।

"

"কালচার মানে উন্নততর জীবন সম্বন্ধে চেতনা, সৌন্দর্য, আনন্দ ও প্রেম সম্বন্ধে অবহিতি।"

সৌন্দর্যবোধ ও মানবপ্রেমকে সংস্কৃতির মূল ভিত্তি বলেছেন।

"

"রুচিবান লোক দশের একজন নয়, দশ পেরিয়ে একাদশ।"

গড্ডালিকা প্রবাহে গা না ভাসিয়ে নিজস্ব স্বাতন্ত্র্য বজায় রাখার আহ্বান।

📚

সাহিত্যকর্ম ও কালপঞ্জি

মোতাহের হোসেন চৌধুরী মূলত মননশীল প্রবন্ধকার হিসেবে পরিচিত। তাঁর রচনার পরিমাণ খুব বেশি না হলেও গুণগত মানে তা অসাধারণ।

আকর্ষণীয় বিষয় হলো, তাঁর শ্রেষ্ঠ প্রবন্ধ গ্রন্থ 'সংস্কৃতি কথা' সহ অনুদিত গ্রন্থাবলি তাঁর মৃত্যুর পরেই প্রকাশিত হয়েছিল, যা সাহিত্য জগতে তাঁর দীর্ঘস্থায়ী প্রভাব প্রমাণ করে।

"তোমার কাজল কালো কেশে আমার হৃদয়খানি বাঁধা,
আমি তোমার পাগল কানু, তুমি আমার রাধা।"

— তাঁর রচিত কবিতা (তাঁর সাহিত্য জীবনের শুরু হয়েছিল কবিতার মাধ্যমে)

মুক্তবুদ্ধি চর্চা ও সংস্কৃতির সাধক

আজকের দিনে একটি সভ্য ও উন্নত জাতি হিসেবে গড়ে ওঠার জন্য তাঁর প্রগতিশীল ও মানবতাবাদী চিন্তা ধারণ করা অপরিহার্য।

No comments:

Post a Comment

Please validate CAPTCHA