Skip to main content
Breaking NewsDeveloping public-interest story

Latest

Wednesday, August 5, 2026

Reading time

বিশ্ব জয়ের নায়করা: ভারতীয় মেধার উত্থান আর আমাদের কী শেখার আছে?

বিশ্ব জয়ের নায়করা: ভারতীয় মেধার উত্থান আর আমাদের কী শেখার আছে?

বিশ্ব জয়ের নায়করা: ভারতীয় মেধার উত্থান আর আমাদের কী শেখার আছে?

গুগল, মাইক্রোসফট, ইউটিউব, শ্যানেল—যাঁরা নেতৃত্ব দিচ্ছেন, তাঁদের গল্প শুধু তাঁদের নয়, এটা বাংলাদেশি তরুণদের জন্যও এক বিশাল সম্ভাবনার জানালা
লেখক: Minhaz Samad Chowdhury প্রকাশ: ৫ আগস্ট ২০২৬ সর্বশেষ হালনাগাদ: ৫ আগস্ট ২০২৬
শুরু থেকেই স্পষ্ট করে দিই: সুন্দর পিচাই, সত্য নাদেলা, অরবিন্দ কৃষ্ণ—এঁরা সবাই ভারতীয় বা ভারতীয় বংশোদ্ভূত। কিন্তু এঁদের সাফল্য কি শুধু ভারতের শিক্ষাব্যবস্থার জয়গান? নাকি এখানে আছে অভিবাসন, বিদেশি বিশ্ববিদ্যালয়, নেটওয়ার্ক আর ব্যক্তিগত দক্ষতার মিশেল? আর সবচেয়ে বড় কথা—ঢাকার ক্লাসরুমে বসে থাকা তুমি, কিংবা রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের কোনো শিক্ষার্থী, এই গল্প থেকে কী শিখতে পারো? এই নিবন্ধে আমরা সেভাবেই বিশ্লেষণ করেছি—বাংলাদেশি তরুণদের চোখে।
লেখক পরিচিতি: Minhaz Samad Chowdhury · Independent Human Rights Defender | Legal Researcher & Rule of Law Analyst | Bangladesh

🥇 এক ঝলকে যা বলছে নিবন্ধটি

বিশ্বের শীর্ষ সাতটি প্রতিষ্ঠানের নেতৃত্বে রয়েছেন ভারতীয় বংশোদ্ভূত সাতজন। কিন্তু তাঁদের সাফল্য কেবল ভারতের শিক্ষা বা জাতিগত মেধার ফল নয়—এখানে রয়েছে বিদেশি শিক্ষা, অভিবাসনের সুযোগ, বহুজাতিক কোম্পানিতে দীর্ঘ অভিজ্ঞতা এবং সঠিক সময়ে সঠিক সুযোগ। বাংলাদেশের তরুণদের জন্য শিক্ষণীয় হলো: শুধু পড়াশোনা নয়, যোগাযোগ দক্ষতা, আন্তর্জাতিক দৃষ্টিভঙ্গি, নেটওয়ার্ক এবং দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনাও সমান গুরুত্বপূর্ণ। আর হ্যাঁ, ব্যর্থতাকে ভয় না পেয়ে শেখার মানসিকতা থাকতে হবে।

🎯 পাঁচটি মূল বার্তা, যা তোমার কাজে লাগবে:
  1. শুধু নামী বিশ্ববিদ্যালয় নয়, দক্ষতাই আসল: সত্য নাদেলা আইআইটিতে ভর্তি হতে পারেননি, তবু আজ মাইক্রোসফটের সিইও।
  2. বিদেশি শিক্ষা সুযোগ বাড়ায়, কিন্তু তা একমাত্র পথ নয়: অজয় বাঙ্গা বিদেশে পড়েননি, তবু বিশ্বব্যাংকের প্রেসিডেন্ট।
  3. নেটওয়ার্ক ও অভিজ্ঞতা গড়তে সময় লাগে: এঁরা প্রত্যেকে ২০-৩০ বছর ধরে নিজের ক্ষেত্রে কাজ করেছেন।
  4. ইংরেজি শিখুন, কিন্তু নিজের ভাষায় দক্ষতাও রাখুন: আন্তর্জাতিক পরিমণ্ডলে ইংরেজি জরুরি, কিন্তু মাতৃভাষায় চিন্তা করার ক্ষমতাও কম গুরুত্বপূর্ণ নয়।
  5. বাংলাদেশে সুযোগ সীমিত, কিন্তু তোমার স্বপ্ন সীমিত নয়: অনলাইন কোর্স, স্কলারশিপ, ফ্রিল্যান্সিং—আজকের পৃথিবী তোমার জন্য উন্মুক্ত।

কথাটা কোথা থেকে শুরু করি?

তোমরা কি কখনো ভেবেছো, যে কোম্পানিগুলো তোমাদের প্রতিদিনের ফোন, ল্যাপটপ, ইউটিউব বা শ্যানেলের পারফিউম তৈরি করে—সেই কোম্পানিগুলোর বস কে? আশ্চর্যের বিষয়, গুগল, মাইক্রোসফট, আইবিএম, অ্যাডোবি, ইউটিউব, এমনকি শ্যানেল—এই সাতটি ভিন্ন ভিন্ন জগতের কোম্পানির শীর্ষ নেতৃত্বেই রয়েছেন ভারতীয় বা ভারতীয় বংশোদ্ভূত ব্যক্তি।

এখন প্রশ্ন হলো—এটা কি ভারতীয় শিক্ষাব্যবস্থার জয়জয়কার? নাকি এটা আসলে কাঠগড়ায় তুলছে ভারতীয় শিক্ষার সীমাবদ্ধতাকেও? আর সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ—ঢাকার মিরপুর, চট্টগ্রামের বোয়ালখালী, কিংবা রাজশাহীর কোনো কলেজে পড়ুয়া একজন বাংলাদেশি তরুণ বা তরুণী কী এই গল্প থেকে নিজের পথ খুঁজে পেতে পারেন? এই নিবন্ধে আমরা সেভাবেই বিশ্লেষণ করেছি—তোমাদের দৃষ্টিকোণ থেকে।

এক নজরে সাত নেতা

নাম জন্ম ও পরিচয় বর্তমান পদ ভারতে পড়াশোনা বিদেশে পড়াশোনা কী কী দক্ষতা কাজে লাগালেন
সুন্দর পিচাই ১৯৭২, চেন্নাই; ভারতীয় বংশোদ্ভূত মার্কিন নাগরিক গুগল ও অ্যালফাবেটের সিইও[reference:0][reference:1] আইআইটি খড়গপুর (বিটেক) স্ট্যানফোর্ড (এমএস), হোয়ার্টন (এমবিএ)[reference:2] প্রযুক্তি, এআই, বৈশ্বিক দৃষ্টি
সত্য নাদেলা ১৯৬৭, হায়দ্রাবাদ; ভারতীয় বংশোদ্ভূত মার্কিন নাগরিক মাইক্রোসফটের চেয়ারম্যান ও সিইও[reference:3] মণিপাল আইটি (বিই) উইসকনসিন (এমএস), শিকাগো (এমবিএ) রূপান্তরকারী নেতৃত্ব, সংস্কৃতি
অরবিন্দ কৃষ্ণ অন্ধ্রপ্রদেশ; ভারতীয় বংশোদ্ভূত আইবিএমের চেয়ারম্যান ও সিইও[reference:4] আইআইটি কানপুর (বিটেক) ইলিনয় (পিএইচডি) গবেষণা, কোয়ান্টাম প্রযুক্তি
শান্তনু নারায়েন ১৯৬৩, হায়দ্রাবাদ; ভারতীয় বংশোদ্ভূত অ্যাডোবির সিইও (পদত্যাগের ঘোষণা)[reference:5][reference:6] উসমানিয়া (বিই) বোলিং গ্রিন (এমএস), বার্কলি (এমবিএ) ক্লাউড রূপান্তর, কৌশল
অজয় বাঙ্গা পুনে; মার্কিন নাগরিক বিশ্বব্যাংক প্রেসিডেন্ট[reference:7][reference:8] সেন্ট স্টিফেন্স (বিএ), আইআইএম আহমেদাবাদ (এমবিএ) আর্থিক নীতি, উন্নয়ন
নীল মোহন ভারতীয়-আমেরিকান ইউটিউবের সিইও[reference:9] স্ট্যানফোর্ড (বিএস, এমবিএ) পণ্য উদ্ভাবন, প্ল্যাটফর্ম স্কেলিং
লীনা নায়ার কোলহাপুর; ভারতীয় বংশোদ্ভূত ব্রিটিশ নির্বাহী শ্যানেলের গ্লোবাল সিইও[reference:10][reference:11] ওয়ালচান্ড (বিই), এক্সএলআরি (এমবিএ) মানবসম্পদ, সংস্কৃতি পরিবর্তন

📅 ২০২৬ সালের আগস্ট পর্যন্ত যাচাইকৃত তথ্য।

তাঁদের গল্প—আমাদের শেখার জন্য

🚀 সুন্দর পিচাই: আইআইটি থেকে গুগলের সিংহাসন

চেন্নাইয়ের এক সাধারণ পরিবারে বেড়ে ওঠা সুন্দর পিচাই আইআইটি খড়গপুর থেকে ইঞ্জিনিয়ারিং শেষ করেন। স্ট্যানফোর্ড ও হোয়ার্টনে পড়াশোনা করেন[reference:12]। গুগলে যোগ দিয়ে ২০১৫ সালে সিইও হন[reference:13]। ২০২৬ সালের জুনে অ্যালফাবেটের বিনিয়োগকারী সম্মেলনে তিনি এআই-কে “আমাদের জীবনের সবচেয়ে গভীর প্ল্যাটফর্ম পরিবর্তন” হিসেবে অভিহিত করেন[reference:14]। তাঁর নেতৃত্বে গুগল এআই-কেন্দ্রিক কোম্পানিতে রূপান্তরিত হয়েছে, যেখানে ২০২৬ সালে ক্যাপেক্স বিনিয়োগ ১৮০-১৯০ বিলিয়ন ডলারে পৌঁছেছে[reference:15]। তবে সমালোচনাও আছে—কেউ বলেন তিনি অনেক সময় সিদ্ধান্ত নিতে ধীর। শিক্ষা: প্রযুক্তিগত দক্ষতা যতটা জরুরি, ততটাই জরুরি সঠিক সময়ে সঠিক সিদ্ধান্ত নেওয়ার সাহস।

💡 সত্য নাদেলা: আইআইটি-তে ফেল, তবু মাইক্রোসফটের বস

হায়দ্রাবাদের সত্য নাদেলা আইআইটিতে ভর্তি হতে পারেননি, পড়েছেন মণিপালে। কিন্তু তাঁর গ্রোথ মাইন্ডসেট দর্শন আজ মাইক্রোসফটকে নতুন উচ্চতায় নিয়ে গেছে। ২০২৬ সালের জুনে তিনি এআই শিল্পে ক্ষমতার কেন্দ্রীভূত হওয়ার বিরুদ্ধে সতর্ক করে বলেন, “আমাদের অগ্রাধিকার হতে হবে একটি ফ্রন্টিয়ার ইকোসিস্টেম তৈরি করা, শুধু একটি ফ্রন্টিয়ার মডেল নয়”[reference:16]। শিক্ষা: নামী বিশ্ববিদ্যালয় না হলেও চলে, যদি সঠিক মানসিকতা আর অভিযোজন ক্ষমতা থাকে।

🔬 অরবিন্দ কৃষ্ণ: গবেষণায় ডুবে থাকা এক প্রকৌশলী

আইআইটি কানপুর থেকে পিএইচডি করতে ইলিনয় যান। আইবিএম-এ ৩০ বছর ধরে গবেষণা ও ক্লাউড প্রযুক্তি নিয়ে কাজ করেছেন। ২০২৬ সালের আগস্টে তিনি কোয়ান্টাম কম্পিউটিং নিয়ে বলেছেন, “২০২৮ বা ২০২৯ সালের মধ্যে এটি আমাদের টপলাইন ও বটমলাইনে পরিমাপযোগ্য প্রভাব ফেলবে”[reference:17]। শিক্ষা: দীর্ঘমেয়াদি গবেষণা ও ধৈর্য বড় সাফল্য এনে দেয়।

🎨 শান্তনু নারায়েন: অ্যাডোবিকে পাল্টে দেওয়া সেই মানুষ

উসমানিয়া বিশ্ববিদ্যালয় থেকে বেরিয়ে বার্কলিতে এমবিএ করেন। অ্যাডোবিকে বক্সড সফটওয়্যার থেকে ক্লাউড সাবস্ক্রিপশনে রূপান্তরিত করেন। ২০২৬ সালের মার্চে ১৮ বছর পর তিনি সিইও পদ থেকে সরে দাঁড়ানোর ঘোষণা দেন[reference:18]। তাঁর নেতৃত্বে অ্যাডোবির রাজস্ব ১ বিলিয়ন ডলার থেকে ২৫ বিলিয়ন ডলারে উন্নীত হয়[reference:19]। শিক্ষা: পুরোনো ধারণা ভেঙে নতুন মডেল তৈরি করতে হয়।

🌍 অজয় বাঙ্গা: বিদেশি ডিগ্রি ছাড়াই বিশ্বব্যাংকের প্রেসিডেন্ট

আইআইএম আহমেদাবাদ থেকে এমবিএ, কিন্তু বিদেশে পড়াশোনা করেননি। মাস্টারকার্ডের সিইও থেকে ২০২৩ সালের ২ জুন বিশ্বব্যাংকের ১৪তম প্রেসিডেন্ট হন[reference:20]। তাঁর লক্ষ্য—৩০ কোটি আফ্রিকানকে বিদ্যুৎ সংযোগ এবং ১৫০ কোটি মানুষকে স্বাস্থ্যসেবার আওতায় আনা[reference:21]। শিক্ষা: বিদেশি ডিগ্রি না থাকলেও অভিজ্ঞতা ও দক্ষতা থাকলে বিশ্বমানের নেতা হওয়া যায়।

📹 নীল মোহন: ইউটিউবের যুবা সিইও

স্ট্যানফোর্ডে পড়েছেন, ডাবলক্লিক ও গুগলে কাজ করেছেন। ২০২৩ সালের ফেব্রুয়ারি থেকে ইউটিউবের সিইও[reference:22]। ২০২৬ সালে ইউটিউব শর্টস দৈনিক ২০০ বিলিয়ন ভিউ পাচ্ছে[reference:23]। শিক্ষা: প্রযুক্তি আর বাণিজ্য—দুই জগতেই দক্ষতা প্রয়োজন।

👗 লীনা নায়ার: শ্যানেলের প্রথম রঙিন নারী সিইও

এক্সএলআরি থেকে এমবিএ, ইউনিলিভারে ৩০ বছর। এইচআর বিশেষজ্ঞ থেকে ২০২২ সালের জানুয়ারিতে শ্যানেলের সিইও হন[reference:24]। ২০২৬ সালে শ্যানেলের প্রথমার্ধের রাজস্ব ১৬% বৃদ্ধি পায়[reference:25][reference:26]। শিক্ষা: নিজের ক্ষেত্রের বাইরে গিয়ে নতুন শিল্পেও নেতৃত্ব দেওয়া যায়।

এই সাতজনে কী মিল আছে?

  • মৌলিক শিক্ষায় ছিলেন শক্ত: প্রকৌশল বা অর্থনীতিতে স্নাতক, যা বিশ্লেষণী চিন্তা তৈরি করেছে।
  • ইংরেজিতে দক্ষ: ভারতীয় ইংরেজি মাধ্যম স্কুল তাঁদের আন্তর্জাতিক পরিমণ্ডলে এগিয়ে রেখেছে।
  • বিদেশি শিক্ষা/অভিজ্ঞতা: প্রায় সবাই বিদেশে উচ্চশিক্ষা অথবা দীর্ঘ সময় কাজ করেছেন।
  • প্রবাসী নেটওয়ার্ক: সিলিকন ভ্যালি বা লন্ডনের ভারতীয় কমিউনিটি তাঁদের সহায়তা করেছে।
  • দীর্ঘ মেয়াদ: প্রত্যেকেই ২০ বছরের বেশি একই কোম্পানিতে ছিলেন।
  • সংকটে স্থির: শিল্প পরিবর্তন, মহামারি, নতুন টেকনোলজি—সব মোকাবিলা করেছেন।

ভারতীয় শিক্ষা কতটা কাজে দিয়েছে?

আইআইটি, আইআইএম, উসমানিয়া—এগুলো তাদের ভিত গড়ে দিয়েছে। ভারতীয় শিক্ষাব্যবস্থায় গণিত, বিজ্ঞান ও ইংরেজিতে জোর দেওয়া হয়, যা আন্তর্জাতিক পরীক্ষায় ভালো করে। কিন্তু সীমাবদ্ধতাও আছে: গবেষণায় বিনিয়োগ কম, গ্রাম-শহর বৈষম্য, শুধু পরীক্ষামুখী শিক্ষা—এসব সমস্যা ভারতেরও, বাংলাদেশেরও।

বিদেশি বিশ্ববিদ্যালয়: স্ট্যানফোর্ড, ইলিনয়, বার্কলি—এখানে পড়া তাদের গবেষণার মান, নেটওয়ার্ক ও কর্মসংস্থানের সুযোগ বাড়িয়েছে। অনেকের জন্য এটি ছিল ‘গেম চেঞ্জার’।

শুধু মেধা নয়, সুযোগও বড় কথা

এই সাতজন সফল হয়েছেন কারণ তাঁরা সঠিক সময়ে সঠিক জায়গায় ছিলেন। যুক্তরাষ্ট্রের অভিবাসন নীতি, সিলিকন ভ্যালির উদারতা, ভারতীয় প্রবাসীদের নেটওয়ার্ক—এসব ছাড়া হয়তো তাঁদের এতটা এগিয়ে আসা কঠিন ছিল। বাংলাদেশের তরুণদের জন্য এটা মেনে নেওয়া জরুরি যে—সুযোগের অভাব তোমার দোষ নয়, কিন্তু সুযোগ তৈরি করার চেষ্টা তোমার কর্তব্য।

তবে কি তাঁরা নিখুঁত?

এঁদের প্রত্যেকের বিরুদ্ধেই সমালোচনা আছে। পিচাইকে অনেকেই বলেন ‘ধীর’, নাদেলাকে ‘কঠোর’ বলা হয়, কৃষ্ণের আইবিএম আয় কমেছে[reference:27], নারায়েনের সাবস্ক্রিপশন মডেল গ্রাহকদের বিরক্ত করেছে, বাঙ্গার জলবায়ু প্রতিশ্রুতি নিয়ে প্রশ্ন আছে—মানে, নেতা হয়েও তাঁরা ভুল করেন। শিক্ষা: নিখুঁত হতে হবে না, কিন্তু ভুল থেকে শিখতে হবে।

বাংলাদেশি তরুণ-তরুণী, কী নেবে এই গল্প থেকে?

🇧🇩 বাংলাদেশি প্রেক্ষাপটে দশটি প্রস্তাব:
  1. শুধু বুয়েট-ঢাবি নয়: সারা দেশে মানসম্মত শিক্ষা নিশ্চিত করতে হবে।
  2. গবেষণায় বিনিয়োগ বাড়াও: বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে রিসার্চ ল্যাব তৈরি করো।
  3. ইংরেজি চর্চা করো: আন্তর্জাতিক পরিমণ্ডলে কথা বলতে গেলে ইংরেজি দরকার।
  4. প্রযুক্তি ও ব্যবসা—দুই শিখো: শুধু কোডিং জানলে হবে না, মার্কেটিংও বুঝতে হবে।
  5. ইন্টার্নশিপ ও শিল্প সংযোগ: বিশ্ববিদ্যালয়-শিল্প সম্পর্ক জোরদার করো।
  6. প্রবাসী বাংলাদেশিদের সঙ্গে যোগাযোগ করো: তাঁরা তোমাদের জন্য সেতুবন্ধন তৈরি করতে পারেন।
  7. মেয়েরা পিছিয়ে পড়বে না: শিক্ষা ও নেতৃত্বে নারীদের অংশগ্রহণ বাড়াতে হবে।
  8. শুধু বিদেশ নয়, দেশেও গবেষণার সুযোগ তৈরি করো: উল্টো বিশ্বের শিক্ষার্থীরা যেন বাংলাদেশে আসতে চায়।
  9. নৈতিকতা ও জবাবদিহিতা: শুধু সফল হলেই নয়, ভালো মানুষও হতে হবে।
  10. দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা: ৫ বছরের লক্ষ্য নয়, ২০ বছরের পথ দেখো।

তোমাদের জন্য শেষ কথা

ভাই-বোন, এই সাতজন নেতা কিন্তু রাতারাতি বড় হননি। সুন্দর পিচাই ২০০৪ সালে গুগলে যোগ দিয়েছিলেন, সিইও হয়েছেন ২০১৫ সালে[reference:28]—মানে ১১ বছর লেগেছে। সত্য নাদেলাও ২২ বছর মাইক্রোসফটে ছিলেন সিইও হওয়ার আগে।

তাই আজ যদি তুমি কোনো টিউটোরিয়াল দেখে বুঝতে না পারো, যদি কোডিং এগজামে ফেল করো, যদি কেউ বলে ‘তোমার দ্বারা হবে না’—তোমার ভয় পাবার কিছু নেই। ব্যর্থতা যেন তোমাকে থামাতে না পারে। যোগাযোগ শিখো, ইংরেজি চর্চা করো, অনলাইন কোর্স করো, প্রবাসীদের সঙ্গে কথা বলো, আর হ্যাঁ—বাংলা ভাষায়ও গভীরভাবে চিন্তা করতে শেখো। কারণ, আন্তর্জাতিক নেতৃত্বের জন্য দরকার নিজের সংস্কৃতি বোঝা, আর সেখান থেকে বৈশ্বিক দৃষ্টিভঙ্গি তৈরি করা।

মনে রাখো: বিশ্বের দরজা এখন খোলা। তোমার অবস্থান যাই হোক, যদি দক্ষ হও, যদি নেটওয়ার্ক গড়ো, যদি নিজের উপর বিশ্বাস রাখো—তাহলে তুমিও একদিন হতে পারো সেই ভারতীয় নেতাদের মতো, হয়তো বাংলাদেশি হিসেবে নিজের দেশের পতাকাও উড়াতে পারো।

শেষ পর্যন্ত কী বলছি?

এই সাতজন নেতা ভারতীয় শিক্ষার সাফল্যের পাশাপাশি বিদেশি শিক্ষা, অভিবাসন, নেটওয়ার্ক ও দীর্ঘ অভিজ্ঞতার মিশেল। তাঁদের সাফল্য দেখে আমরা গর্ব করতে পারি, কিন্তু এটা ভুলে গেলে চলবে না যে—শুধু কয়েকজনের সাফল্যে গোটা দেশ বা শিক্ষাব্যবস্থার মান নির্ধারণ হয় না।

বাংলাদেশের জন্য প্রকৃত চ্যালেঞ্জ হলো এমন একটি শিক্ষা ও গবেষণা পরিবেশ তৈরি করা, যেখানে বিশ্বের যে কেউ আসতে চায়। আর তোমাদের জন্য চ্যালেঞ্জ হলো—সেই পরিবর্তনের অংশ হওয়া।

✅ তথ্য যাচাই সারণি:
  • সুন্দর পিচাই: ২০২৬ সালের জুন পর্যন্ত গুগল ও অ্যালফাবেটের সিইও[reference:29]।
  • সত্য নাদেলা: ২০২৬ সাল পর্যন্ত মাইক্রোসফটের চেয়ারম্যান ও সিইও[reference:30]।
  • অরবিন্দ কৃষ্ণ: ২০২৬ সাল পর্যন্ত আইবিএমের চেয়ারম্যান ও সিইও[reference:31]।
  • শান্তনু নারায়েন: ২০২৬ সালের মার্চে সিইও পদ থেকে সরে দাঁড়ানোর ঘোষণা[reference:32]।
  • অজয় বাঙ্গা: ২০২৩ সালের ২ জুন বিশ্বব্যাংকের ১৪তম প্রেসিডেন্ট[reference:33]।
  • নীল মোহন: ২০২৩ সালের ফেব্রুয়ারি থেকে ইউটিউবের সিইও[reference:34]।
  • লীনা নায়ার: ২০২২ সালের জানুয়ারি থেকে শ্যানেলের গ্লোবাল সিইও[reference:35]।

⚠️ সতর্কতা: সব তথ্য ২০২৬ সালের আগস্ট পর্যন্ত যাচাইকৃত। কোনো তথ্য নিশ্চিত না হলে তা উল্লেখ করা হয়নি।

No comments:

Post a Comment

Please validate CAPTCHA