বাংলাদেশ: নজরদারি ও ইন্টারসেপশন — রূপান্তরের পাঁচ মাস পর আইনের শাসন ও মানবাধিকারের নিরীক্ষা
যৌথ বিবৃতি ASA 13/1357/2026 কেন বিএনপি সরকারের প্রাতিষ্ঠানিক জবাবদিহিতার অঙ্গীকারের জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ পরীক্ষা
ফেব্রুয়ারি ২০২৬-এ গঠিত নতুন সরকার বাংলাদেশের ইতিহাসে এক গভীর রূপান্তরের পর দায়িত্ব গ্রহণ করে। দীর্ঘ ১৬ বছরের কর্তৃত্ববাদী শাসনের উত্তরাধিকার হিসেবে রেখে যাওয়া প্রোথিত নজরদারি কাঠামো, ব্যাপক ইন্টারসেপশন সক্ষমতা এবং জবাবদিহিতাহীন প্রতিষ্ঠানগুলো আজও কার্যকর রয়েছে। এই প্রেক্ষাপটে বিএনপির নির্বাচনী ইশতেহার ‘বাংলাদেশ বিফোর অল’ — যেখানে আইনের শাসন, মানবাধিকার সুরক্ষা এবং প্রাতিষ্ঠানিক সংস্কারের অঙ্গীকার করা হয়েছিল — এখন তার প্রথম বাস্তব পরীক্ষার মুখোমুখি। ASA 13/1357/2026 যৌথ বিবৃতি সেই পরীক্ষার একটি গুরুত্বপূর্ণ মাপকাঠি।
১. প্রোথিত কাঠামো: ব্যাপকতা ও প্রমাণ
বাংলাদেশে নজরদারি অবকাঠামো কোনো বিচ্ছিন্ন প্রযুক্তি নয়, বরং এক দশকেরও বেশি সময় ধরে গড়ে ওঠা একটি প্রাতিষ্ঠানিক ও প্রযুক্তিগত নেটওয়ার্ক। টেক গ্লোবাল ইনস্টিটিউট (TGI)-এর তথ্য অনুযায়ী, ২০১৫ থেকে ২০২৫ সালের মধ্যে নজরদারি ও ইন্টারসেপশন প্রযুক্তি ক্রয়ে ব্যয় হয়েছে প্রায় ১৯০ মিলিয়ন মার্কিন ডলার। একই সময়ে, দ্য ডেইলি স্টার-এর অনুসন্ধানে ২০১৬-২০২৪ পর্যন্ত অন্তত ১২০ মিলিয়ন মার্কিন ডলারের ক্রয়ের প্রমাণ মিলেছে।
এই কাঠামোর গভীরতা বোঝা যায় সাম্প্রতিক দুটি ঘটনায়। ২০২৬ সালের ১০ ফেব্রুয়ারি প্রধান উপদেষ্টা মুহাম্মদ ইউনূসের কাছে জমা দেওয়া একটি উচ্চ ক্ষমতাসম্পন্ন তদন্ত কমিটির প্রতিবেদন — যা আজ পর্যন্ত জনসমক্ষে প্রকাশ করা হয়নি — নজরদারি সরঞ্জামের অপব্যবহার এবং মানবাধিকার লঙ্ঘনের যোগসূত্র চিহ্নিত করেছে বলে জানা গেছে। অন্যদিকে, ২০২৬ সালের মে মাসে জাতীয় টেলিযোগাযোগ পর্যবেক্ষণ কেন্দ্র (NTMC)-এর জন্য ৯৪.৯৫ কোটি টাকা বরাদ্দের তথ্য প্রকাশিত হয়।
২০২৬-২৭ অর্থবছরের প্রস্তাবিত বাজেটে আইনশৃঙ্খলা ও নিরাপত্তা খাতে বরাদ্দ রাখা হয়েছে ৭৩,৬৪০ কোটি টাকা, যা মোট বাজেটের ৭.৮৫% — নজরদারি সক্ষমতা সম্প্রসারণের আর্থিক ভিত্তি এখনও অটুট।
সবচেয়ে উদ্বেগজনক যোগসূত্রটি এসেছে জাতিসংঘ মানবাধিকার হাইকমিশন (OHCHR)-এর ফ্যাক্ট-ফাইন্ডিং রিপোর্ট (জুলাই-আগস্ট ২০২৪) থেকে। প্রতিবেদনে স্পষ্টভাবে বলা হয়েছে, ব্যাপক ইলেকট্রনিক নজরদারি ও ইন্টারসেপশন ব্যবস্থা কীভাবে অপহরণ, নির্বিচারে গ্রেপ্তার এবং গুম (enforced disappearance)-এর মতো গুরুতর মানবাধিকার লঙ্ঘনের পূর্বশর্ত হিসেবে ব্যবহৃত হয়েছে। নজরদারি তাই কেবল গোপনীয়তার প্রশ্ন নয়, জীবনের অধিকারের প্রশ্নও।
২. আইনি শূন্যতা: অধ্যাদেশ থেকে আইনে
রূপান্তর-পরবর্তী সরকার আইনি সংস্কারের উদ্যোগ নিলেও, বাস্তবে তা একটি আইনি শূন্যতা (legal vacuum) তৈরি করেছে। বাংলাদেশ টেলিযোগাযোগ নিয়ন্ত্রণ (BTR) অধ্যাদেশ ২০২৬-কে দ্রুত BTR আইন ২০২৬-এ রূপান্তর করা হয়, কিন্তু এই প্রক্রিয়ায় ধারা ৯৭ক (Sec 97A)-এর মূল সুরক্ষা ব্যবস্থাগুলো উল্লেখযোগ্যভাবে দুর্বল করা হয়েছে। অধ্যাদেশে থাকা বিচারিক তদারকি ও আনুপাতিকতার শর্ত আইনে পরিণত হওয়ার সময় শিথিল করা হয়, যা নির্বাহী বিভাগের হাতে প্রায় অবাধ ইন্টারসেপশন ক্ষমতা তুলে দেয়।
দ্বিতীয়ত, NTMC-এর কোনো স্বতন্ত্র সংবিধিবদ্ধ ভিত্তি নেই। একটি নির্বাহী আদেশে গঠিত সংস্থা হিসেবে এটি টেলিযোগাযোগ নজরদারি, সোশ্যাল মিডিয়া মনিটরিং এবং ডেটা ইন্টারসেপশনের কেন্দ্রীয় হাবে পরিণত হয়েছে, কিন্তু এর ক্ষমতা, জবাবদিহিতা বা স্বাধীন তদারকির কোনো আইনি কাঠামো নেই।
তৃতীয়ত, প্রস্তাবিত ব্যক্তিগত তথ্য সুরক্ষা আইন (PDPA) ২০২৬ রাষ্ট্রীয় সংস্থাগুলোর জন্য অতিব্যাপক ছাড় (broad exemptions) রেখেছে — জাতীয় নিরাপত্তা, জনশৃঙ্খলা বা অপরাধ তদন্তের নামে প্রায় যেকোনো তথ্য প্রক্রিয়াকরণকে সুরক্ষা আইনের আওতা থেকে বাইরে রাখা যাবে, তাও সুনির্দিষ্ট ও সংকীর্ণ সংজ্ঞা ছাড়া।
একই সঙ্গে জাতীয় ডিজিটাল ব্যবস্থাপনা আইন (NDMA) ২০২৬ ডেটা ও নজরদারি সংক্রান্ত সিদ্ধান্ত গ্রহণকে আরও কেন্দ্রীভূত করছে, যেখানে স্বাধীন নিয়ন্ত্রক সংস্থার পরিবর্তে নির্বাহী নিয়ন্ত্রণকে প্রাধান্য দেওয়া হয়েছে। ফলে আইন আছে, কিন্তু আইনের শাসন নেই — এই হলো বর্তমান সংকটের মূল।
৩. আইনের শাসনের দৃষ্টিকোণ থেকে
৩.১ বৈধতা ও আইনি নিশ্চয়তা (Legality and Legal Certainty)
আইনের শাসনের প্রথম শর্ত হলো, রাষ্ট্রীয় ক্ষমতা প্রয়োগের ভিত্তি হতে হবে সুস্পষ্ট, সহজলভ্য ও পূর্বানুমেয় আইন। বাংলাদেশে ইন্টারসেপশনের ক্ষমতা বর্তমানে ছড়িয়ে আছে অধ্যাদেশ, নির্বাহী আদেশ, অস্পষ্ট বিধি এবং গোপন নীতিমালায়। নাগরিক জানেন না কখন, কী কারণে এবং কোন কর্তৃপক্ষের অনুমোদনে তার যোগাযোগে হস্তক্ষেপ করা হতে পারে। এটি সংবিধানের ৩১ অনুচ্ছেদে বর্ণিত আইনানুযায়ী সুরক্ষার অধিকারের পরিপন্থী।
৩.২ ক্ষমতা পৃথকীকরণ ও স্বাধীন তদারকির অভাব
বর্তমান কাঠামোতে ইন্টারসেপশনের অনুমোদন, বাস্তবায়ন এবং তদারকি — তিনটিই মূলত নির্বাহী বিভাগের হাতে কেন্দ্রীভূত। বিচার বিভাগের পূর্বানুমোদন (prior judicial authorization) বাধ্যতামূলক নয়, এবং সংসদীয় তদারকি কার্যত অনুপস্থিত। ক্ষমতা পৃথকীকরণের এই লঙ্ঘন আইনের শাসনকে দুর্বল করে এবং অপব্যবহারের সুযোগ তৈরি করে।
৩.৩ স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা
১০ ফেব্রুয়ারির তদন্ত প্রতিবেদন অপ্রকাশিত রাখা, NTMC-এর বাজেট ও ক্রয় প্রক্রিয়ায় গোপনীয়তা, এবং নজরদারি প্রযুক্তি আমদানিতে মানবাধিকার Due Diligence-এর অনুপস্থিতি — সব মিলিয়ে একটি অস্বচ্ছ সংস্কৃতি বজায় রয়েছে। স্বচ্ছতা ছাড়া জবাবদিহিতা সম্ভব নয়, আর জবাবদিহিতা ছাড়া সংস্কার কেবল কাগুজে প্রতিশ্রুতি।
৩.৪ কার্যকর প্রতিকারের অনুপস্থিতি
যদি কোনো নাগরিক বেআইনি নজরদারির শিকার হন, তার জন্য কার্যকর প্রতিকারের (effective remedy) কোনো স্বাধীন ব্যবস্থা নেই। অভিযোগ জানানোর জায়গা, তদন্তের স্বাধীনতা এবং ক্ষতিপূরণের বিধান — সবই অনুপস্থিত। এটি ICCPR-এর ২(৩) অনুচ্ছেদের সুস্পষ্ট লঙ্ঘন।
৪. মানবাধিকারের আলোকে
৪.১ গোপনীয়তার অধিকার (সংবিধান ৪৩, ICCPR ১৭)
বাংলাদেশ সংবিধানের ৪৩ অনুচ্ছেদ চিঠিপত্র ও যোগাযোগের গোপনীয়তা নিশ্চিত করে, এবং ICCPR-এর ১৭ অনুচ্ছেদ নির্বিচারে বা বেআইনি হস্তক্ষেপ থেকে সুরক্ষা দেয়। ব্যাপক, লক্ষ্যহীন (mass, untargeted) ইন্টারসেপশন এই অধিকারের মূল বক্তব্যের পরিপন্থী, কারণ এটি বৈধতা, প্রয়োজনীয়তা ও আনুপাতিকতা (legality, necessity, proportionality)-র ত্রিমাত্রিক পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হয় না।
৪.২ মতপ্রকাশ ও সমাবেশের স্বাধীনতা (৩৯, ICCPR ১৯)
যখন সাংবাদিক, মানবাধিকারকর্মী, আইনজীবী এবং বিরোধী রাজনৈতিক কর্মীরা জানেন যে তাদের ফোন, মেসেজ বা অবস্থান নজরদারির আওতায়, তখন আত্ম-সেন্সরশিপ অনিবার্য হয়ে ওঠে। সংবিধানের ৩৯ অনুচ্ছেদ এবং ICCPR ১৯ অনুচ্ছেদে সুরক্ষিত মতপ্রকাশের অধিকার তখন কাগজে থাকে, বাস্তবে নয়।
৪.৩ শীতল প্রভাব (Chilling Effect)
জাতিসংঘের বিভিন্ন বিশেষ র্যাপোর্টিয়ার বারবার বলেছেন, ব্যাপক নজরদারি একটি শীতল প্রভাব তৈরি করে — মানুষ প্রতিবাদ, অনুসন্ধানী সাংবাদিকতা বা নাগরিক সংগঠন থেকে সরে আসে। রূপান্তর-পরবর্তী বাংলাদেশে, যেখানে নাগরিক পরিসর (civic space) পুনরুদ্ধারের কথা বলা হচ্ছে, এই শীতল প্রভাব গণতান্ত্রিক পুনর্গঠনকেই বাধাগ্রস্ত করবে।
৪.৪ গুমের সাথে সম্পর্ক
OHCHR ফ্যাক্ট-ফাইন্ডিং রিপোর্টে দেখানো হয়েছে, নজরদারি থেকে প্রাপ্ত তথ্য কীভাবে টার্গেট শনাক্তকরণ, অপহরণ এবং গুমের অপারেশনাল ভিত্তি হিসেবে ব্যবহৃত হয়েছে। তাই নজরদারি সংস্কার ছাড়া গুমের পুনরাবৃত্তি রোধ এবং ভুক্তভোগীদের ন্যায়বিচার নিশ্চিত করা সম্ভব নয়। এটি কেবল প্রযুক্তিগত সংস্কার নয়, এটি অতীতের গুরুতর লঙ্ঘনের পুনরাবৃত্তি রোধের (guarantee of non-recurrence) প্রশ্ন।
৫. ছয়টি সুপারিশের মূল্যায়ন
ASA 13/1357/2026 যৌথ বিবৃতিতে উত্থাপিত ছয়টি সুপারিশ বাংলাদেশের প্রেক্ষাপটে অত্যন্ত প্রাসঙ্গিক এবং আন্তর্জাতিক মানদণ্ডের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ:
- স্বাধীন তদন্ত কমিশন গঠন ও প্রতিবেদন প্রকাশ: ১০ ফেব্রুয়ারি ২০২৬-এর উচ্চ ক্ষমতাসম্পন্ন কমিটির প্রতিবেদনসহ বিগত দশকের নজরদারি অপব্যবহারের পূর্ণাঙ্গ, স্বাধীন ও স্বচ্ছ তদন্ত করতে হবে। তদন্তের ম্যান্ডেট, সদস্য নির্বাচন এবং প্রতিবেদন প্রকাশ — সব ক্ষেত্রে স্বচ্ছতা নিশ্চিত করতে হবে। ভুক্তভোগীদের অংশগ্রহণ ও সুরক্ষা বাধ্যতামূলক।
- নতুন প্রাথমিক আইন প্রণয়ন — বৈধতা, প্রয়োজনীয়তা, আনুপাতিকতা: ইন্টারসেপশন ও নজরদারির জন্য একটি সুনির্দিষ্ট, সংসদে গৃহীত প্রাথমিক আইন (primary legislation) প্রয়োজন, যা নির্বাহী আদেশ বা অস্পষ্ট বিধির উপর নির্ভরশীল হবে না। আইনে প্রতিটি হস্তক্ষেপের জন্য বৈধতা, কঠোর প্রয়োজনীয়তা এবং আনুপাতিকতার পরীক্ষা বাধ্যতামূলক করতে হবে।
- ক্রয় নিয়ন্ত্রণ ও মানবাধিকার Due Diligence: নজরদারি প্রযুক্তি ক্রয়ের আগে বাধ্যতামূলক মানবাধিকার ঝুঁকি মূল্যায়ন, স্বাধীন অনুমোদন এবং সংসদীয় তদারকি চালু করতে হবে। সরবরাহকারী কোম্পানির মানবাধিকার রেকর্ড, প্রযুক্তির অপব্যবহারের ইতিহাস এবং শেষ-ব্যবহারকারীর সুরক্ষা ব্যবস্থা যাচাই করতে হবে।
- বিচারিক পূর্বানুমোদন (Judicial Prior Authorization): যেকোনো ইন্টারসেপশন, মেটাডেটা সংগ্রহ বা ডিভাইস হ্যাকিংয়ের জন্য স্বাধীন বিচারকের পূর্বানুমোদন বাধ্যতামূলক করতে হবে। জরুরি ক্ষেত্রে ব্যতিক্রম থাকলেও, ৪৮-৭২ ঘণ্টার মধ্যে বিচারিক পর্যালোচনা (ex post judicial review) নিশ্চিত করতে হবে।
- স্বাধীন সংসদীয় তদারকি ব্যবস্থা: নিরাপত্তা ও গোয়েন্দা সংস্থাগুলোর নজরদারি কার্যক্রম তদারকির জন্য একটি বিশেষায়িত, বিরোধী দলের প্রতিনিধিত্বসহ স্বাধীন সংসদীয় কমিটি গঠন করতে হবে। এই কমিটির কাছে নিয়মিত প্রতিবেদন দাখিল, বাজেট পর্যালোচনা এবং অভিযোগ তদন্তের ক্ষমতা থাকতে হবে।
- PDPA-তে সংকীর্ণ ছাড় ও সুরক্ষা ব্যবস্থা: ব্যক্তিগত তথ্য সুরক্ষা আইনে রাষ্ট্রীয় ছাড়গুলোকে সংকীর্ণ, সুনির্দিষ্ট ও প্রয়োজনভিত্তিক করতে হবে। প্রতিটি ছাড়ের জন্য স্বাধীন তদারকি, বিচারিক পর্যালোচনা এবং তথ্য সুরক্ষা কর্তৃপক্ষের (DPA) পূর্বানুমোদন বাধ্যতামূলক করতে হবে। জাতীয় নিরাপত্তার অস্পষ্ট অজুহাতে ব্যাপক ছাড় গ্রহণযোগ্য নয়।
৬. উপসংহার
বাংলাদেশ আজ এক ঐতিহাসিক সন্ধিক্ষণে দাঁড়িয়ে। ফেব্রুয়ারি ২০২৬-এর গণতান্ত্রিক রূপান্তর কেবল একটি সরকার পরিবর্তন নয়, এটি একটি প্রাতিষ্ঠানিক পুনর্গঠনের সুযোগ। কিন্তু এই সুযোগ তখনই অর্থবহ হবে, যখন প্রোথিত নজরদারি কাঠামোকে ভেঙে ফেলে তার জায়গায় আইনের শাসন ও মানবাধিকার-ভিত্তিক একটি নতুন কাঠামো গড়ে তোলা হবে।
ASA 13/1357/2026 যৌথ বিবৃতি কেবল একটি সমালোচনা নয়, এটি একটি রোডম্যাপ। এর ছয় দফা সুপারিশ বাস্তবায়ন করলে বাংলাদেশ প্রমাণ করতে পারবে যে নিরাপত্তা ও অধিকার পরস্পরবিরোধী নয়, বরং পারস্পরিক পরিপূরক (mutually reinforcing)। নিরাপত্তা তখনই টেকসই হয়, যখন তা জনগণের আস্থা, স্বচ্ছতা এবং জবাবদিহিতার উপর দাঁড়িয়ে থাকে।
বিএনপি সরকারের ‘বাংলাদেশ বিফোর অল’ অঙ্গীকারের প্রকৃত পরীক্ষা এখন। উচ্চ ক্ষমতাসম্পন্ন কমিটির প্রতিবেদন প্রকাশ, BTR আইনের ৯৭ক ধারার সংস্কার, NTMC-কে সংবিধিবদ্ধ জবাবদিহিতার আওতায় আনা, এবং PDPA-তে স্বাধীন তদারকি নিশ্চিত করা — এই পদক্ষেপগুলোই নির্ধারণ করবে বাংলাদেশ কি অতীতের নজরদারি রাষ্ট্র থেকে বেরিয়ে একটি গণতান্ত্রিক, অধিকার-ভিত্তিক রাষ্ট্রে পরিণত হতে পারবে কি না।
নিরাপত্তা ও মানবাধিকার — একটি বেছে নিতে হবে না। উভয়কেই একসাথে নিশ্চিত করাই আইনের শাসনের মূল কথা।
CC: জনাব সালাহউদ্দিন আহমেদ, মাননীয় আইন উপদেষ্টা | জনাব মো. আসাদুজ্জামান, সচিব, ডাক ও টেলিযোগাযোগ বিভাগ
Signed by — যৌথ বিবৃতি ASA 13/1357/2026:
১. Amnesty International
২. Tech Global Institute
৩. Human Rights Watch
৪. ARTICLE 19
৫. Access Now
৬. CIVICUS
৭. Front Line Defenders
৮. Robert F. Kennedy Human Rights
• Amnesty International – Joint Statement ASA 13/1357/2026 (Official): amnesty.org/en/documents/asa13/1357/2026
• Tech Global Institute – Surveillance Procurement Database & Bangladesh Brief: techglobalinstitute.com
• UN OHCHR Fact-Finding Report on Bangladesh (July-Aug 2024): ohchr.org – Bangladesh
• The Daily Star – Investigative Reports on NTMC Procurement (2016-2024)
Minhaz Samad Chowdhury — স্বাধীন মানবাধিকার কর্মী ও গবেষক। আইনের শাসন, নজরদারি ও ডিজিটাল অধিকার নিয়ে কাজ করেন। তিনি বাংলাদেশের গুম, বিচারবহির্ভূত হত্যা এবং ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনের অপব্যবহার নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে নথিভুক্তকরণ ও অ্যাডভোকেসি করে আসছেন। মতামত লেখকের নিজস্ব।

No comments:
Post a Comment
Please validate CAPTCHA