Skip to main content
Breaking NewsDeveloping public-interest story

Latest

Friday, September 11, 2026

Reading time

চিন্ময় দাসের প্যারোল, মায়ের অন্তিম আকুতি এবং বাংলাদেশের মানবিক কারা সংস্কারের প্রয়োজন

  


এইচআর ডিফেন্ডার · মানবাধিকার ও শাসনব্যবস্থা

মৃত্যুর আগে মমতা:
শেষকৃত্যের অনুমতি কেন,
শেষ সাক্ষাতের সুযোগ কেন নয়?

চিন্ময় কৃষ্ণ দাসের প্যারোল, মায়ের অন্তিম আকুতি এবং বাংলাদেশের মানবিক কারা সংস্কারের প্রয়োজন

একজন মৃত্যুপথযাত্রী মা তাঁর সন্তানকে একবার দেখতে চান। এই চাওয়ার মধ্যে কোনো মামলার রায় নেই, কোনো রাজনৈতিক বিজয় নেই। আছে পরিচিত একটি মুখের কাছে শেষবারের মতো আশ্রয় খোঁজার আকুতি। রাষ্ট্র যখন সন্তানের চলাচল নিয়ন্ত্রণ করে, তখন সেই আকুতির প্রতি তার প্রতিক্রিয়াও জনজবাবদিহির বিষয় হয়ে ওঠে।

কারও অপরাধের অভিযোগের বিচার আদালতে হবে। কিন্তু বিচারাধীন একজন মানুষের মায়ের শয্যাপাশে অল্প সময় কাটানোর আবেদন কি নিরাপত্তা ও আইনসম্মত শর্তে বিবেচিত হতে পারে না? মৃত্যুর পরে শেষকৃত্যে যাওয়ার ব্যবস্থা করা গেলে, মৃত্যুর আগে সাক্ষাতের সম্ভাবনা যাচাইয়ের একটি কার্যকর পথ কেন থাকবে না?

মূল বক্তব্য

চিন্ময় কৃষ্ণ দাসের ঘটনাটি মানবিক বিবেচনার সময়, পদ্ধতি ও সমতা নিয়ে গুরুতর প্রশ্ন তোলে। সংবাদে বর্ণিত তথ্য দিয়ে কোনো কর্মকর্তার বেআইনি আচরণ, রাজনৈতিক উদ্দেশ্য বা বৈষম্য চূড়ান্তভাবে প্রমাণ করা যায় না। তবে প্রযোজ্য বিধি, সিদ্ধান্তের কারণ এবং বিকল্প ব্যবস্থার বিবেচনা প্রকাশের দাবি অবশ্যই ওঠে।

১. সংবাদে যা আছে, প্রমাণে যা এখনো নেই

৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬ প্রকাশিত সরবরাহকৃত সংবাদে বলা হয়, গুরুতর অসুস্থ মাকে দেখতে চিন্ময় কৃষ্ণ দাসের সাময়িক মুক্তির আবেদন করে তাঁর পরিবার। পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, অবস্থার অবনতি হওয়ায় তাঁর মাকে আইসিইউতে নেওয়া হয়েছিল। প্রতিবেদনে অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেটের বক্তব্য হিসেবে জানানো হয়, অসুস্থ স্বজনকে দেখতে প্যারোলের সুযোগ নেই, স্বজনের মৃত্যুর পর সুযোগ রয়েছে; পরিবারকে বিষয়টি মৌখিকভাবে জানানো হয়েছিল। [১]

পরদিন, ১০ সেপ্টেম্বরের দৈনিক পূর্বকোণ জানায়, মায়ের মৃত্যুর পর জেলা ম্যাজিস্ট্রেটের অনুমোদনে পাঁচ ঘণ্টার প্যারোল পান চিন্ময়। তিনি পুলিশি নিরাপত্তায় পুণ্ডরীক ধামে শেষকৃত্যে অংশ নেন। প্রতিবেদনে কারাগার থেকে বিকেল ৩টা ৪০ মিনিটে বের হওয়া, বিকেল ৫টা ৫ মিনিটে অনুষ্ঠানস্থলে পৌঁছানো এবং সন্ধ্যা ৬টা ৩২ মিনিটে সেখান থেকে ফেরার উদ্দেশ্যে রওনা হওয়ার কথা রয়েছে। শেষের সময়টি কারাগারে পৌঁছানোর সময় নয়। [২]

অর্থাৎ, সংবাদ দুটি অসুস্থতার সময় আবেদন এবং মৃত্যুর পর অনুমোদনের একটি তাৎপর্যপূর্ণ পার্থক্য তুলে ধরে। কিন্তু এগুলো থেকে অনুমোদনটি তাৎক্ষণিক হয়েছিল, কিংবা হাসপাতালে পুলিশি পাহারায় সাক্ষাতের পৃথক আবেদন নিষ্পত্তি হয়েছিল—এমন সিদ্ধান্ত নেওয়া যায় না।

মূল আবেদন, লিখিত প্রত্যাখ্যান, প্যারোলের আদেশ, চিকিৎসা নথি ও নিরাপত্তা মূল্যায়ন এই বিশ্লেষণের জন্য পাওয়া যায়নি। প্রতিবেদনে রোগের বিবরণ এবং আবেদনকারী স্বজনের নামেও পার্থক্য আছে। তাই কোনো নির্দিষ্ট রোগনির্ণয় বা আবেদনকারীর পরিচয়ের ওপর এই নিবন্ধের যুক্তি নির্ভর করছে না। সাক্ষাতের অনুমতি না পাওয়াই মায়ের মৃত্যুর কারণ—এমন দাবিও এখানে করা হচ্ছে না।

এই সতর্কতা মানবিক প্রশ্নকে দুর্বল করে না। বরং প্রতিবাদের ভিত্তি শক্ত করে: যে প্রশ্নের উত্তর নথিতে পাওয়া সম্ভব, সেখানে অনুমানকে প্রমাণের জায়গায় বসানো উচিত নয়।

২. জামিন, প্যারোল ও পাহারায় সাক্ষাৎ: পার্থক্যটি জরুরি

জামিন বিচার চলাকালে শর্তসাপেক্ষ মুক্তির প্রশ্ন। প্যারোল এখানে সংবাদে ব্যবহৃত অর্থে নির্দিষ্ট উদ্দেশ্যে সীমিত সময়ের জন্য বাইরে যাওয়ার অনুমতি। আর পুলিশি পাহারায় মানবিক সাক্ষাৎ এমনভাবে আয়োজন করা সম্ভব, যাতে যাত্রা, সাক্ষাৎ ও প্রত্যাবর্তনের পুরো সময় ব্যক্তির হেফাজত অব্যাহত থাকে। কোনটির অনুমোদন কে দেবেন, তা অবশ্যই প্রযোজ্য আইনে নির্ধারিত হতে হবে।

জামিন নামঞ্জুর হওয়ার অর্থ এই নয় যে অল্প সময়ের পাহারাযুক্ত সাক্ষাতের সম্ভাবনাও স্বয়ংক্রিয়ভাবে শেষ। একইভাবে শেষকৃত্যে যাওয়ার অনুমতি পাওয়া কোনো অভিযোগ থেকে অব্যাহতি বা জামিন পাওয়ার অধিকার প্রমাণ করে না। মানবিক বিবেচনা ও মামলার বিচার আলাদা প্রশ্ন; উভয় ক্ষেত্রেই আইনের শাসন প্রয়োজন।

কর্মকর্তার সীমাবদ্ধতা স্বীকার করেও প্রশ্ন করা যায়

একজন কর্মকর্তা নিজের ইচ্ছায় বিচারিক হেফাজতের আদেশ অগ্রাহ্য করতে পারেন না। পালিয়ে যাওয়ার আশঙ্কা, জনসমাগম, বন্দির ওপর হামলার হুমকি, হাসপাতালে রোগীদের নিরাপত্তা কিংবা সংক্রমণ নিয়ন্ত্রণ—সবই প্রাসঙ্গিক হতে পারে। এসব বাস্তবতাকে অস্বীকার করে মানবাধিকারের কার্যকর আলোচনা হয় না।

তবে ‘বিধান নেই’ বলেই আলোচনা শেষ করা যথেষ্ট নয়। কোন বিধান? তাতে সরাসরি নিষেধাজ্ঞা আছে, নাকি বিষয়টি অনুল্লিখিত? অন্য কর্তৃপক্ষের অনুমোদনের সুযোগ আছে কি? সংশ্লিষ্ট আদালতের নির্দেশনা চাওয়ার পথ ছিল কি? কম সময়, সীমিত উপস্থিতি বা বিশেষ পাহারায় সাক্ষাৎ সম্ভব ছিল কি?

বিধিতেই ঘাটতি থাকলে সংস্কারের দায় নীতিনির্ধারকের। সুযোগ থাকা সত্ত্বেও তা বিবেচিত না হলে সিদ্ধান্ত গ্রহণের পদ্ধতি পর্যালোচনা করতে হবে। আর কর্তৃত্বের বিভাজন যদি আবেদনকে আটকে দেয়, তাহলে সমন্বয়ের ব্যবস্থা বদলাতে হবে। একই ব্যাখ্যা দিয়ে এই তিন সমস্যার সমাধান হয় না।

অনুচ্ছেদ ৩১ ও ৩২: আইন কেবল নিয়ন্ত্রণের উপায় নয়

বাংলাদেশের সংবিধানের ৩১ অনুচ্ছেদ আইনের আশ্রয় ও আইনানুগ আচরণের সুরক্ষা দেয়। ৩২ অনুচ্ছেদ আইন অনুযায়ী ছাড়া জীবন বা ব্যক্তিস্বাধীনতা থেকে বঞ্চিত করা নিষিদ্ধ করে। ২৭ ও ২৮ অনুচ্ছেদ সমতা ও বৈষম্যবিরোধী সুরক্ষার কথা বলে; ৩৫(৩) অনুচ্ছেদ স্বাধীন ও নিরপেক্ষ আদালতে দ্রুত ও প্রকাশ্য বিচারের নিশ্চয়তা দেয়। [৫]

এসব অনুচ্ছেদে শয্যাপাশে সাক্ষাৎ বা শেষকৃত্যের জন্য স্বয়ংক্রিয় মুক্তির অধিকার লেখা নেই। তবে আমার নীতিগত অবস্থান হলো: হেফাজত ব্যবস্থায় মানবিক আবেদন নিষ্পত্তির নিয়ম হতে হবে আইনসম্মত, প্রাসঙ্গিক কারণনির্ভর এবং প্রয়োজনের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ। এই নির্দিষ্ট ঘটনায় সাংবিধানিক অধিকার লঙ্ঘিত হয়েছে কি না, তা নির্ধারণে পূর্ণ নথি ও প্রযোজ্য আইনের পরীক্ষা প্রয়োজন।

সাংবিধানিক মমতা বলতে খেয়ালখুশির অনুগ্রহ বোঝায় না। বোঝায়, একটি মানুষের গভীর ক্ষতির সম্ভাবনা স্বীকার করে বৈধ ও কম ক্ষতিকর ব্যবস্থা খোঁজা। এমন প্রশাসনিক পদ্ধতি দরকার, যেখানে অনুমতি দেওয়ার কারণ যেমন নথিবদ্ধ হবে, প্রত্যাখ্যানের কারণও তেমনই ব্যাখ্যা করতে হবে।

ম্যান্ডেলা রুলস: ৫৮-এর পাশাপাশি ৭০ কেন অপরিহার্য

জাতিসংঘের নেলসন ম্যান্ডেলা রুলসের ৫৮ নম্বর বিধি প্রয়োজনীয় তত্ত্বাবধানে পরিবার ও বন্ধুদের সঙ্গে নিয়মিত যোগাযোগ, চিঠিপত্র, উপলব্ধ যোগাযোগপ্রযুক্তি ও সাক্ষাতের বিষয়টি তুলে ধরে। কিন্তু সংকটাপন্ন স্বজনের শয্যাপাশে যাওয়া ও শেষকৃত্যে অংশগ্রহণের নির্দিষ্ট বিধানটি হলো ৭০ নম্বর বিধি[৪]

৭০ নম্বর বিধি অনুযায়ী, নিকটাত্মীয় বা গুরুত্বপূর্ণ ঘনিষ্ঠজনের গুরুতর অসুস্থতা বা মৃত্যুর সংবাদ বন্দিকে দ্রুত জানাতে হবে। পরিস্থিতি অনুকূল হলে পাহারায় অথবা একাকী সংকটাপন্ন স্বজনের শয্যাপাশে যাওয়া কিংবা শেষকৃত্যে অংশগ্রহণের অনুমতি দেওয়া উচিত। সাধারণ প্রয়োগের এই অংশ বিচারাধীন ও দণ্ডিত—উভয় শ্রেণির বন্দির জন্য প্রাসঙ্গিক। [৪]

ম্যান্ডেলা রুলস বাধ্যতামূলক দেশীয় মুক্তির আদেশ নয়; এগুলো জাতিসংঘের অ-বাধ্যতামূলক আন্তর্জাতিক মানদণ্ড। তবু সংস্কারের দিকনির্দেশটি স্পষ্ট: মানবিক বিবেচনা শুরু হওয়ার একমাত্র শর্ত মৃত্যু হতে পারে না। বাস্তব ঝুঁকি যাচাই করতে হবে, কিন্তু সংকটাপন্ন অবস্থায় সাক্ষাতের সম্ভাবনাই বিবেচনার বাইরে রাখা উচিত নয়।

৩. রাজনৈতিক পরিবর্তনের সময় নিরপেক্ষতার পরীক্ষা

রাজনৈতিক রূপান্তর ও প্রতিষ্ঠান সংস্কারের আলোচনায় বড় প্রতিশ্রুতির চেয়ে দৈনন্দিন প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত অনেক সময় বেশি অর্থবহ। ক্ষমতার পরিবর্তন ঘটলেও একজন বিতর্কিত বা অজনপ্রিয় অভিযুক্ত ন্যায্য প্রক্রিয়া পাচ্ছেন কি না—সেখানেই প্রতিষ্ঠানের সক্ষমতা ও চরিত্রের পরীক্ষা হয়। এখানে ‘রূপান্তর’ শাসনব্যবস্থার চ্যালেঞ্জ বোঝাতে ব্যবহৃত হয়েছে; ঘটনাকালের সরকারের নির্দিষ্ট সাংবিধানিক পরিচয় নির্ধারণের জন্য নয়।

যে মানদণ্ড অন্তর্বর্তী ব্যবস্থার জন্য প্রযোজ্য, নির্বাচিত সরকারের জন্যও তা প্রযোজ্য হওয়া চাই। কোনো ধর্মীয় পরিচয় বিপজ্জনকতার প্রমাণ নয়। রাজনৈতিক পরিচিতি অনুকম্পা পাওয়ার ছাড়পত্র নয়। জনরোষও বিচারিক সিদ্ধান্তের বিকল্প হতে পারে না।

সরবরাহকৃত সংবাদে চিন্ময়ের বিরুদ্ধে গুরুতর অপরাধের অভিযোগ ও হেফাজতের পটভূমি এসেছে। এই নিবন্ধ সেসব অভিযোগের সত্যতা বা প্রতিটি মামলার বর্তমান অবস্থা নির্ধারণ করছে না। অভিযোগকারী, নিহত ব্যক্তির পরিবার, সাক্ষী ও অভিযুক্ত—সবার অধিকার রক্ষার ব্যবস্থা একসঙ্গে প্রয়োজন। মানবিক সাক্ষাতের সুযোগ যেন সাক্ষীকে ভয় দেখানো, প্রমাণে হস্তক্ষেপ বা পালানোর পথ না হয়, তা নিশ্চিত করতে হবে। [১]

জামিন শুনানি, আইনজীবীর কার্যকর সহায়তা এবং শুনানি পেছানোর কারণ হতে হবে স্বচ্ছ। তবে মূল আদালতের আদেশ ছাড়া কোনো নির্দিষ্ট শুনানি কেন হয়নি বা আবেদন কেন নামঞ্জুর হয়েছে, তা এই প্রতিবেদনের ভিত্তিতে নিশ্চিত বলা যায় না। আদালতের বিরুদ্ধে সংবাদে প্রকাশিত সমালোচনা আদালতের নথি পরীক্ষার বিকল্প নয়।

নিরাপত্তা মূল্যায়নে দুটি বিষয় আলাদা করা জরুরি: বন্দি অন্যের জন্য কতটা ঝুঁকি সৃষ্টি করছেন এবং অন্যরা বন্দির জন্য কতটা ঝুঁকি সৃষ্টি করছে। দ্বিতীয় ক্ষেত্রে সুরক্ষিত পথ, সীমিত উপস্থিতি, উপযুক্ত সময় বা বাড়তি পাহারা বিবেচনা করতে হবে। সম্ভাব্য বিশৃঙ্খলাকারীদের আপত্তিই যদি বিবেচনা বন্ধ করে দেয়, তাহলে প্রশাসনের সিদ্ধান্তে তাদের অঘোষিত প্রভাব প্রতিষ্ঠিত হয়।

ন্যায্য প্রক্রিয়া রাষ্ট্রের কর্তৃত্বকে বিশ্বাসযোগ্য করে। মানুষ যখন সিদ্ধান্তের কারণ বুঝতে পারে এবং একই পরিস্থিতিতে একই মানদণ্ডের প্রয়োগ দেখে, তখন প্রতিষ্ঠানের প্রতি আস্থার ভিত্তি তৈরি হয়। এই ঘটনায় তার ফল পরিমাপের গবেষণা আমাদের হাতে নেই; এটি নীতিগত যুক্তি, প্রমাণিত পরিসংখ্যানগত দাবি নয়।

৪. জীবিত মায়ের আকুতি এবং মৃতদেহের সামনে অনুমতি

সরবরাহকৃত এবিপি লাইভের প্রতিবেদনে তসলিমা নাসরিনের প্রতিক্রিয়া এসেছে। তিনি চিন্ময়ের বেদনার সঙ্গে নিজের মৃত্যুপথযাত্রী বাবাকে দেখতে না পারার অভিজ্ঞতার তুলনা করেছেন। তাঁর বক্তব্য এখানে সংবাদে প্রকাশিত ব্যক্তিগত সাক্ষ্য ও জনমতের অংশ হিসেবে বিবেচিত; মূল সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের পোস্ট বা সংশ্লিষ্ট ঐতিহাসিক সিদ্ধান্তগুলো স্বাধীনভাবে যাচাই করা হয়নি। [৩]

তাঁর মন্তব্যের দলীয় ভাষা গ্রহণ না করেও নৈতিক প্রশ্নটি বোঝা যায়। শেষকৃত্যে অংশ নেওয়ার গুরুত্ব গভীর। কিন্তু জীবিত মানুষের পাশে উপস্থিত হওয়া ভিন্ন এক মানবিক প্রয়োজন পূরণ করে। মৃত্যুর পরে আর চোখে চোখ রেখে আশ্বাস দেওয়া যায় না; পরিচিত কণ্ঠের উত্তর পাওয়া যায় না; একজন মা আর জানতে পারেন না, তাঁর সন্তান তাঁর পাশে এসে দাঁড়িয়েছে।

মৃত্যুর পর দেওয়া অনুমতি শেষ বিদায়ের সুযোগ ফিরিয়ে দিতে পারে; জীবিত অবস্থায় হারিয়ে যাওয়া শেষ সাক্ষাৎ ফিরিয়ে দিতে পারে না।

প্রশাসনের কাছে মৃত্যুসনদ একটি নির্দিষ্ট দলিল, শেষকৃত্য একটি পরিচিত অনুমোদনশ্রেণি। সংকটাপন্ন অসুস্থতায় সময় অনিশ্চিত, সিদ্ধান্ত দ্রুত নিতে হয়। যদি কর্মকর্তার মূল্যায়নে কেবল অনুমতি দেওয়ার ঝুঁকি গণনা হয়, কিন্তু সিদ্ধান্ত না নেওয়ার মানবিক ক্ষতি অদৃশ্য থাকে, তাহলে নিষ্ক্রিয়তাই নিরাপদ পেশাগত পছন্দ হয়ে উঠতে পারে। এটি অনুসন্ধানযোগ্য প্রাতিষ্ঠানিক ব্যাখ্যা; কোনো কর্মকর্তার ব্যক্তিগত উদ্দেশ্য সম্পর্কে সিদ্ধান্ত নয়।

সাড়া দিতে সক্ষম শাসনব্যবস্থা এই প্রণোদনা বদলায়। তা কর্মকর্তাকে স্পষ্ট কর্তৃত্ব, দ্রুত পরামর্শ, নিরাপত্তা সহায়তা ও নথিবদ্ধ সিদ্ধান্তের পদ্ধতি দেয়। শেষকৃত্যের জন্য পাহারা আয়োজনের ঘটনা দেখায়, অন্তত একটি পরিস্থিতিতে নিয়ন্ত্রিত চলাচল সম্ভব হয়েছিল। তা হাসপাতালে সাক্ষাতের নিরাপত্তা নিশ্চিত প্রমাণ করে না; তবে দুই পরিস্থিতির পার্থক্য ব্যাখ্যা করার যুক্তিসংগত দাবি তৈরি করে।

প্রশাসনিক দৃষ্টিভঙ্গির তুলনা—বিদেশি আইনের জরিপ নয়
বিবেচ্য বিষয়অনমনীয় পদ্ধতিমানবিক ও জবাবদিহিমূলক পদ্ধতি
আবেদনের উপলক্ষমৃত্যুর পরে বিবেচনাযাচাইকৃত সংকটাপন্ন অসুস্থতা ও মৃত্যু—উভয় ক্ষেত্রে বিবেচনা
নিরাপত্তাসাধারণ আশঙ্কায় প্রত্যাখ্যাননির্দিষ্ট ঝুঁকি এবং তা নিয়ন্ত্রণের উপায় পরীক্ষা
সময়সীমাঅনির্দিষ্ট অপেক্ষাচিকিৎসাগত জরুরিতার সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ সিদ্ধান্ত
জবাবদিহিমৌখিক উত্তরলিখিত কারণ ও দ্রুত স্বাধীন পর্যালোচনা

৫. মানবিক কারা সংস্কারের বাস্তব কর্মসূচি

নিচের সুপারিশগুলো প্রস্তাবিত সংস্কার, বিদ্যমান অধিকারের তালিকা নয়। শুরুতে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় ও আইন মন্ত্রণালয়কে জেল কোড, প্রযোজ্য প্যারোল নির্দেশনা, জেলা ম্যাজিস্ট্রেটের অর্পিত ক্ষমতা এবং বিচারিক হেফাজতের সঙ্গে এসবের সম্পর্ক স্পষ্ট করে প্রকাশ করতে হবে। বর্তমান ক্ষমতা অপর্যাপ্ত হলে প্রয়োজনীয় আইন সংশোধন করতে হবে; কেবল পরিপত্র দিয়ে মূল আইন বা আদালতের আদেশ অতিক্রম করা যাবে না।

ক. সংকটাপন্ন স্বজনকে দেখতে যাওয়ার পৃথক বিধান

বাবা-মা, স্বামী বা স্ত্রী, সন্তান ও ভাইবোনের সংকটাপন্ন অসুস্থতায় সময়সীমাবদ্ধ পাহারাযুক্ত সাক্ষাতের স্পষ্ট বিধান যুক্ত করা প্রয়োজন। বাস্তবে সমতুল্য পরিচর্যাকারী সম্পর্কের ক্ষেত্রে কারণ উল্লেখ করে বিবেচনার সুযোগ থাকা উচিত। বিচারাধীন বন্দিদের অন্তর্ভুক্তি, অনুমোদনকারী কর্তৃপক্ষ, প্রয়োজনীয় আদালতের সম্মতি, যাত্রার সময়, সাক্ষাতের মেয়াদ ও প্রত্যাবর্তন লিখিতভাবে নির্ধারণ করতে হবে।

খ. চিকিৎসাগত যাচাই যেন বিলম্বের নতুন দরজা না হয়

স্বীকৃত হাসপাতালের আনুষ্ঠানিক মেডিকেল বোর্ডের প্রত্যয়নকে স্বাভাবিক যাচাইপদ্ধতি করা যেতে পারে। বোর্ড বলবে রোগীর অবস্থা কতটা জরুরি এবং সাক্ষাৎ চিকিৎসাগতভাবে গ্রহণযোগ্য কি না। নিরাপত্তা অনুমোদন দেওয়া বোর্ডের দায়িত্ব হবে না।

কিন্তু মৃত্যুর আশঙ্কা আসন্ন হলে বোর্ডের সভার অপেক্ষায় আবেদন আটকে রাখা অনুচিত। তখন চিকিৎসার দায়িত্বে থাকা বিশেষজ্ঞের সত্যায়িত সনদ এবং মনোনীত সরকারি চিকিৎসকের দ্রুত নিশ্চিতকরণের ভিত্তিতে জরুরি সিদ্ধান্তের সুযোগ রাখতে হবে; পরে প্রয়োজনীয় আনুষ্ঠানিক পর্যালোচনা হবে। যাচাইয়ের উদ্দেশ্য অসত্য আবেদন প্রতিরোধ, সত্যিকার আবেদনকে সময়ের কাছে হারিয়ে দেওয়া নয়।

গ. ঘণ্টার হিসাবে সেবা, দিনের হিসাবে অপেক্ষা নয়

প্রস্তাবিত সেবামান হিসেবে আসন্ন মৃত্যুঝুঁকির আবেদনে এক ঘণ্টার মধ্যে প্রাপ্তিস্বীকার এবং ছয় ঘণ্টার মধ্যে প্রাথমিক সিদ্ধান্তের ব্যবস্থা করা যেতে পারে। চিকিৎসাগত পরিস্থিতি চাইলে তারও আগে কাজ করতে হবে। চিকিৎসা ও নিরাপত্তা যাচাই একসঙ্গে চলবে। সিদ্ধান্তে বিলম্ব হলে নির্দিষ্ট ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের কাছে স্বয়ংক্রিয়ভাবে বিষয়টি যাবে; বিলম্বের অর্থ স্বয়ংক্রিয় মুক্তির অনুমতি হবে না।

প্রতিদিন ২৪ ঘণ্টার দায়িত্বব্যবস্থা, সহজ বাংলা ফরম, আবেদন নম্বর এবং পরিবার, আইনজীবী বা হাসপাতালের মাধ্যমে আবেদন করার সুযোগ প্রয়োজন। কোথায় আবেদন করতে হবে, তা জানতে এক দপ্তর থেকে অন্য দপ্তরে ঘুরতে ঘুরতে যেন শেষ সময়টি ফুরিয়ে না যায়।

ঘ. ঝুঁকির নাম নয়, ঝুঁকির প্রমাণ

ঝুঁকিপরীক্ষা ও সম্ভাব্য ব্যবস্থা
পালিয়ে যাওয়ানথিবদ্ধ আচরণ ও নির্দিষ্ট তথ্য; উপযুক্ত পাহারা, নিরাপদ যানবাহন ও নিয়ন্ত্রিত পথ
হামলা বা সহিংসতাবর্তমান বিশ্বাসযোগ্য হুমকি; সুরক্ষিত প্রবেশ, জনসমাগম নিয়ন্ত্রণ ও প্রয়োজনানুগ নিরাপত্তা
সাক্ষীকে প্রভাবিত করানির্দিষ্ট যোগাযোগের আশঙ্কা; অনুমোদিত উপস্থিতির তালিকা ও প্রাসঙ্গিক যোগাযোগ-শর্ত
রোগীর ক্ষতিচিকিৎসকের মতামত, রোগীর সম্মতি বা প্রযোজ্য ক্লিনিক্যাল সিদ্ধান্ত, সংক্রমণ নিয়ন্ত্রণ ও সংক্ষিপ্ত সাক্ষাৎ
জনবল বা পরিবহন সংকটবাস্তব সক্ষমতার তথ্য; আঞ্চলিক সহায়তা, সময় সমন্বয় বা বিকল্প নিরাপদ ব্যবস্থা

প্রতিটি ঝুঁকির প্রমাণ, প্রতিকার এবং প্রতিকারের পরও অবশিষ্ট ঝুঁকি নথিবদ্ধ করতে হবে। অস্পষ্ট সংখ্যাভিত্তিক স্কোর যেন ব্যক্তিগত ধারণাকে বৈজ্ঞানিক মূল্যায়ন হিসেবে হাজির না করে। ধর্ম, রাজনৈতিক পরিচয়, সরকারের সমালোচনা বা অর্থের অভাবকে ঝুঁকির বিকল্প সূচক করা যাবে না।

ঙ. স্বাধীন পর্যালোচনা ও কারণ জানার সুযোগ

একজন নির্ধারিত প্রশাসনিক কর্মকর্তা পুরো আবেদন সমন্বয় করবেন। প্রত্যাখ্যান বা অযৌক্তিক বিলম্বের বিরুদ্ধে আইন দ্বারা ক্ষমতাপ্রাপ্ত বিচারিক কর্তৃপক্ষের কাছে জরুরি পর্যালোচনার সুযোগ থাকতে হবে। বিচারাধীন ব্যক্তির ক্ষেত্রে হেফাজত নিয়ন্ত্রণকারী আদালতের ভূমিকা স্পষ্ট করতে হবে। একাধিক মামলা থাকলে সমন্বিত প্রক্রিয়া দরকার, পরপর অসংখ্য অনুমোদনের বাধা নয়।

প্রত্যাখ্যানের লিখিত আদেশে আইনি ভিত্তি, প্রধান তথ্য, অবশিষ্ট ঝুঁকি, বিবেচিত বিকল্প এবং পর্যালোচনার পথ উল্লেখ করতে হবে। সংবেদনশীল নিরাপত্তা তথ্য সুরক্ষিতভাবে আদালত পরীক্ষা করতে পারেন; কিন্তু আবেদনকারীকে অর্থবহ ব্যাখ্যা থেকে সম্পূর্ণ বঞ্চিত করা উচিত নয়।

চ. মর্যাদা ও সমতার আর্থিক ভিত্তি

প্রয়োজনীয় পাহারা ও যাচাইয়ের ব্যয় রাষ্ট্রকে বহন করতে হবে, যাতে অর্থবান পরিবারের জন্য সুযোগ এবং দরিদ্র পরিবারের জন্য প্রত্যাখ্যান—এমন বিভাজন তৈরি না হয়। রোগীর অবস্থা অনুমতি দিলে শারীরিক সাক্ষাতের ব্যবস্থা করার সময় ফোন বা ভিডিও যোগাযোগ নিশ্চিত করা যেতে পারে। তবে বাস্তবে সম্ভব শয্যাপাশের সাক্ষাতের স্থায়ী বিকল্প হিসেবে প্রযুক্তিকে ব্যবহার করা উচিত নয়।

পাহারার ধরন ও শারীরিক নিয়ন্ত্রণের প্রয়োজন ব্যক্তিভিত্তিকভাবে মূল্যায়ন করতে হবে। রোগী, বন্দি এবং হাসপাতালের অন্য মানুষের গোপনীয়তা রক্ষা করতে হবে। শোক বা অন্তিম সাক্ষাৎকে সরকারি প্রচারের দৃশ্যে পরিণত করা মানবিক অনুমতির উদ্দেশ্য হতে পারে না।

প্রস্তাবিত বিধানের নমুনা—বিদ্যমান আইন নয়

আইনসম্মত হেফাজতে থাকা প্রত্যেক ব্যক্তি সংকটাপন্ন নিকটাত্মীয়ের সঙ্গে সময়সীমাবদ্ধ পাহারাযুক্ত সাক্ষাতের আবেদন দ্রুত বিবেচিত হওয়ার অধিকারী হবেন। চিহ্নিত ঝুঁকি যুক্তিসংগতভাবে নিয়ন্ত্রণযোগ্য হলে প্রযোজ্য বিচারিক হেফাজতের শর্ত সাপেক্ষে সাক্ষাতের ব্যবস্থা করা হবে। প্রত্যাখ্যানের ক্ষেত্রে সম্ভাব্য সুরক্ষাব্যবস্থা বিবেচনার লিখিত কারণ দিতে হবে এবং জরুরি স্বাধীন পর্যালোচনার সুযোগ রাখতে হবে।

বাস্তবায়ন কে করবেন, মূল্যায়ন কীভাবে হবে?

প্রস্তাবিত প্রথম ৩০ দিনে সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়গুলো বিদ্যমান ক্ষমতা ও নির্দেশনার তালিকা প্রকাশ করবে। পরবর্তী ৬০ দিনে বিচার বিভাগ, কারা কর্তৃপক্ষ, পুলিশ, চিকিৎসক, আইনগত সহায়তা সংস্থা ও নাগরিক সমাজের মতামত নিয়ে প্রয়োজনীয় সংশোধন প্রস্তুত করা যেতে পারে। যথাযথ আইনগত অনুমোদনের পর প্রশিক্ষণ, দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তা ও বাজেটসহ কার্যক্রম চালু করতে হবে।

ত্রৈমাসিকভাবে পরিচয় গোপন রেখে আবেদনের সংখ্যা, সিদ্ধান্তের সময়, অনুমোদন ও প্রত্যাখ্যান, পর্যালোচনার ফল এবং সিদ্ধান্তের আগেই স্বজন মারা যাওয়ার সংখ্যা প্রকাশ করা উচিত। ছয় মাস পরে স্বাধীন মূল্যায়নে দেখা দরকার—সুযোগটি সময়মতো পাওয়া যাচ্ছে কি না, জেলাভেদে অযৌক্তিক বৈষম্য আছে কি না এবং নিরাপত্তা ব্যবস্থা কার্যকর কি না।

৬. শেষ বিদায়ের আগে শেষ সাক্ষাতের অধিকারবোধ

চিন্ময় কৃষ্ণ দাসকে মায়ের শেষকৃত্যে অংশ নেওয়ার সুযোগ দেওয়ার মানবিক মূল্য আছে। সেই সিদ্ধান্ত স্বীকার করেই আগের প্রশ্নটি করা যায়: মা জীবিত থাকা অবস্থায় সাক্ষাতের সম্ভাবনা কতটা গুরুত্ব দিয়ে বিবেচনা করা হয়েছিল?

কোনো কর্মকর্তা অপর্যাপ্ত বিধি সঠিকভাবে প্রয়োগ করে থাকতে পারেন। আবার বিদ্যমান সুযোগ যথাযথভাবে বিবেচিত না-ও হয়ে থাকতে পারে। নথি পরীক্ষা ছাড়া একটিকে সত্য ধরে নেওয়া ন্যায়সংগত নয়। তবে উভয় সম্ভাবনাই একটি সংস্কারের প্রয়োজন সামনে আনে—যাতে মানবিকতা ব্যক্তিগত সাহস, রাজনৈতিক সংকেত বা ব্যতিক্রমী পরিচয়ের ওপর নির্ভর না করে।

আজ আলোচনায় একজন পরিচিত ধর্মীয় ব্যক্তিত্ব। একই নিয়ম আগামীকাল একজন অচেনা বিচারাধীন শ্রমিক, কৃষক, শিক্ষার্থী বা নারীর জন্যও কাজ করতে হবে। যে ব্যবস্থায় প্রভাবশালীর আবেদন দ্রুত চলে আর দরিদ্রের আবেদন পড়ে থাকে, সেটি মানবিক নীতি নয়; অসম সুযোগের ব্যবস্থা।

একটি ন্যায়ভিত্তিক রাষ্ট্র অপরাধের বিচার করবে, নিরাপত্তা নিশ্চিত করবে এবং একই সঙ্গে মনে রাখবে—হেফাজতে থাকা মানুষটিরও পরিবার আছে। তাঁর জীবনের সব সম্পর্ক অভিযোগপত্রের সঙ্গে বিলুপ্ত হয়ে যায় না।

রাষ্ট্রের মমতা যেন মৃত্যুসনদের অপেক্ষায় না থাকে। শেষকৃত্যের অনুমতির পাশাপাশি জীবিত মানুষের শেষ সাক্ষাতের সম্ভাবনাও আইনের ভেতরে জায়গা পাক।

তথ্যসূত্র, পদ্ধতি ও সীমাবদ্ধতা

এই নিবন্ধ একটি সংবাদ ও নথিভিত্তিক নীতি বিশ্লেষণ; মৌলিক মাঠগবেষণা বা সমীক্ষা নয়। তিনটি সরবরাহকৃত সংবাদ-পিডিএফ এবং নিচে উল্লিখিত আইনি পাঠের ভিত্তিতে যুক্তি নির্মাণ করা হয়েছে। সংবাদে বর্ণিত ঘটনা, আন্তর্জাতিক মানদণ্ড, লেখকের মূল্যায়ন ও প্রস্তাবিত সংস্কার আলাদা রাখা হয়েছে।

  1. ৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬, রাত ৮টা ১ মিনিট: “অসুস্থ মাকে দেখতে চিন্ময়ের প্যারোল চেয়ে আবেদন, সুযোগ নেই বলছে প্রশাসন”—চট্টগ্রাম ব্যুরো; সরবরাহকৃত পিডিএফ। আবেদন, পরিবারের আইসিইউ-সংক্রান্ত বক্তব্য ও মৌখিক প্রশাসনিক অবস্থানের সূত্র। পিডিএফে উদ্ধারযোগ্য নিবন্ধ-লিংক নেই; প্রকাশকের পরিচয় এখানে স্বাধীনভাবে নিশ্চিত করা হয়নি।
  2. দৈনিক পূর্বকোণ, ১০ সেপ্টেম্বর ২০২৬, রাত ৯টা ৩ মিনিট: “মায়ের শেষকৃত্যে কান্নায় ভেঙে পড়লেন চিন্ময় কৃষ্ণ দাস”। সরবরাহকৃত পিডিএফ পর্যালোচিত; তার লিংক থেকে নিবন্ধের ঠিকানা উদ্ধার করা হয়েছে। মূল প্যারোল আদেশ পাওয়া যায়নি।
  3. এবিপি লাইভ বাংলা, ১১ সেপ্টেম্বর ২০২৬; হালনাগাদ সকাল ১০টা ১৯ মিনিট, ভারতীয় সময়: নিবেদিতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের প্রতিবেদন, “Chinmoy Krishna Das: ‘বাবা মারা গেলেন, আমাকে শেষবার দেখতে পেলেন না’ চিন্ময়কৃষ্ণের মায়ের মৃত্যুর পর তসলিমা লিখলেন...”। সরবরাহকৃত পিডিএফে প্রকাশিত বক্তব্যের সারাংশ ব্যবহৃত; মূল পোস্ট স্বাধীনভাবে যাচাই করা হয়নি।
  4. জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদ, A/RES/70/175: নেলসন ম্যান্ডেলা রুলসের মূল জাতিসংঘ পাঠ, পেনাল রিফর্ম ইন্টারন্যাশনালে সংরক্ষিত অনুলিপি; গৃহীত ১৭ ডিসেম্বর ২০১৫। প্রাসঙ্গিক অংশ: প্রস্তাবের ৮ অনুচ্ছেদ, প্রাথমিক পর্যবেক্ষণ ৩ এবং বিধি ৫৮ ও ৭০; মুদ্রিত পৃষ্ঠা ৫, ৭, ২০ ও ২২।
  5. বাংলাদেশের সংবিধান: Constitute-এ সংরক্ষিত সাংবিধানিক পাঠ, ২০১৪ সংশোধনভিত্তিক সংস্করণ। আলোচিত অনুচ্ছেদ: ২৭, ২৮, ৩১, ৩২ ও ৩৫(৩)। সরকারি আইনভান্ডারের পৃষ্ঠা থেকে আগের যাচাইয়ে পাঠযোগ্য বিষয়বস্তু পাওয়া যায়নি। ব্যবহৃত অনুলিপি সেপ্টেম্বর ২০২৬ পর্যন্ত সব সংশোধন বা সম্পূর্ণ সাংবিধানিক অবস্থানের প্রত্যয়ন নয়।

মূল আবেদন, প্রত্যাখ্যানের লিখিত আদেশ, চিকিৎসা বোর্ডের নথি, নিরাপত্তা মূল্যায়ন, সম্পূর্ণ জামিন-সংক্রান্ত আদেশ এবং বর্তমানে প্রযোজ্য প্যারোল নির্দেশনার সত্যায়িত পাঠ না থাকায় ঘটনাটির চূড়ান্ত আইনি বৈধতা নির্ধারণ করা হয়নি। প্রস্তাবিত সময়সীমা ও বাস্তবায়নসূচি লেখকের সুপারিশ; বিদ্যমান সরকারি মানদণ্ড নয়।

No comments:

Post a Comment

Please validate CAPTCHA