Skip to main content
Breaking NewsDeveloping public-interest story

Latest

Saturday, October 31, 2026

Reading time

ডিভি লটারি ছাড়াই সপরিবারে আমেরিকান গ্রিন কার্ড?

Civic Vision Bangladesh (CVB) | জনসচেতনতামূলক অভিবাসন বিশ্লেষণ

ডিভি লটারি ছাড়াই সপরিবারে আমেরিকান গ্রিন কার্ড? EB-3 ভিসার বাস্তব চিত্র, বর্তমান পরিস্থিতি, খরচ ও প্রতারণা এড়ানোর উপায়

প্রকাশনায়: আন্তর্জাতিক অভিবাসন, আইনি দিকনির্দেশনা ও তথ্য সহায়তা সেল | Civic Vision Bangladesh
তথ্য সর্বশেষ হালনাগাদ: ৩০ অক্টোবর ২০২৬

২০১২ সাল থেকে বাংলাদেশের নাগরিকেরা ডিভি (Diversity Visa) লটারিতে অংশ নিতে পারছেন না। এই সুযোগে “গ্রিন কার্ড নিশ্চিত” বলে প্রচারণা চালিয়ে অনেককে বিভ্রান্ত ও সর্বস্বান্ত করা হচ্ছে। মার্কিন ইমিগ্রেশন অ্যান্ড ন্যাশনালিটি অ্যাক্ট (INA) অনুযায়ী EB-3 (Employment-Based Third Preference) কর্মসংস্থানভিত্তিক স্থায়ী বসবাসের একটি সম্পূর্ণ বৈধ পথ। তবে এটি দীর্ঘ, ব্যয়বহুল, মার্কিন নিয়োগকর্তার ওপর নির্ভরশীল এবং এতে কোনো ফলাফলের গ্যারান্টি নেই। এই নিবন্ধে প্রক্রিয়া, খরচ, বাস্তবসম্মত সময়, বর্তমান নীতিগত পরিস্থিতি ও প্রতারণা চেনার উপায় তুলে ধরা হলো।

১. EB-3 ভিসা কী এবং এর আওতায় কারা পড়েন?

যুক্তরাষ্ট্র প্রতি অর্থবছর সীমিত সংখ্যক দক্ষ, পেশাজীবী ও সাধারণ কর্মীকে চাকরির ভিত্তিতে গ্রিন কার্ড দেয়। এই ভিসার বড় সুবিধা হলো, মূল আবেদনকারীর সঙ্গে তাঁর স্বামী/স্ত্রী এবং ২১ বছরের কম বয়সী অবিবাহিত সন্তানেরাও একই ক্যাটাগরিতে স্থায়ী বাসিন্দার মর্যাদা পেতে পারেন। তবে প্রত্যেক সদস্যকে আলাদাভাবে ফি, মেডিকেল পরীক্ষা ও ভিসা সাক্ষাৎকারের ধাপ পার হতে হয়। সন্তানের বয়স ২১ পূর্ণ হওয়ার কাছাকাছি হলে বয়স-সুরক্ষা আইন (CSPA) প্রযোজ্য হবে কি না, তা অবশ্যই আইনজীবীর কাছে যাচাই করুন।

EB-3 ক্যাটাগরি তিনটি উপ-বিভাগে বিভক্ত:

  • EB-3 (A) দক্ষ কর্মী (Skilled Workers): পদটির জন্য ন্যূনতম ২ বছরের প্রশিক্ষণ বা কাজের অভিজ্ঞতা আবশ্যক এবং আবেদনকারীর তা থাকতে হবে। চাকরিটি অবশ্যই স্থায়ী ও ফুল-টাইম (মৌসুমি নয়) হতে হবে।
  • EB-3 (B) পেশাজীবী (Professionals): পদটির ন্যূনতম শর্ত হিসেবে মার্কিন ব্যাচেলর ডিগ্রি বা তার সমতুল্য বিদেশি ডিগ্রি থাকতে হবে (যেমন: প্রকৌশল, হিসাববিজ্ঞান, শিক্ষা, আইটি)। সাধারণত বাংলাদেশের ৪ বছর মেয়াদি অনার্স ডিগ্রি গ্রহণযোগ্য ধরা হয়, কিন্তু ৩ বছরের পাস কোর্স ডিগ্রির সমতুল্যতা নিয়ে জটিলতা হতে পারে। তাই আবেদনের আগে পেশাদার ক্রেডেনশিয়াল মূল্যায়ন করিয়ে নেওয়া বুদ্ধিমানের কাজ।
  • EB-3 (C) সাধারণ কর্মী (Other Workers): ২ বছরের কম প্রশিক্ষণ বা অভিজ্ঞতার কাজ, যেমন ফুড প্রসেসিং, ওয়্যারহাউস, কেয়ারগিভিং, হাউসকিপিং ও সাধারণ সেবা খাত। এই উপ-বিভাগে বার্ষিক ভিসা-সংখ্যা সীমিত এবং অপেক্ষার সারি সবচেয়ে দীর্ঘ (বিস্তারিত ৫ নম্বর অংশে)।

২. প্রাথমিক শর্ত ও মার্কিন নিয়োগকর্তার গুরুত্ব

অনেকে মনে করেন ট্যুরিস্ট ভিসার মতো EB-3-তেও নিজে আবেদন করা যায়। এটি মারাত্মক ভুল ধারণা। EB-3 কোনো সেলফ-পিটিশন ভিসা নয়; কোনো ব্যক্তি নিজের জন্য এই পিটিশন দাখিল করতে পারেন না। মৌলিক শর্তগুলো হলো:

  • বৈধ ও বাস্তব নিয়োগকর্তা (US Employer): যুক্তরাষ্ট্রে আইনসম্মতভাবে পরিচালিত কোনো প্রতিষ্ঠানকে স্থায়ী, ফুল-টাইম চাকরির প্রকৃত অফার দিতে হবে এবং অভিবাসন পিটিশন দাখিল করতে হবে।
  • ন্যায্য মজুরি (Prevailing Wage): মার্কিন শ্রম দপ্তর (DOL) নির্ধারিত এলাকাভিত্তিক মজুরির কম বেতন দেওয়া যাবে না।
  • বেতন পরিশোধের সক্ষমতা (Ability to Pay): নিয়োগকর্তাকে কর-রিটার্ন ও আর্থিক বিবরণীর মাধ্যমে প্রমাণ করতে হবে যে তিনি প্রস্তাবিত বেতন নিয়মিত দিতে সক্ষম।
  • আবেদনকারীর যোগ্যতা: চাকরির শর্ত (শিক্ষা ও অভিজ্ঞতা) আবেদনকারীকে PERM দাখিলের তারিখেই পূরণ করতে হয়। গুরুতর অপরাধের রেকর্ড বা স্বাস্থ্যগত অযোগ্যতা থাকলে ভিসা আটকে যেতে পারে।

বাস্তব সতর্কতা: মার্কিন নিয়োগকর্তাকে সময়সাপেক্ষ, ব্যয়বহুল ও জটিল প্রক্রিয়ায় নামতে রাজি হতে হয়। তাই বাংলাদেশ থেকে অপরিচিত নিয়োগকর্তার কাছ থেকে প্রকৃত EB-3 স্পনসরশিপ পাওয়া সহজ নয়, বিশেষ করে সাধারণ কর্মীর ক্ষেত্রে। নার্স ও ফিজিক্যাল থেরাপিস্টের মতো কিছু পেশা “Schedule A”-এর আওতায় পড়ায় সেখানে PERM-এর রিক্রুটমেন্ট ধাপ লাগে না। তবুও চাকরির প্রকৃত অফার ছাড়া কোনো পথই কার্যকর নয়।

৩. ধাপে ধাপে EB-3 আবেদন প্রক্রিয়া

প্রক্রিয়াটি মার্কিন সরকারের তিনটি সংস্থার (শ্রম দপ্তর, USCIS ও স্টেট ডিপার্টমেন্ট) তত্ত্বাবধানে চারটি প্রধান ধাপে সম্পন্ন হয়:

ধাপ ১: প্রিভেইলিং ওয়েজ ডিটারমিনেশন (PWD) ও রিক্রুটমেন্ট

নিয়োগকর্তা প্রথমে DOL-এ Form ETA-9141 দিয়ে পদটির ন্যূনতম মজুরি নির্ধারণ করান। এরপর আইনানুযায়ী পত্রিকা, জব ব্যাংক ও অন্যান্য মাধ্যমে বিজ্ঞাপন দিয়ে প্রমাণ করতে হয় যে ওই পদের জন্য কোনো যোগ্য ও ইচ্ছুক মার্কিন কর্মী পাওয়া যায়নি। বিজ্ঞাপন পর্ব শেষে কমপক্ষে ৩০ দিনের নীরব সময় (quiet period) পার করতে হয়।

ধাপ ২: PERM লেবার সার্টিফিকেশন (Form ETA-9089)

রিক্রুটমেন্ট শেষে নিয়োগকর্তা DOL-এ PERM আবেদন দাখিল করেন। DOL নথি যাচাই করে লেবার সার্টিফিকেশন অনুমোদন করে। এই আবেদন দাখিলের তারিখই আপনার প্রায়োরিটি ডেট (Priority Date), যা ভিসা বুলেটিনে আপনার সিরিয়াল নির্ধারণ করে। বর্তমানে এই ধাপেই সবচেয়ে বেশি সময় লাগছে; অডিট হলে সময় আরও বাড়ে।

ধাপ ৩: USCIS-এ Form I-140 ইমিগ্র্যান্ট পিটিশন

লেবার সার্টিফিকেশন অনুমোদনের পর ১৮০ দিনের মধ্যে USCIS-এ Form I-140 দাখিল করতে হয়। এখানে আবেদনকারীর শিক্ষা, অভিজ্ঞতা ও নিয়োগকর্তার আর্থিক সক্ষমতা যাচাই করা হয়। ঐচ্ছিক প্রিমিয়াম প্রসেসিংয়ে USCIS ১৫ কার্যদিবসের মধ্যে সিদ্ধান্ত অথবা অতিরিক্ত প্রমাণ চেয়ে নোটিশ (RFE) দেয়। I-140 অনুমোদন মানে এখনো গ্রিন কার্ড নয়; এটি কেবল ভিসা-সারিতে দাঁড়ানোর অনুমতি।

ধাপ ৪: NVC প্রসেসিং ও ঢাকা মার্কিন দূতাবাসে সাক্ষাৎকার

I-140 অনুমোদিত হলে ফাইল ন্যাশনাল ভিসা সেন্টারে (NVC) যায়। মাসিক ভিসা বুলেটিনে আপনার প্রায়োরিটি ডেট “কারেন্ট” হলে ফি পরিশোধ, Form DS-260 পূরণ এবং পুলিশ ক্লিয়ারেন্সসহ পারিবারিক নথি আপলোড করতে হয়। এরপর ঢাকায় মেডিকেল পরীক্ষা ও দূতাবাসে চূড়ান্ত সাক্ষাৎকারের মাধ্যমে ইমিগ্র্যান্ট ভিসা দেওয়া হয়। সাক্ষাৎকারে কনস্যুলার কর্মকর্তা চাকরির বাস্তবতা, আবেদনকারীর যোগ্যতা ও পাবলিক চার্জ (সরকারি সহায়তার ওপর নির্ভরশীলতা) সংক্রান্ত বিষয়ে প্রশ্ন করতে পারেন।

৪. বর্তমান পরিস্থিতি: ২০২৬-এর নীতিগত পরিবর্তন (৩০ অক্টোবর ২০২৬ পর্যন্ত)

  • ৭৫ দেশের অভিবাসী ভিসা স্থগিতাদেশ: ২১ জানুয়ারি ২০২৬ থেকে বাংলাদেশসহ ৭৫টি দেশের নাগরিকদের অভিবাসী ভিসা ইস্যু স্থগিত রাখা হয়েছিল। ২১ আগস্ট ২০২৬ নিউ ইয়র্কের একটি ফেডারেল আদালত (CLINIC v. Rubio মামলা) এই নীতি অবৈধ ঘোষণা করে, এবং স্টেট ডিপার্টমেন্ট জানিয়েছে স্থগিতাদেশ আর কার্যকর নেই।
  • প্রক্রিয়া এখনো ধীর: আদালতে দাখিল করা সরকারি তথ্য অনুযায়ী ২১ আগস্ট থেকে ৩০ সেপ্টেম্বরের মধ্যে ক্ষতিগ্রস্ত আবেদনের মধ্যে ৭০৬টি নিষ্পত্তি হয়েছে, যার মধ্যে অনুমোদন বা ভিসা ইস্যু হয়েছে ৩১৮টি। এ ছাড়া সরকার আপিল করেছে বলে প্রতিবেদন আছে; উচ্চ আদালতের আদেশে পরিস্থিতি আবার বদলাতে পারে।
  • করণীয়: কোনো ফি বা চুক্তির আগে ঢাকা মার্কিন দূতাবাস ও travel.state.gov-এর সর্বশেষ ঘোষণা মিলিয়ে নিন। “ভিসা কোনো বাধা নেই” বা “দূতাবাসে আমাদের লোক আছে” জাতীয় আশ্বাস যে-ই দিক, তা বিশ্বাস করবেন না।

৫. সরকারি ফি ও খরচের বাস্তব চিত্র

নিচে প্রধান সরকারি ফিগুলো দেওয়া হলো। ফি পরিবর্তনশীল, তাই পরিশোধের আগে USCIS ফি পেজ ও travel.state.gov-এ যাচাই করুন।

EB-3 প্রক্রিয়ার প্রধান সরকারি ফি (মার্কিন ডলারে)
ধাপ ও ফির বিবরণ নির্ধারিত সরকারি পরিমাণ সাধারণত কার প্রদেয়?
DOL PWD ও PERM ফাইলিং $০ (কোনো সরকারি ফি নেই) বিজ্ঞাপন ও আইনি খরচ নিয়োগকর্তা বহন করবেন
USCIS Form I-140 মূল ফি $৭১৫ সাধারণত নিয়োগকর্তা
Asylum Program Fee (I-140-এর সঙ্গে) $৬০০ (ছোট নিয়োগকর্তা, ২৫ জনের কম ফুল-টাইম কর্মী: $৩০০; অলাভজনক সংস্থা: $০) নিয়োগকর্তা (পিটিশনার)
Premium Processing (Form I-907, ঐচ্ছিক) $২,৯৬৫ (১ মার্চ ২০২৬ থেকে কার্যকর) যে পক্ষ দ্রুত প্রসেসিং চায়, সাধারণত নিয়োগকর্তা
অভিবাসী ভিসা আবেদন ফি (DS-260, NVC) $৩৪৫ (জনপ্রতি) আবেদনকারী (পরিবারের প্রতিটি সদস্যের জন্য)
মেডিকেল পরীক্ষা (ঢাকার অনুমোদিত প্যানেল ক্লিনিক) ক্লিনিকের নির্ধারিত ফি (জনপ্রতি; দূতাবাসের তালিকা ও সর্বশেষ ফি যাচাই করুন) আবেদনকারী সরাসরি ক্লিনিকে দেবেন
USCIS Immigrant Fee (গ্রিন কার্ড ইস্যু ফি) $২৩৫ (জনপ্রতি) আবেদনকারী; ভিসা পাওয়ার পর, যুক্তরাষ্ট্রে প্রবেশের আগে

আইনজীবী ও “কনসালট্যান্সি” ফি নিয়ে সতর্কতা: PERM-সংক্রান্ত আইনি ও বিজ্ঞাপন খরচ নিয়োগকর্তারই বহন করার কথা। পরবর্তী ধাপে নিজের নথিপত্র, ক্রেডেনশিয়াল মূল্যায়ন বা DS-260 সহায়তার জন্য আপনি আলাদা আইনজীবী নিলে সেই খরচ আপনার। কিন্তু “স্পনসর ম্যাচিং”, “জব প্লেসমেন্ট” বা “ভিসা নিশ্চিতকরণ”-এর নামে কয়েক হাজার বা কয়েক লাখ টাকার প্যাকেজ চাওয়া সবচেয়ে বড় রেড ফ্ল্যাগ। কারও সঙ্গে আর্থিক চুক্তির আগে মার্কিন অ্যাটর্নির বার-লাইসেন্স স্বাধীনভাবে যাচাই করুন এবং বাংলাদেশে বিদেশে কর্মী পাঠানোর ক্ষেত্রে সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানের সরকারি (BMET) রিক্রুটিং লাইসেন্স আছে কি না দেখুন।

গুরুত্বপূর্ণ মার্কিন শ্রম বিধান (20 CFR § 656.12): মার্কিন শ্রম বিধি অনুযায়ী PERM লেবার সার্টিফিকেশন-সংক্রান্ত কাজের জন্য নিয়োগকর্তা কর্মীর কাছ থেকে কোনো ধরনের অর্থ চাইতে বা নিতে পারেন না। এর মধ্যে বিজ্ঞাপন খরচ ও নিয়োগকর্তার নিজস্ব অ্যাটর্নি ফিও পড়ে। এমন অর্থ দাবি বা গ্রহণ নিয়ম লঙ্ঘন; এতে আবেদন প্রত্যাখ্যাত বা বাতিল হতে পারে এবং নিয়োগকর্তার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হতে পারে।

৬. বাস্তবসম্মত সময়সীমা: কতদিন অপেক্ষা করতে হয়?

সময় নির্ভর করে DOL-এর গতি এবং স্টেট ডিপার্টমেন্টের মাসিক ভিসা বুলেটিনের ওপর। বাংলাদেশের নাগরিকেরা বুলেটিনে “All Chargeability Areas” কলামে পড়েন (চীন, ভারত বা ফিলিপাইনের মতো আলাদা ব্যাকলগ নেই)। প্রতিটি ধাপের বর্তমান ধারণা:

  • PWD: প্রায় ৩ থেকে ৮ মাস।
  • রিক্রুটমেন্ট ও নীরব সময়: প্রায় ২ থেকে ৪ মাস।
  • PERM বিশ্লেষণ (DOL): বর্তমান গড় প্রায় ১১ থেকে ১৩ মাস (অক্টোবর ২০২৬-এ গড় ৩৩৬ দিন); অডিট হলে আরও দীর্ঘ।
  • Form I-140: প্রিমিয়ামে ১৫ কার্যদিবসের মধ্যে সিদ্ধান্ত/RFE; সাধারণ প্রসেসিংয়ে কয়েক মাস।
  • ভিসা বুলেটিনের অপেক্ষা: প্রায়োরিটি ডেট (PERM দাখিলের তারিখ) থেকে গণনা হয়, তাই এটি PERM ও I-140-এর সময়ের সঙ্গে আংশিক মিলে যায়।

নভেম্বর ২০২৬ ভিসা বুলেটিনের চিত্র (All Chargeability Areas): EB-3 দক্ষ কর্মী ও পেশাজীবীর Final Action Date ১৫ জুন ২০২৪, আর EB-3 Other Workers-এর ১ জুন ২০২২। অর্থাৎ বর্তমানে সংশ্লিষ্ট সারি প্রায়োরিটি ডেটের তুলনায় যথাক্রমে প্রায় ২ বছর ৪ মাস এবং প্রায় ৪ বছর ৫ মাস পিছিয়ে। এই ব্যবধান প্রতি মাসে বদলায় এবং কখনো কখনো পিছিয়েও যায়। তাই সামগ্রিক হিসাব নিশ্চয়তা নয়, কেবল ধারণা:

  • EB-3 (A) ও (B): শুরু থেকে গ্রিন কার্ড পর্যন্ত সাধারণত প্রায় ৩.৫ থেকে ৫ বছর।
  • EB-3 (C) Other Workers: সাধারণত ৫.৫ বছর বা তার বেশি।

যে এজেন্সি বা ব্যক্তি “১ বছরে” বা “৬ মাসে” গ্রিন কার্ড দেওয়ার কথা বলে, তার প্রস্তাব সরাসরি প্রতারণা।

৭. প্রতারণার ফাঁদ ও রেড ফ্ল্যাগ (Red Flags)

ভিসা পাওয়ার আকুলতাকে পুঁজি করে একশ্রেণির চক্র সাধারণ মানুষকে বিভ্রান্ত করছে। নিচের লক্ষণ দেখলে তৎক্ষণাৎ সতর্ক হোন:

  1. “১ বছরে গ্রিন কার্ড” বা “গ্যারান্টেড ভিসা”: সরকারি প্রক্রিয়া ও ভিসা বুলেটিনের কারণে এটি অসম্ভব। যেকোনো গ্যারান্টি দেওয়াই প্রতারণার লক্ষণ।
  2. চাকরি বিক্রি বা অগ্রিম মোটা অঙ্কের টাকা: বৈধ প্রক্রিয়ায় নিয়োগকর্তাই PERM-এর খরচ বহন করেন; আবেদনকারীর কাছে তা চাওয়া নিয়মবিরুদ্ধ।
  3. অস্তিত্বহীন নিয়োগকর্তা: প্রতিষ্ঠানের আইনি নাম, ঠিকানা, রাজ্যের ব্যবসা-নিবন্ধন (Secretary of State রেকর্ড) ও ওয়েবসাইট যাচাই করুন।
  4. জাল কাজের চুক্তি বা নথি: কনস্যুলার কর্মকর্তারা নিয়োগকর্তার সত্যতা গভীরভাবে যাচাই করেন। প্রতারণার প্রমাণ পেলে আজীবন মার্কিন প্রবেশ-নিষেধাজ্ঞা (permanent inadmissibility) হতে পারে।
  5. “দূতাবাস বা USCIS-এ আমাদের লোক আছে” দাবি: এসব সংস্থার সিদ্ধান্ত কেনা যায় না; এমন দাবি প্রতারণার ফাঁদ।
  6. ভিজিট বা ট্যুরিস্ট ভিসায় গিয়ে পরে “EB-3 করে দেওয়া”: এটি অভিবাসন আইন লঙ্ঘনের ঝুঁকি তৈরি করে এবং ভবিষ্যৎ ভিসা বাতিল করতে পারে।
  7. নগদ লেনদেন ও রসিদহীন চুক্তি: ব্যক্তিগত নগদ লেনদেন এড়িয়ে ব্যাংক চ্যানেল ব্যবহার করুন এবং লিখিত চুক্তি ও প্রতিটি অর্থের রসিদ রাখুন।

নিজে যাচাই করার সহজ উপায়

  • কেউ I-140 বা অন্য কোনো USCIS রিসিপ্ট নম্বর দিলে USCIS-এর অনলাইন Case Status টুলে নম্বরটি যাচাই করুন।
  • NVC কেস নম্বর স্টেট ডিপার্টমেন্টের CEAC পোর্টালে দেখে নিন।
  • মার্কিন অ্যাটর্নির রাজ্য-বার সদস্যপদ ওই রাজ্যের বার অ্যাসোসিয়েশনের ওয়েবসাইটে যাচাই করুন।
  • প্রতারিত হলে প্রমাণসহ স্থানীয় আইনশৃঙ্খলা বাহিনী ও BMET-কে জানান এবং ঢাকা মার্কিন দূতাবাসের ফ্রড-সংক্রান্ত নির্দেশনা দেখুন।

৮. সচরাচর জিজ্ঞাসা (FAQ)

আমি কি নিজে EB-3 ভিসার জন্য আবেদন করতে পারি?

না। EB-3-এ একজন মার্কিন নিয়োগকর্তাকে আপনার জন্য পিটিশন করতে হয়। আপনি নিজে পিটিশনার হতে পারেন না।

পরিবার কি একসঙ্গে গ্রিন কার্ড পাবে?

হ্যাঁ, স্বামী/স্ত্রী ও ২১ বছরের কম বয়সী অবিবাহিত সন্তান একই ক্যাটাগরিতে অন্তর্ভুক্ত হতে পারেন। তবে প্রত্যেককে নিজ নিজ ফি, মেডিকেল ও সাক্ষাৎকারের ধাপ পার হতে হয়।

কোনো এজেন্সিকে টাকা দিলে কি স্পনসর পাওয়া যায়?

না। স্পনসর কেনা বা বিক্রি করা যায় না, আর PERM-এর খরচ আবেদনকারীর কাছ থেকে নেওয়া মার্কিন বিধি অনুযায়ী নিষিদ্ধ। এমন প্রস্তাব এলে সেটিকে প্রতারণার সংকেত হিসেবে ধরুন।

সবচেয়ে বাস্তব সময়সীমা কত?

বর্তমান ভিসা বুলেটিন অনুযায়ী দক্ষ কর্মী ও পেশাজীবীদের জন্য সাধারণত ৩.৫ থেকে ৫ বছর এবং সাধারণ কর্মীদের জন্য ৫.৫ বছর বা তার বেশি লাগতে পারে। সময় মাসে মাসে বদলায়।

প্রাসঙ্গিক সরকারি ও আইনি রেফারেন্স লিংকসমূহ:

দ্রষ্টব্য: এই নিবন্ধ সাধারণ তথ্য ও জনসচেতনতার উদ্দেশ্যে প্রকাশিত; এটি আইনি পরামর্শ নয়। অভিবাসন আইন, ফি ও ভিসা বুলেটিন প্রায়ই পরিবর্তিত হয়। কোনো সিদ্ধান্ত বা অর্থ লেনদেনের আগে লাইসেন্সপ্রাপ্ত মার্কিন ইমিগ্রেশন অ্যাটর্নির পরামর্শ নিন।

আন্তর্জাতিক অভিবাসন ও আইনি দিকনির্দেশনা সেল

যুক্তরাষ্ট্রে বৈধ অভিবাসন প্রক্রিয়া সম্পর্কে সাধারণ দিকনির্দেশনা ও প্রতারণা শনাক্তকরণে তথ্য সহায়তার জন্য যোগাযোগ করতে পারেন।

Civic Vision Bangladesh (CVB)
ইমেইল: info.hrdefender@gmail.com

No comments:

Post a Comment

Please validate CAPTCHA