Skip to main content
Breaking NewsDeveloping public-interest story

Latest

Wednesday, September 16, 2026

Reading time

দুই বছর কারাবাসের পর রাষ্ট্রকে জিজ্ঞেস করতে হবে — বিচার চলছিল, নাকি কারাগারে রাখার পথ খোঁজা হচ্ছিল?

 

আইন, মানবাধিকার ও ন্যায়বিচার

চিন্ময় কৃষ্ণ দাস: পতাকা থেকে কারাগার, এবং ন্যায়বিচারের প্রশ্ন

প্রায় দুই বছর কারাবাসের পর রাষ্ট্রকে জিজ্ঞেস করতে হবে — বিচার চলছিল, নাকি কারাগারে রাখার পথ খোঁজা হচ্ছিল?

মিনহাজ সামাদ চৌধুরীমানবাধিকার কর্মী১১–১৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬
মামলার তথ্য — মিডিয়া রিপোর্ট অনুযায়ী
কোতোয়ালী থানা মামলা - রাষ্ট্রদ্রোহ
৩১ অক্টোবর ২০২৪, ধারা ১২৪এ (দণ্ডবিধি)
বাদী: ফিরোজ খান, চট্টগ্রাম কোতোয়ালী থানা। অভিযোগ: জাতীয় পতাকা অবমাননা। Exact PS Case No. pending certified copy — সূত্র: Prothom Alo / TBS।
কোতোয়ালী থানা মামলা - আলিফ হত্যা
২৬ নভেম্বর ২০২৪, ধারা ৩০২/১০৯ — চট্টগ্রাম বিভাগীয় দ্রুত বিচার ট্রাইব্যুনাল
চার্জ গঠন: ১৯ জানুয়ারি ২০২৬, ৩৯ জন। Exact PS Case No. pending certified copy — সূত্র: The Daily Star Jan 19, 2026।
ডিসক্লেইমার / LEGAL DISCLAIMER

ডিসক্লেইমার: এই প্রবন্ধ কোনো সহিংসতাকে সমর্থন করে না, আলিফ হত্যা মামলার গুণাগুণ নিয়ে পূর্ব-মন্তব্য করে না। এটি সংবিধানের ২৭, ৩১, ৩২, ৩৩, ৩৫ ও ৩৯ অনুচ্ছেদ এবং CrPC ৪৯৭/৪৯৮ আলোকে জামিন, প্যারোল ও প্রক্রিয়াগত ন্যায়বিচারের প্রশ্ন তোলে। সকল তথ্য প্রকাশিত সংবাদ প্রতিবেদন নির্ভর, পূর্ণাঙ্গ আদালত নথি সাপেক্ষে যাচাইযোগ্য।

অভিযোগ ≠ অপরাধ
FIR হলো অভিযোগের শুরু, প্রমাণ নয়।
চার্জশিট ≠ প্রমাণ
চার্জশিট রাষ্ট্রের দাবি, আদালতের রায় নয়।
আসামি ≠ অপরাধী
সংবিধান: নির্দোষ ধরে নিতে হবে, প্রমাণ না হওয়া পর্যন্ত। অনু: ৩৫(৩)
আন্তর্জাতিক মান:
ICCPR অনুচ্ছেদ ৯(৩) — “বিচারের অপেক্ষায় আটক সাধারণ নিয়ম হবে না। জামিনের বিধান থাকবে, এবং মুক্তি শর্তসাপেক্ষ হতে পারে।” বাংলাদেশ ICCPR অনুসমর্থনকারী রাষ্ট্র।

এই লেখাটি কোনো ব্যক্তির পক্ষে ওকালতি নয়, কোনো ধর্ম বা দলের বিপক্ষেও নয়। এটি রাষ্ট্রের কাছে একটি সোজা প্রশ্ন — একজন নাগরিক, যার বিরুদ্ধে পতাকা অবমাননার অভিযোগ আনা হয়েছিল, তিনি কীভাবে প্রায় দুই বছর ধরে কারাগারে? যদি অপরাধ প্রমাণিত হয়, আদালত শাস্তি দিক। কিন্তু বিচার চলাকালে কারাগারকে শাস্তি বানিয়ে ফেলা — এটাই কি আইনের শাসন?

০১

শুরুটা একটি পতাকা দিয়ে

৫ আগস্ট ২০২৪-এর রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর দেশজুড়ে সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের ওপর হামলা, মন্দির ভাঙচুর, বাড়িঘরে অগ্নিসংযোগের খবর আসতে থাকে। এই প্রেক্ষাপটে চট্টগ্রামসহ বিভিন্ন জেলায় সনাতনী সম্প্রদায় ৮ দফা দাবি নিয়ে মাঠে নামে — নিরাপত্তা, ক্ষতিপূরণ, দ্রুত বিচার, এবং বৈষম্য বিলোপ আইনের দাবি।

এই আন্দোলনের মুখ হয়ে ওঠেন চিন্ময় কৃষ্ণ দাস, যিনি তখন সম্মিলিত সনাতনী জাগরণ জোটের মুখপাত্র। ২৫ অক্টোবর ২০২৪, চট্টগ্রামের লালদীঘি ময়দানে লাখো মানুষের সমাবেশ। সেখানেই বিতর্ক — অভিযোগ ওঠে, জাতীয় পতাকার ওপরে গেরুয়া পতাকা উত্তোলন করা হয়েছে। এই অভিযোগের ভিত্তিতে ৩১ অক্টোবর ২০২৪ চট্টগ্রামের কোতোয়ালী থানায় মামলা করেন বিএনপি নেতা ফিরোজ খান। ধারা — দণ্ডবিধির ১২৪এ (রাষ্ট্রদ্রোহ)।

প্রশ্ন থেকে যায়: একটি সমাবেশে পতাকা উত্তোলনের বিতর্ক — যদি হয়েও থাকে — তা কি রাষ্ট্রের বিরুদ্ধে যুদ্ধ ঘোষণার সমান? ১২৪এ ধারা ব্রিটিশ আমলের, যা দিয়ে তিলক-গান্ধীকে জেলে নেওয়া হয়েছিল। স্বাধীন বাংলাদেশে এই ধারার প্রয়োগ সংযত হওয়া উচিত — বিশেষত যখন জাতীয় পতাকা বিধিমালা, ১৯৭২ আলাদা লঙ্ঘনের বিধান রাখে।

০২

গ্রেপ্তার ও প্রথম পাঁচ মাস

২৫ নভেম্বর ২০২৪, ঢাকা শাহজালাল বিমানবন্দর থেকে চিন্ময় কৃষ্ণ দাসকে গ্রেপ্তার করে ডিবি পুলিশ। তাকে দ্রুত চট্টগ্রামে নেওয়া হয়। পরদিন চট্টগ্রাম মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে জামিন আবেদন করা হলে তা নামঞ্জুর হয়।

এরপর পাঁচ মাস — বারবার জামিন আবেদন, বারবার নামঞ্জুর। এই পাঁচ মাসে তিনি কারাগারেই ছিলেন, কোনো বিচার শুরু হয়নি, কোনো সাক্ষ্য গ্রহণ হয়নি। কারাগার হয়ে উঠল বিচারের আগেই শাস্তি। সংবিধানের ৩৩(২) ও CrPC ৬১ অনুযায়ী ২৪ ঘণ্টার মধ্যে ম্যাজিস্ট্রেটের সামনে হাজির করা হলেও, জামিনের প্রশ্নে দীর্ঘ আটক নিজেই একটি সাংবিধানিক প্রশ্ন।

“জামিন ব্যতিক্রম নয়, জামিনই নিয়ম।কারাগার ব্যতিক্রম।”

— 49 DLR (AD) 26 - বাংলাদেশ সুপ্রিম কোর্টে উদ্ধৃত নীতি, ICCPR ৯(৩)-এর প্রতিধ্বনি
০৩

হাইকোর্ট কী বলল?

৩০ এপ্রিল ২০২৫। প্রায় পাঁচ মাস কারাবাসের পর হাইকোর্ট ডিভিশন জামিন মঞ্জুর করে। এই বিষয়ে আইনি সতর্কতা জরুরি —

হাইকোর্টের পর্যবেক্ষণ — মিডিয়া ব্রিফিং অনুসারে (পূর্ণাঙ্গ আদেশ সাপেক্ষে যাচাইযোগ্য)

প্রতিরক্ষা পক্ষের ভাষ্য অনুযায়ী এবং The Daily Star-এ প্রকাশিত ব্রিফিং অনুসারে, হাইকোর্টের দুই বিচারপতির বেঞ্চ (বিচারপতি মো. আতোয়ার রহমান ও বিচারপতি মো. আলী রেজা) পর্যবেক্ষণ দেন যে এজাহারে অভিযুক্তের নিজ হাতে পতাকা তোলার বা ঘটনাস্থলে উপস্থিত থাকার সুনির্দিষ্ট অভিযোগ নেই, 'উসকানি'র বিবরণ অস্পষ্ট, এবং বর্তমান পর্যায়ে এটি জাতীয় পতাকা বিধি লঙ্ঘনের প্রশ্ন হতে পারে, ১২৪এ-র রাষ্ট্রদ্রোহের উপাদান নয়। পূর্ণাঙ্গ লিখিত আদেশ প্রকাশ সাপেক্ষে এই পর্যবেক্ষণ যাচাইযোগ্য।

  • CrPC ৪৯৭/৪৯৮ - জামিনে আদালতের বিবেচনা: পলায়নের আশঙ্কা, সাক্ষ্যে হস্তক্ষেপ, অপরাধের গুরুত্ব।
  • দীর্ঘ কারাবাস নিজেই জামিনের পক্ষে যুক্তি হতে পারে — যদি বিচার বিলম্বিত হয়।
সূত্র: TBS News, Apr 30 2025 | পূর্ণাঙ্গ আদেশ: সুপ্রিম কোর্ট ওয়েবসাইটে প্রকাশ সাপেক্ষে

কিন্তু এই আদেশ কার্যকর হলো না। একই দিন সন্ধ্যায় চেম্বার জজ আদালত — বিচারপতি মো. রেজাউল হক — রাষ্ট্রপক্ষের আবেদনে জামিন স্থগিত (stay) করেন। এটি একটি নিয়মিত আপিল প্রক্রিয়া, কিন্তু সাধারণ মানুষের কাছে বার্তা গেল একটাই — হাইকোর্ট জামিন দিলেও মুক্তি মিলছে না। আইনের শাসনে stay বৈধ, তবে stay-এর কারণে বিচারাধীন আটক দীর্ঘায়িত হলে আদালতকে দ্রুত শুনানির ব্যবস্থা করতে হয়।

০৪

জামিনের দুই ট্র্যাক — আইন আলাদা, পরীক্ষা আলাদা

Track 1: রাষ্ট্রদ্রোহ মামলা - 124A

আইনি প্রকৃতি: জামিনযোগ্য/অজামিনযোগ্য বিতর্কিত, কিন্তু উচ্চ আদালত বারবার বলেছে — Bail is rule, jail exception। সূত্র: 49 DLR (AD) 26

ঘটনা: HC বেঞ্চ (আতোয়ার রহমান ও আলী রেজা) ৩০ এপ্রিল ২০২৫ জামিন মঞ্জুর করেন। একই দিন সন্ধ্যায় চেম্বার জজ বিচারপতি মো. রেজাউল হক stay করেন।

পরীক্ষা: এজাহারে সুনির্দিষ্ট overt act আছে কি? পতাকা বিধি vs ১২৪এ — কোনটি প্রযোজ্য?

Track 2: আলিফ হত্যা - ৩০২/১০৯

আইনি প্রকৃতি: Non-bailable, গুরুতর। বিচার — চট্টগ্রাম বিভাগীয় দ্রুত বিচার ট্রাইব্যুনাল। চার্জ গঠন: ১৯ জানু ২০২৬, ৩৯ জন।

পরীক্ষা ভিন্ন: এখানে জামিনের জন্য prima facie abetment (১০৯) প্রমাণের প্রশ্ন, conspiracy chain, কারাগারে থাকা অবস্থায় নির্দেশের সুনির্দিষ্ট প্রমাণ — আদালত যাচাই করবে।

নীতি: চার্জশিট প্রমাণ নয়, তবে ৩০২ মামলায় জামিনে আদালত কঠোর পরীক্ষা নেয় — পলায়ন, সাক্ষী প্রভাবিত করার আশঙ্কা।

দুই ট্র্যাককে গুলিয়ে ফেলা যাবে না। একটিতে জামিনই নিয়ম, অন্যটিতে আদালতকে কঠোর পরীক্ষা নিতে হয়। কিন্তু উভয় ক্ষেত্রেই — দীর্ঘ বিচারাধীন আটক নিজেই জামিনের পক্ষে যুক্তি হতে পারে, শর্তসাপেক্ষে।

সময়রেখা — পতাকা থেকে প্যারোল (সূত্রসহ)

৩১ অক্টোবর ২০২৪
রাষ্ট্রদ্রোহ মামলা
চট্টগ্রামে ফিরোজ খানের দায়ের করা মামলা। অভিযোগ: জাতীয় পতাকার অবমাননা। ধারা ১২৪এ।
২৫ নভেম্বর ২০২৪
গ্রেপ্তার
ঢাকা বিমানবন্দর থেকে গ্রেপ্তার, চট্টগ্রামে স্থানান্তর।
২৬ নভেম্বর ২০২৪
আদালত প্রাঙ্গণে সহিংসতা
জামিন নামঞ্জুরের পর সংঘর্ষ, আইনজীবী সাইফুল ইসলাম আলিফ নিহত।
৩ ডিসেম্বর ২০২৪
আইনজীবীশূন্য আদালত
নিরাপত্তা উদ্বেগে কোনো আইনজীবী দাঁড়াতে পারেননি বলে মিডিয়া রিপোর্ট।
৩০ এপ্রিল ২০২৫
হাইকোর্টে জামিন
বিচারপতি মো. আতোয়ার রহমান ও মো. আলী রেজা বেঞ্চ - জামিন মঞ্জুর।
৩০ এপ্রিল ২০২৫ সন্ধ্যা
চেম্বার জজে স্থগিত
বিচারপতি মো. রেজাউল হক - রাষ্ট্রপক্ষের আবেদনে জামিন স্থগিত।
৫-৬ মে ২০২৫
জামিনের পর নতুন হেফাজত
আলিফ হত্যাসহ ৫ মামলায় শ্যোন অ্যারেস্ট দেখানো।
১৯ জানুয়ারি ২০২৬
চার্জ গঠন - আলিফ হত্যা
চট্টগ্রাম বিভাগীয় দ্রুত বিচার ট্রাইব্যুনাল - ৩৯ জনের বিরুদ্ধে ৩০২/১০৯ ধারায় চার্জ।
১৭ ফেব্রুয়ারি ২০২৬
নতুন সরকার
তারেক রহমানের শপথ, আইনের শাসনের প্রতিশ্রুতি।
১০ সেপ্টেম্বর ২০২৬
মায়ের মৃত্যু ও ৫ ঘণ্টার প্যারোল
সন্ধ্যা রানী ধর ভোরে মারা যান। DC Mohammad Zahidul Islam Mia ৫ ঘণ্টার প্যারোল মঞ্জুর।
০৫

এক মামলায় জামিন, অন্য মামলায় গ্রেপ্তার — Abuse of Process?

বাংলাদেশের বিচার ব্যবস্থায় একটি পুরোনো প্রশ্ন আছে — যাকে আইনজীবীরা বলেন “sequential detention”। একটি মামলায় জামিন পেলে, পরদিনই অন্য মামলায় গ্রেপ্তার দেখানো। CrPC ৪৯৭ ও ৪৯৮ অনুযায়ী প্রতিটি মামলায় জামিন স্বাধীনভাবে বিবেচ্য।

চিন্ময়ের ক্ষেত্রে মিডিয়া রিপোর্ট অনুযায়ী: ৩০ এপ্রিল হাইকোর্ট জামিন দিল, চেম্বার কোর্ট স্থগিত করল, আর ৫ ও ৬ মে তাকে আলিফ হত্যা মামলাসহ আরও চারটি মামলায় shown arrested দেখানো হলো। ফলে পতাকা মামলায় জামিন পেলেও কারামুক্তি আটকে গেল।

আইনি প্রশ্ন
BLAST vs Bangladesh এবং অন্যান্য রায়ে উচ্চ আদালত বলেছে — জামিনের পরপরই নতুন মামলায় আটক দেখানো abuse of process-এর প্রশ্ন তোলে, যা আদালতকে পরীক্ষা করতে হবে। উদ্দেশ্য প্রমাণ নয়, আটক — এমন ধারণা তৈরি হলে বিচার বিভাগীয় তদারকি জরুরি।
নাগরিকের প্রশ্ন
ধারাবাহিকতা নাগরিকের মনে প্রশ্ন তোলে: বিচার চলছিল, নাকি কারাগারে রাখার পথ খোঁজা হচ্ছিল? এই প্রশ্নের উত্তর আদালত দেবে, রাস্তা নয়।

আমরা সরাসরি অভিযোগ করছি না। আমরা বলছি — আদালত এই ধারাবাহিকতা পরীক্ষা করুক। CrPC ৪৯৭(২) বলে, তদন্ত শেষ না হলে বা বিচার বিলম্বিত হলে জামিন বিবেচ্য। এক মামলার জামিনকে অকার্যকর করে অন্য মামলায় অনির্দিষ্টকাল আটক রাখা সংবিধানের ৩২ ও ৩৩ অনুচ্ছেদের পরিপন্থী হতে পারে — যদি আদালত তা মনে করে।

০৬

আলিফ হত্যা মামলা — ন্যায়বিচারের দুই দিক

২৬ নভেম্বর ২০২৪-এর সহিংসতা আমরা সবাই নিন্দা করি। চট্টগ্রাম আদালত প্রাঙ্গণে আইনজীবী সাইফুল ইসলাম আলিফের হত্যা — এটি নৃশংস, এটি ন্যায়বিচারের ওপর আঘাত। এই হত্যার বিচার হতেই হবে, দ্রুত ও স্বচ্ছভাবে।

কিন্তু ন্যায়বিচারের দুই দিক আছে। একদিকে ভিকটিমের ন্যায়বিচার, অন্যদিকে আসামির ন্যায়বিচার। রাষ্ট্রের দাবি — এই হত্যায় চিন্ময়সহ ৩৯ জন জড়িত। ১৯ জানুয়ারি ২০২৬ তারিখে ৩০২/১০৯ ধারায় চার্জ গঠন করা হয় চট্টগ্রাম বিভাগীয় দ্রুত বিচার ট্রাইব্যুনালে।

এখানেই আমাদের থামতে হবে এবং মনে রাখতে হবে — চার্জশিট প্রমাণ নয়। চার্জ গঠন রায় নয়। আসামি মানে অপরাধী নয়। সংবিধান অনুচ্ছেদ ৩৫(৩)।

প্রশ্নগুলো আদালতে উঠবেই — প্রতিরক্ষা পক্ষের বক্তব্য অনুযায়ী, চিন্ময় সেদিন কারাগারে ছিলেন, তিনি কীভাবে হত্যার নির্দেশ দিলেন? ১০৯ ধারার (প্ররোচনা) জন্য সুনির্দিষ্ট প্রমাণ — মোবাইল কল, মিটিং, নির্দেশের চেইন — এগুলো বিচারে প্রমাণিত হতে হবে, সন্দেহাতীতভাবে। বিচার চলুক, কিন্তু বিচারের আগে দুই বছর কারাগার — এটা কি প্রি-পানিশমেন্ট নয়? এই প্রশ্ন আদালতের কাছে।

দ্রষ্টব্য: এই প্রবন্ধ আলিফ হত্যা মামলার গুণাগুণ নিয়ে পূর্ব-মন্তব্য করে না। প্ররোচনার প্রশ্ন বিচার্য বিষয়, আদালত নির্ধারণ করবে।

রাষ্ট্র যদি প্রমাণ করতে না পারে, তবে নাগরিককে প্রমাণ করতে হবে না সে নির্দোষ।
এটাই সভ্য রাষ্ট্রের ভিত্তি। অনুচ্ছেদ ৩৫।

০৭

আইনজীবী পাওয়ার অধিকার

৩ ডিসেম্বর ২০২৪ — চট্টগ্রাম আদালতে চিন্ময়ের জামিন শুনানির দিন কোনো আইনজীবী দাঁড়াননি বলে খবর প্রকাশিত হয়। The Daily Star, Dec 4 2024 reported lawyers cited security concerns after Nov 26 violence. Some lawyers for accused were later made accused in another case - reported in local media.

সংবিধানের ৩৩(১) অনুচ্ছেদ বলে — গ্রেপ্তারকৃত ব্যক্তিকে আইনজীবীর সাথে পরামর্শের অধিকার থেকে বঞ্চিত করা যাবে না। আন্তর্জাতিক মানবাধিকারও একই কথা বলে। আইনজীবীশূন্য আদালত কখনো ন্যায়বিচার হতে পারে না।

মনে রাখুন
একজন আইনজীবী যখন আসামির পক্ষে দাঁড়ান, তিনি অপরাধের পক্ষে দাঁড়ান না। তিনি সংবিধানের পক্ষে দাঁড়ান। আইনজীবীদের ভয় দেখানো মানে বিচার ব্যবস্থাকেই ভয় দেখানো। সূত্র: Daily Star Dec 4 2024

০৮

মায়ের মৃত্যু ও প্যারোলের মানবিক সংকট — আইনি শূন্যতা

৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬। চট্টগ্রাম কারাগারে থাকা চিন্ময় কৃষ্ণ দাস আবেদন করেন — তার মা সন্ধ্যা রানী ধর গুরুতর অসুস্থ, তাকে একবার দেখতে যেতে চান। মিডিয়া রিপোর্ট অনুযায়ী, কারা কর্তৃপক্ষ মৌখিকভাবে জানায়, “অসুস্থ আত্মীয়কে দেখার জন্য প্যারোলে মুক্তির বিধান নেই, শুধু শেষকৃত্যের জন্য আছে।” — oral communication reported, written order pending.

পরদিন ভোরে, ১০ সেপ্টেম্বর ২০২৬, সন্ধ্যা রানী ধর মারা যান। খবরটি কারাগারে পৌঁছালে মানবিক বিবেচনায় চট্টগ্রামের জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ জাহিদুল ইসলাম মিঞা ৫ ঘণ্টার প্যারোল মঞ্জুর করেন। হাটহাজারীর পুণ্ডরীক ধামে মায়ের শেষকৃত্যে অংশ নেন চিন্ময়, কড়া পুলিশ পাহারায়। সূত্র: The Daily Star Sept 10, 2026।

আইনি সংশোধন — Jail Code 1000-1002, Prison Act Sec 59

বাংলাদেশ জেল কোড ১০০০-১০০২ এবং Prison Act Sec 59-এ ডিসি/ডিভিশনাল কমিশনারের মাধ্যমে executive parole-এর বিধান আছে, মূলত সাজাপ্রাপ্তদের জন্য। বিচারাধীনদের জন্য হাসপাতাল ভিজিট বা মৃত্যুশয্যায় থাকা আত্মীয়কে দেখার সুযোগ — লিখিত কোডে সুস্পষ্টভাবে নিষিদ্ধ নয়, কিন্তু সুস্পষ্টভাবে অনুমোদিতও নয়। প্র্যাকটিসে — আদালতের অনুমতি + পুলিশ এসকর্টে সীমিত সময়ের ভিজিট সম্ভব, যদি ডিসি মানবিক আদেশ দেন। এখানেই ফাঁক — একজন বন্দী মৃত্যুশয্যায় থাকা মাকে দেখতে পাবে কি না, তা নির্ভর করে একজন কর্মকর্তার ব্যক্তিগত মানবিকতার ওপর, লিখিত SOP-র ওপর নয়। এটা রাষ্ট্রের ব্যর্থতা।

মিডিয়া রিপোর্ট অনুযায়ী জেলা প্রশাসকের কার্যালয় থেকে মৌখিকভাবে বলা হয়েছিল "হাসপাতাল ভিজিটের বিধান নেই, শুধু অন্ত্যেষ্টিক্রিয়ার জন্য আছে" — কিন্তু Jail Code-এ এমন সুস্পষ্ট নিষেধ নেই। আদালতের অনুমতি নিয়ে পুলিশ প্রহরায় হাসপাতাল ভিজিট — ভারতসহ অনেক দেশে সাধারণ। বাংলাদেশে লিখিত নীতিমালা নেই, তাই আবেদন আটকে যায়।

“কারাগার বিচারের অপেক্ষার জায়গা, শাস্তির জায়গা নয়।
জামিন না দেওয়া যদি শাস্তি হয়ে যায়, তবে বিচারের প্রয়োজন কী?”

ICCPR 9(3) + Constitution Art 32
০৯

সংস্কারের দাবি — ৩ দফা (আইনি বিশদসহ)

আমরা প্রতিহিংসা চাই না, সংস্কার চাই। চিন্ময়ের মায়ের মৃত্যু আমাদের চোখে আঙুল দিয়ে দেখিয়ে দিয়েছে — আইনে ফাঁক আছে। আমরা তিনটি সংস্কার দাবি করি, যা আদালত ও কারা কর্তৃপক্ষ উভয়ের জন্য প্রযোজ্য:

০১
মানবিক প্যারোলের লিখিত SOP
মৃত্যুশয্যায় থাকা বাবা-মা, স্ত্রী, সন্তানকে দেখা, শেষকৃত্যে অংশ নেওয়া — এর জন্য সুস্পষ্ট, লিখিত, সময়বদ্ধ নীতিমালা করতে হবে। ২৪ ঘণ্টার মধ্যে সিদ্ধান্ত, লিখিত কারণ (written reason), আদালতকে অবহিতকরণ। ডিসি বা জেল সুপারের দয়া নয়, অধিকার হিসেবে বিবেচ্য। Jail Code 1000-1002 সংশোধন করে বিচারাধীনদের জন্য প্রযোজ্য করতে হবে।
০২
আদালত-কারা সমন্বয়
প্যারোলের আবেদন ২৪ ঘণ্টার মধ্যে সংশ্লিষ্ট আদালতকে জানাতে হবে এবং আদালতের মতামত নিতে হবে। কারা কর্তৃপক্ষ একা 'বিধান নেই' বলে ফিরিয়ে দিতে পারবে না। Speedy Trial Tribunal-এর মতো ট্রাইব্যুনালেও প্যারোল আবেদনের দ্রুত শুনানির ব্যবস্থা থাকতে হবে।
০৩
পুলিশ এসকর্টে হাসপাতাল/বাড়ি ভিজিটের অধিকার — শর্তসাপেক্ষ
গুরুতর অসুস্থ আত্মীয়কে পুলিশ পাহারায় ৬-১২ ঘণ্টার জন্য দেখার সুযোগ — শর্তসাপেক্ষে: পাসপোর্ট জমা (CrPC 497 শর্ত), জামিনদার/ surety, সীমিত সময়, জনসমাবেশে বক্তব্য নয়, মিডিয়া এড়ানো, পুলিশ প্রহরায় যাতায়াত। এটি সভ্য দেশে সাধারণ — ভারতের Parole/Furlough Guidelines, ICCPR 9(3)-এর মানবিক ব্যাখ্যা অনুযায়ী। বাংলাদেশেও চালু করতে হবে, বিচারাধীন ও সাজাপ্রাপ্ত উভয়ের জন্য।
১০

উপসংহার — আমি শর্তসাপেক্ষ জামিন চাই

আমি চিন্ময় কৃষ্ণ দাসের খালাস চাই না, আমি তার শর্তসাপেক্ষ জামিন চাই — পাসপোর্ট জমা, নিয়মিত হাজিরা, জনসমাবেশে উসকানিমূলক বক্তব্য থেকে বিরত থাকার শর্তে।

খালাস দেবে আদালত, বিচারের পর, প্রমাণ যাচাই করে। আমি যা চাই, তা হলো — বিচার চলুক মুক্ত মানুষের ওপর, বন্দী মানুষের ওপর নয়। যদি তিনি পতাকা অবমাননা করে থাকেন, আদালত শাস্তি দিক। যদি তিনি আলিফ হত্যায় প্ররোচনা দিয়ে থাকেন, সর্বোচ্চ শাস্তি হোক। কিন্তু তার আগে, প্রমাণের আগে, দুই বছর কারাগার — এটা ন্যায়বিচার নয়, এটা প্রি-পানিশমেন্ট।

আমি হিন্দু নই, আমি ইসকনের অনুসারীও নই। আমি একজন মুসলমান, একজন মানবাধিকার কর্মী। আমি বিশ্বাস করি — রাষ্ট্র যখন একজন সংখ্যালঘু নেতাকে বিনা বিচারে দীর্ঘদিন আটকে রাখে, তখন রাষ্ট্র সংখ্যাগরিষ্ঠেরও ক্ষতি করে। কারণ আজ তার পালা, কাল আমার পালা হতে পারে।

১৭ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ তারেক রহমান শপথ নিয়েছেন আইনের শাসনের কথা বলে। এপ্রিল ২০২৬-এ বিএনপি নেতা নিতাই রায় চৌধুরী বলেছেন — এই মামলায় রাজনীতি নয়, আইন চলুক। আমরা সেই আইনটাই চাই, শর্তসাপেক্ষ জামিনের আইন।

শর্তসাপেক্ষ জামিন দিন, বিচার চালান,

প্রমাণ হলে শাস্তি দিন।

কিন্তু বিচারের আগেই কারাগারকে শাস্তি বানাবেন না। পাসপোর্ট জমা + হাজিরা + উসকানি নয় — এই তিন শর্তে মুক্তি।

ন্যায়বিচার মানে প্রতিশোধ নয়, প্রক্রিয়া — CrPC 497/498 + Constitution Art 32,33,35

এই প্রবন্ধ কোনো সহিংসতাকে সমর্থন করে না, আলিফ হত্যা মামলার গুণাগুণ নিয়ে পূর্ব-মন্তব্য করে না। এটি সংবিধানের ২৭, ৩১, ৩২, ৩৩, ৩৫ ও ৩৯ অনুচ্ছেদ এবং CrPC ৪৯৭/৪৯৮, ICCPR ৯(৩) আলোকে জামিন, প্যারোল ও প্রক্রিয়াগত ন্যায়বিচারের প্রশ্ন তোলে।

No comments:

Post a Comment

Please validate CAPTCHA