মেড ইন ইন্ডিয়া: ইসরায়েলে অস্ত্র ও গোলাবারুদ সরবরাহ
ভারতের প্রতিরক্ষা-শিল্প নেক্সাস, রাষ্ট্রীয় দায়বদ্ধতা এবং গাজায় সহযোগিতার পূর্বানুমেয় ঝুঁকি
১. প্রেক্ষাপট ও নির্বাহী ভূমিকা: জোট-নিরপেক্ষতা থেকে সহ-উৎপাদনে
এই অনুসন্ধানের কেন্দ্রে রয়েছে একটি ফরেনসিক তথ্য: অ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনালের বিশ্লেষণ অনুযায়ী, ৭ অক্টোবর ২০২৩ থেকে ৩০ নভেম্বর ২০২৫ পর্যন্ত ভারতীয় প্রতিষ্ঠানগুলো ইসরায়েলে ২,৫৯৬টি চালান পাঠিয়েছে — ছোট অস্ত্র, গোলাবারুদ এবং সামরিক যানবাহনের যন্ত্রাংশ। এর মধ্যে ৭৮৮টি চালানকে দ্ব্যর্থহীনভাবে সামরিক ব্যবহারের বলে চিহ্নিত করা হয়েছে, যার মধ্যে রয়েছে কমপক্ষে ৩,৯০,৫১৬টি ছোট অস্ত্রের যন্ত্রাংশ, ৫,৬৪,৯৭০টি বিস্ফোরক গোলাবারুদের যন্ত্রাংশ এবং ২৯৮টি সামরিক যানবাহনের উপাদান।
এই সংখ্যা ইচ্ছাকৃতভাবে রক্ষণশীল। শত শত দ্বৈত-ব্যবহারযোগ্য চালান, যেখানে বেসামরিক ব্যবহারের সম্ভাবনা উড়িয়ে দেওয়া যায়নি, বাদ দেওয়া হয়েছে। HS কোড ৯৩০১-৯৩০৭ এবং ৮৭১০ এর বাইরের চালানও অন্তর্ভুক্ত নয়। প্রকৃত বাণিজ্যের পরিমাণ এর চেয়ে অনেক বেশি।
এই সরবরাহকে দুটি ঐতিহাসিক ছেদের প্রেক্ষাপটে দেখতে হবে। প্রথমত, গাজা। ১ জুলাই ২০২৬ পর্যন্ত গাজার স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের তথ্য অনুযায়ী ৭৩,০০০ এর বেশি ফিলিস্তিনি নিহত এবং ১,৭৩,৫০০ আহত। অ্যামনেস্টি (ডিসেম্বর ২০২৪) এবং জাতিসংঘের স্বাধীন তদন্ত কমিশন (সেপ্টেম্বর ২০২৫) ইসরায়েলের কর্মকাণ্ডকে গাজায় গণহত্যা, বর্ণবাদী ব্যবস্থা এবং অবৈধ দখলদারিত্ব হিসেবে চিহ্নিত করেছে।
দ্বিতীয়ত, আইনগত ছেদ — আন্তর্জাতিক বিচার আদালত (ICJ)। ২৬ জানুয়ারি ২০২৪ তারিখে South Africa v. Israel মামলায় ICJ গণহত্যার বাস্তব ঝুঁকি স্বীকার করে বাধ্যতামূলক অন্তর্বর্তীকালীন ব্যবস্থা জারি করে। ৩০ এপ্রিল ২০২৪ তারিখে Nicaragua v. Germany মামলায় আদালত স্পষ্টভাবে সব রাষ্ট্রকে স্মরণ করিয়ে দেয় — সশস্ত্র সংঘাতে জড়িত পক্ষের কাছে অস্ত্র হস্তান্তরের ক্ষেত্রে তাদের আন্তর্জাতিক বাধ্যবাধকতা রয়েছে। জুলাই ২০২৪-এর উপদেষ্টা মতামতে ICJ ফিলিস্তিনি ভূখণ্ডে ইসরায়েলের উপস্থিতিকে অবৈধ ঘোষণা করে এবং তৃতীয় রাষ্ট্রগুলোকে সহায়তা না দেওয়ার বাধ্যবাধকতা আরোপ করে।
এই পটভূমিতে ভারতের অবস্থান একটি ঐতিহাসিক উল্টোপথ। যে প্রজাতন্ত্র জোট-নিরপেক্ষ আন্দোলনের নেতৃত্ব দিয়েছিল, ১৯৭৪ সালে PLO-কে এবং ১৯৮৮ সালে ফিলিস্তিন রাষ্ট্রকে স্বীকৃতি দিয়েছিল, ১৯৯২ সাল পর্যন্ত ইসরায়েলের সাথে পূর্ণ কূটনৈতিক সম্পর্ক স্থাপন থেকে বিরত ছিল — সেই ভারতই আজ ইসরায়েলের সামরিক-শিল্প কমপ্লেক্সের সহ-উৎপাদক হয়ে উঠেছে। এটি কার্গিল-পরবর্তী আমদানি নির্ভরতা নয়; এটি রাষ্ট্রীয় পৃষ্ঠপোষকতায় রপ্তানিমুখী উৎপাদন।
১৭তম ভারত-ইসরায়েল যৌথ ওয়ার্কিং গ্রুপ (তেল আবিব, ৪ নভেম্বর ২০২৫) এবং ফেব্রুয়ারি ২০২৬-এর যৌথ বিবৃতি যেখানে “সহ-উন্নয়ন ও সহ-উৎপাদন” জোরদার করার অঙ্গীকার করা হয় — তা গণহত্যার ১৬ মাসের নথিভুক্ত প্রমাণের পর স্বাক্ষরিত হয়েছে। এটি বাণিজ্যিক জড়তা নয়, এটি নীতিগত সিদ্ধান্ত।
২. প্রমাণভিত্তিক সরবরাহ শৃঙ্খল ও উৎপাদন
২.১ পদ্ধতি ও পরিসর
অ্যামনেস্টি দুটি বাণিজ্যিক শিপমেন্ট ডাটাবেস ব্যবহার করেছে, HS অধ্যায় ৯৩ এবং শিরোনাম ৮৭১০-এর আওতায়। আয়রন ডোম-এর মতো প্রতিরক্ষামূলক ইন্টারসেপ্টরের যন্ত্রাংশ ইচ্ছাকৃতভাবে বাদ দেওয়া হয়েছে। তারপরও যা থাকে তা পদ্ধতিগত সরবরাহ:
- HS 930591 — সামরিক অস্ত্রের যন্ত্রাংশ: ৩৫৪ চালান, যার মধ্যে ৩৯টি এয়ার ডিফেন্স বাদ দিলে ৩১৫টি ছোট অস্ত্রের যন্ত্রাংশ।
- HS 930510 — পিস্তল/রিভলভারের যন্ত্রাংশ: ১,৮৩৮ চালান, যার মধ্যে ৫৪টি নিশ্চিতভাবে সামরিক (5.56x45 বোল্ট, 7.62 গ্যাস ব্লক, Negev)।
- HS 930690 — অন্যান্য গোলাবারুদ: ৩৮৯ চালান — আর্টিলারি শেলের বডি, রকেটের যন্ত্রাংশ, ড্রোন ওয়ারহেড।
- HS 8710 — সাঁজোয়া যান: ১৫ চালান।
২.২ মনুষ্যবিহীন আকাশযান: আদানি-এলবিট হায়দ্রাবাদ
আদানি-এলবিট অ্যাডভান্সড সিস্টেমস ইন্ডিয়া লিমিটেড ২০১৬ সালে প্রতিষ্ঠিত, ২০১৮ সালে হায়দ্রাবাদে ভারতের প্রথম বেসরকারি UAV কারখানা উদ্বোধন করে। এর মূল উদ্দেশ্য: Hermes 900 MALE UAV তৈরি, যা ইসরায়েলি বিমান বাহিনী গাজায় নজরদারি ও হামলায় ব্যাপকভাবে ব্যবহার করে। কাস্টমস ডাটায় সম্পূর্ণ সিস্টেম হিসেবে না এলেও, এরোস্ট্রাকচার ও সাবসিস্টেম হিসেবে উৎপাদন ভারতকে এই অস্ত্র ব্যবস্থার উৎপাদন নোডে পরিণত করেছে।
২.৩ রাষ্ট্রীয় ও বেসরকারি গোলাবারুদ কমপ্লেক্স
| ভারতীয় প্রস্তুতকারক | আইনি অবস্থা | হার্ডওয়্যার / উপাদান | ইসরায়েলি অংশীদার | প্রমাণিত পরিমাণ | আইনি ঝুঁকি |
|---|---|---|---|---|---|
| মিউনিশনস ইন্ডিয়া লিমিটেড (MIL) | ১০০% সরকারি DPSU, প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় — সংবিধানের ১২ অনুচ্ছেদ অনুযায়ী ‘রাষ্ট্র’ | ১৫৫ মিমি উচ্চ-বিস্ফোরক (HE) আর্টিলারি শেল | Elbit Systems (IMI Systems) | ১,০০০টি তৈরি গোলা | অতি গুরুতর — সরাসরি রাষ্ট্রীয় দায় |
| অ্যাডভান্সড ওয়েপনস অ্যান্ড ইকুইপমেন্ট ইন্ডিয়া লি. (AWEIL) | ১০০% সরকারি, বৃহৎ ক্যালিবারে ৮০-৯০% বাজার | ৮১ মিমি মর্টার লঞ্চার | Elbit Systems | ১২০টি, ফেব্রুয়ারি ২০২৪ | অতি গুরুতর |
| ইন্ডিয়া অপটেল লিমিটেড (IOL) | ১০০% সরকারি DPSU | ভ্যানাডিয়াম অক্সাইড ৬৪০x৪৮০ IR সেন্সর, টার্গেটিং বোর্ড | SCD — Elbit + Rafael JV | ১৭৮টি আইটেম | অতি গুরুতর — টার্গেটিং সিস্টেম |
| PLR সিস্টেমস প্রাইভেট লি. | আদানি (৫১%) + IWI (৪৯%) JV | Negev লাইট মেশিনগানের ফিডিং ট্রে, বোল্ট ক্যারিয়ার | Israel Weapon Industries | ১০,৫৭১ ফিডিং ট্রে (৩০ চালান), ৩৩,০৩৩ বোল্ট ক্যারিয়ার | উচ্চ — বেসামরিকদের বিরুদ্ধে ব্যবহারের প্রমাণ (CNN জুন ২০২৫) |
| ইন্দো-MIM প্রাইভেট লি. | বেঙ্গালুরু, মেটাল ইনজেকশন মোল্ডিং | অটোমেটিক সিয়ার — ফুল-অটো ফায়ার সক্ষম করে | IWI | ৫৯,৬৩৭টি + ~৪,০০০ আনুমানিক | উচ্চ — শুধুমাত্র সামরিক ব্যবহার |
| কল্যাণী স্ট্র্যাটেজিক সিস্টেমস লি. | ভারত ফোর্জ গ্রুপের সহযোগী | ১৫৫ মিমি আর্টিলারি শেলের বডি/কেসিং | IMI / Elbit | ৯,৬০০ বডি | উচ্চ |
| আলফা এলসেক ডিফেন্স | আলফা ডিজাইন + Elbit JV | ৫ কেজি ওয়ারহেড — SkyStriker লয়টারিং মিউনিশন | Elbit Systems | ১২২ ওয়ারহেড, ডিসে. ২০২৫; খান ইউনিসে ধ্বংসাবশেষ পাওয়া গেছে | উচ্চ — আত্মঘাতী ড্রোন |
| অশোকা ম্যানুফ্যাকচারিং | বেসরকারি, মাঝারি-বৃহৎ ক্যালিবার | কপার লাইনার MT-02-1043 (SCOMET 6A003) | MCT Materials (Elbit & Rafael-এর সরবরাহকারী) | ৩২০ লাইনার | উচ্চ — শেপড চার্জ |
২.৪ লজিস্টিক রুট ও আটক: Marianne Danica ও Borkum
ভারত থেকে ইসরায়েলে গোলাবারুদ পরিবহনের সামুদ্রিক রুটও বিতর্কিত:
- MV Marianne Danica (এপ্রিল-মে ২০২৪): ডেনিশ পতাকাবাহী জাহাজে ২৭ টন বিস্ফোরক — ভারতীয় Premier Explosives ও MIL সাপ্লাই চেইন থেকে — ইসরায়েলের উদ্দেশ্যে যাচ্ছিল, স্পেন ট্রানজিট দিতে অস্বীকার করে।
- MV Borkum (মে ২০২৪): ভারতীয় সামরিক পণ্যবাহী জাহাজ, কার্টাগেনায় বিক্ষোভের মুখে পড়ে। ভারতের জল পরিবহন শ্রমিক ফেডারেশন (১১টি বন্দরে ৩,০০০+ শ্রমিক) ইসরায়েলে অস্ত্র চালান বয়কটের ঘোষণা দেয়।
এই আটক প্রমাণ করে যে তৃতীয় দেশগুলোও heightened due diligence প্রয়োগ করছে, যা উৎপত্তি দেশ ভারত করেনি।
৩. আন্তর্জাতিক আইনি কাঠামো ও রাষ্ট্রীয় দায়বদ্ধতা
৩.১ গণহত্যা কনভেনশন ধারা III(e) — সহযোগিতা এবং Bosnia v. Serbia মানদণ্ড
১৯৪৮ সালের গণহত্যা কনভেনশনের ধারা III(e) গণহত্যায় সহযোগিতাকে অপরাধ হিসেবে গণ্য করে। ভারতের বাধ্যবাধকতা দ্বৈত: ধারা I — প্রতিরোধ ও শাস্তি; ধারা III — সহযোগিতা না করা।
ICJ-এর ২০০৭ সালের Bosnia v. Serbia রায় অনুযায়ী, প্রতিরোধের বাধ্যবাধকতা হলো “যৌক্তিকভাবে উপলব্ধ সব উপায় ব্যবহার” এবং যদি রাষ্ট্র “স্পষ্টভাবে প্রতিরোধে অবদান রাখতে পারত এমন সব ব্যবস্থা নিতে ব্যর্থ হয়” তবে দায়বদ্ধতা তৈরি হয় (প্যারা ৪৩০)। প্যারা ৪৩১ অনুযায়ী, যখনই রাষ্ট্র গুরুতর ঝুঁকি সম্পর্কে জানে বা জানা উচিত, তখনই বাধ্যবাধকতা সক্রিয় হয়।
ভারত এই জ্ঞানের মানদণ্ড পূরণ করেছে ২৬ জানুয়ারি ২০২৪-এর মধ্যেই। ICJ-এর আদেশ ব্যাপকভাবে প্রচারিত, ভারতীয় সংসদে আলোচিত এবং সুপ্রিম কোর্টে দায়ের করা PIL-এ উল্লেখিত হয়েছে। অ্যামনেস্টির তথ্য অনুযায়ী ১,৯০০+ চালান এই তারিখের পরে ঘটেছে, যার মধ্যে ডিসেম্বর ২০২৫-এ ১২২টি SkyStriker ওয়ারহেডও রয়েছে — ICJ সতর্কতার প্রায় দুই বছর পর।
৩.২ জেনেভা কনভেনশন সাধারণ ধারা ১ — সম্মান নিশ্চিত করার বাধ্যবাধকতা
সাধারণ ধারা ১ বলে: “উচ্চ চুক্তিবদ্ধ পক্ষগুলো সকল পরিস্থিতিতে বর্তমান কনভেনশনকে সম্মান করতে এবং সম্মান নিশ্চিত করতে অঙ্গীকারবদ্ধ।” ICRC-এর ২০২৫ সালের হালনাগাদ ভাষ্য (প্যারা ২২৪, ২২৮) স্পষ্ট করে যে এর মধ্যে অস্ত্র হস্তান্তরের মাধ্যমে লঙ্ঘনে অবদান না রাখার নেতিবাচক বাধ্যবাধকতাও অন্তর্ভুক্ত, যেখানে স্পষ্ট ঝুঁকি রয়েছে।
ভারত ৯ নভেম্বর ১৯৫০ সালে চারটি জেনেভা কনভেনশন অনুমোদন করেছে। গাজায় নির্বিচার হামলা, হাসপাতালে হামলা (আল-শিফা), জনবহুল এলাকায় ১৫৫ মিমি আর্টিলারি ব্যবহারের নথিভুক্ত প্রমাণের পরও অস্ত্র সরবরাহ সাধারণ ধারা ১-এর লঙ্ঘন।
৩.৩ ATT ধারা ৬ ও ৭ এবং ARSIWA ধারা ১৬ — অ-স্বাক্ষরকারী হলেও আদর্শিক প্রয়োগ
ভারত ২০১৩ সালে Arms Trade Treaty-তে ভোটদানে বিরত ছিল, যুক্তি ছিল এটি “সন্ত্রাসবাদ ও অ-রাষ্ট্রীয় অভিনেতাদের ক্ষেত্রে দুর্বল।” অ-অনুমোদন ভারতকে প্রথাগত মানদণ্ড থেকে অব্যাহতি দেয় না।
ভারতের DGFT নির্দেশিকাতেও “শেষ ব্যবহারকারীর বিশ্বাসযোগ্যতা, শেষ ব্যবহারের ঘোষণার বিশ্বাসযোগ্যতা এবং ভারত যে চুক্তির পক্ষ, তার অধীনে বাধ্যবাধকতা” মূল্যায়নের কথা বলা হয়েছে। যেহেতু ভারত গণহত্যা কনভেনশন এবং জেনেভা কনভেনশনের পক্ষ, তাই এই বাধ্যবাধকতা বিবেচনা করা উচিত ছিল। কিন্তু কোনো প্রকাশ্য রেকর্ড নেই যে তা করা হয়েছে।
ARSIWA ধারা ১৬ অনুযায়ী, একটি রাষ্ট্র যদি জেনেশুনে অন্য রাষ্ট্রকে আন্তর্জাতিক অন্যায় কাজে সহায়তা করে, তবে দায়বদ্ধ হয়। গোলাবারুদ সরবরাহ জেনেশুনে সম্ভাব্য গণহত্যায় সহায়তা হিসেবে গণ্য হতে পারে। ধারা ৪১(২) অনুযায়ী jus cogens লঙ্ঘনের গুরুতর ক্ষেত্রে সহায়তা না দেওয়ার বাধ্যবাধকতা রয়েছে।
৪. দেশীয় শাসন, বিচার বিভাগীয় নিষ্ক্রিয়তা ও সাংবিধানিক সংযোগ
৪.১ DGFT, SCOMET এবং আন্তঃমন্ত্রণালয় পর্যালোচনার অস্বচ্ছতা
ভারতের রপ্তানি নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থা খণ্ডিত: IDRA ১৯৫১, Arms Act ১৯৫৯, Foreign Trade (Development and Regulation) Act ১৯৯২, Customs Act ১৯৬২ ধারা ১১(২)(q), এবং DGFT SCOMET তালিকা ক্যাটাগরি ৬।
IDRA-তে উৎপাদন ক্ষমতা, গুণমান, অবস্থান বিবেচনা করা হয়, কিন্তু মানবাধিকার due diligence নেই। Arms Rules ২০১৬-তেও IHL মূল্যায়ন নেই। SCOMET ক্যাটাগরি ৬-এর জন্য DGFT অনুমোদনের পর MEA, MHA এবং MOD-এর আন্তঃমন্ত্রণালয় পর্যালোচনা হয়, কিন্তু তা গোপনীয় — শুধু অনুমোদন/প্রত্যাখ্যানের ফলাফল প্রকাশিত হয়।
DPSU-গুলোর ক্ষেত্রে এই অস্বচ্ছতা আরও গুরুতর। MIL, IOL, AWEIL ১০০% সরকারি, সরকারি অর্থায়নে, মন্ত্রিসভার নিয়োগ কমিটি (প্রধানমন্ত্রী + স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী) দ্বারা চেয়ারম্যান নিযুক্ত, কর্মীরা MOD-এ ডেপুটেশনে সরকারি কর্মচারী, CAG দ্বারা অডিট। তারা Ajay Hasia (১৯৮১) এবং Pradeep Kumar Biswas (২০০২)-এর সব মানদণ্ড পূরণ করে — আর্থিক, কার্যকরী ও প্রশাসনিকভাবে সরকারের গভীর ও ব্যাপক নিয়ন্ত্রণে, তাই সংবিধানের ১২ অনুচ্ছেদ অনুযায়ী ‘রাষ্ট্র’। আন্তর্জাতিক আইনে তারা ICJ-এর “complete dependence” পরীক্ষায় de facto রাষ্ট্রীয় অঙ্গ।
৪.২ বিচার বিভাগীয় নিষ্ক্রিয়তা: Ashok Kumar Sharma বনাম Union of India (২০২৪)
৯ সেপ্টেম্বর ২০২৪ তারিখে সুপ্রিম কোর্ট ২৪ জন সাবেক আমলা, শিক্ষাবিদ ও কর্মীর দায়ের করা রিট পিটিশন (W.P. (C) ৫৫১/২০২৪) খারিজ করে দেয়, যেখানে ইসরায়েলে অস্ত্র রপ্তানির লাইসেন্স বাতিলের আবেদন করা হয়েছিল।
আদালতের যুক্তি ছিল তিনটি:
- পররাষ্ট্র বিষয়ক অ-বিচারযোগ্যতা: লাইসেন্স বাতিলের জন্য “একটি স্বাধীন সার্বভৌম রাষ্ট্র, অর্থাৎ ইসরায়েল”-এর বিরুদ্ধে অভিযোগ বিচার করতে হবে, যা আদালতের এখতিয়ারের বাইরে।
- চুক্তির পবিত্রতা: বাতিল করলে আন্তর্জাতিক চুক্তি লঙ্ঘন হবে, কোম্পানিগুলো ক্ষতিপূরণের মুখে পড়বে।
- নির্বাহী বিবেচনা: রপ্তানি নিষিদ্ধ করার বিধিবদ্ধ ক্ষমতা FTDR Act এবং Customs Act-এ রয়েছে, তা প্রয়োগ করা নির্বাহীর “অর্থনৈতিক, ভূ-রাজনৈতিক স্বার্থ” বিবেচনার বিষয়।
৪.৩ সাংবিধানিক সংযোগ: ৫১(গ) এবং ২১ অনুচ্ছেদ
৫১(গ) ধারায় রাষ্ট্রকে আন্তর্জাতিক আইনের প্রতি শ্রদ্ধা বৃদ্ধির নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। যদিও নির্দেশমূলক নীতি অ-বিচারযোগ্য, সুপ্রিম কোর্ট বারবার এগুলোকে মৌলিক অধিকারের ব্যাখ্যায় ব্যবহার করেছে (Vishaka ১৯৯৭, Puttaswamy ২০১৭)। ২১ অনুচ্ছেদে জীবনের অধিকারকে মর্যাদার সাথে বাঁচার অধিকার হিসেবে ব্যাখ্যা করা হয়েছে। যখন ১২ অনুচ্ছেদ অনুযায়ী ‘রাষ্ট্র’ হিসেবে MIL ১,০০০ HE শেল Elbit-কে সরবরাহ করে, যেখানে গণহত্যার সম্ভাবনা রয়েছে, তখন তা ২১ অনুচ্ছেদের ইতিবাচক বাধ্যবাধকতার সাথে ৫১(গ)-কে একসাথে পড়লে সাংবিধানিক ব্যর্থতা হিসেবে গণ্য হয়।
৫. নীতি সুপারিশ ও কৌশলগত জবাবদিহিতা
২. সহ-উৎপাদন MoU স্থগিত: নভেম্বর ২০২৫-এর MoU বাস্তবায়ন স্থগিত করে NHRC এবং সংসদীয় কমিটির মাধ্যমে স্বাধীন মানবাধিকার প্রভাব মূল্যায়ন, প্রকাশ্য প্রকাশ।
৩. লাইসেন্স প্রকাশ: ৭ অক্টোবর ২০২৩-এর পর Elbit, Rafael, IAI এবং তাদের JV-গুলোকে দেওয়া সব SCOMET ক্যাটাগরি ৬ লাইসেন্স, শেষ ব্যবহার সার্টিফিকেট এবং ঝুঁকি মূল্যায়ন RTI Act অনুযায়ী প্রকাশ।
৫. সংসদীয় তদারকি: UK Committees on Arms Export Controls-এর আদলে প্রতিরক্ষা রপ্তানি বিষয়ক স্থায়ী কমিটি, SCOMET লাইসেন্স যাচাই, কর্মকর্তাদের তলব এবং স্থগিতের সুপারিশের ক্ষমতাসহ। প্রতিরক্ষা রপ্তানির গন্তব্য ও ঝুঁকি রেটিং নিয়ে বার্ষিক রিপোর্ট সংসদে পেশ।
৬. গণহত্যা কনভেনশন ও জেনেভা কনভেনশন বাস্তবায়ন আইন: গণহত্যা, মানবতাবিরোধী অপরাধ ও যুদ্ধাপরাধকে দেশীয় আইনে অপরাধ হিসেবে প্রতিষ্ঠা, সার্বজনীন এখতিয়ার এবং কর্পোরেট সহযোগিতার জন্য CBI/NIA-তে স্বাধীন তদন্ত ইউনিট।
৭. Arms Trade Treaty-তে যোগদান: ATT-তে যোগদান এবং SCOMET-কে ধারা ৬ ও ৭-এর নিষেধাজ্ঞার সাথে সামঞ্জস্য।
৮. সম্ভাব্য সহযোগিতার তদন্ত: অ্যামনেস্টির সুপারিশ অনুযায়ী, ৯টি চিহ্নিত কোম্পানি ও দায়িত্বশীল কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে গণহত্যায় সহযোগিতার সম্ভাব্য দেওয়ানি ও ফৌজদারি দায়বদ্ধতার স্বাধীন তদন্ত, যেখানে ব্যাপকভাবে নথিভুক্ত ঝুঁকি সত্ত্বেও অনুমোদন ও সরবরাহ অব্যাহত ছিল।
৫.২ কোম্পানিগুলোর প্রতি
- ইসরায়েলে অস্ত্র ও গোলাবারুদ স্থানান্তরে সব জড়িততা অবিলম্বে বন্ধ।
- Elbit Systems, Rafael, IAI-এর সাথে সব ব্যবসায়িক সম্পর্ক — বিনিয়োগ, ক্রয়, যৌথ R&D, অস্ত্র মেলায় অংশগ্রহণ — বন্ধ, যতক্ষণ না তারা গুরুতর লঙ্ঘনে অবদান রাখছে না তা প্রমাণ করতে পারে।
- সমগ্র ভ্যালু চেইনে heightened human rights due diligence — উৎপত্তি থেকে শেষ ব্যবহারকারী পর্যন্ত ম্যাপিং, স্বাধীন সংঘাত প্রতিবেদন পর্যালোচনা, ভবিষ্যৎ হস্তান্তর রোধে লিভারেজ ব্যবহার।
- অবদান চিহ্নিত হলে ক্ষতিগ্রস্তদের প্রতিকার (UNGP নীতি ২২)।
৫.৩ নিষেধাজ্ঞার বাইরে জবাবদিহিতা
- বিচার বিভাগীয় পর্যালোচনা সংস্কার: FTDR Act সংশোধন করে স্পষ্ট করা যে রপ্তানি লাইসেন্স সিদ্ধান্ত আন্তর্জাতিক আইন মেনে চলার ভিত্তিতে বিচার বিভাগীয় পর্যালোচনার যোগ্য, শুধু পদ্ধতিগত অনিয়ম নয়, যাতে jus cogens প্রশ্নে পররাষ্ট্রনীতির অ-বিচারযোগ্যতার অজুহাত ব্যবহার না হয়।
- শেষ ব্যবহারকারী যাচাই প্রোটোকল: আইনত বাধ্যতামূলক End-User Certificate যেখানে OPT-তে ব্যবহার নিষিদ্ধ, সম্মতি ছাড়া পুনঃরপ্তানি নিষিদ্ধ এবং লঙ্ঘনের প্রমাণে ফেরত/ধ্বংসের বিধান; Customs Act ১১(২)(q) অনুযায়ী সন্দেহে জব্দের ক্ষমতা।
- Jus Cogens-এর সাথে সামঞ্জস্য: গণহত্যা, বর্ণবাদ এবং বলপূর্বক ভূখণ্ড দখলের নিষেধাজ্ঞা peremptory norm; কোনো অর্থনৈতিক বা ভূ-রাজনৈতিক স্বার্থ এর লঙ্ঘনে সহায়তা justify করতে পারে না (ARSIWA Art ৪১)।
৬. উপসংহার: পূর্বানুমেয়তার ভার
অস্ত্র রপ্তানি বাণিজ্যিক, লাইসেন্স কেস-বাই-কেস, শেষ ব্যবহার অজানা — এই যুক্তি প্রমাণের ভারে ভেঙে পড়ে। যখন একটি রাষ্ট্রীয় উদ্যোগ “Defence goods” লেবেল দিয়ে ১,০০০ HE শেল তৈরি করে, যখন একটি যৌথ উদ্যোগ একটি মেশিনগান মডেলের জন্য ১০,৫৭১টি ফিডিং ট্রে পাঠায় যা শুধু ইসরায়েলি সার্ভিসে রয়েছে, যখন বেঙ্গালুরুর একটি কারখানা ফুল-অটো ফায়ার সক্ষমকারী অটোমেটিক সিয়ার এবং ১২২টি আত্মঘাতী ড্রোনের ওয়ারহেড রপ্তানি করে যার ধ্বংসাবশেষ খান ইউনিসে পাওয়া যায় — এবং এই সবকিছু ঘটে ICJ অন্তর্বর্তীকালীন ব্যবস্থা, UNHRC-র নিষেধাজ্ঞার আহ্বান এবং ৭৩,০০০ ফিলিস্তিনি নিহত হওয়ার পর — তখন ঝুঁকি আর বিমূর্ত নয়। এটি পূর্বানুমেয়, নথিভুক্ত এবং আরোপযোগ্য।
ফিলিস্তিনি আত্মনিয়ন্ত্রণের প্রতি ভারতের ঐতিহাসিক সংহতি আবেগপ্রবণ বক্তব্য ছিল না। এটি উপনিবেশবাদ-বিরোধী এবং আন্তর্জাতিক আইনের প্রতি শ্রদ্ধার উপর ভিত্তি করে একটি আইনি অবস্থান ছিল। গাজায় সম্ভাব্য গণহত্যা সক্ষমকারী সাপ্লাই চেইনে সহ-উৎপাদক হিসেবে বর্তমান অবস্থান সংসদীয় বিতর্ক, স্বচ্ছ ঝুঁকি মূল্যায়ন এবং বিচার বিভাগীয় সংশোধন ছাড়াই সেই অবস্থানকে উল্টে দিয়েছে।
আইনের জন্য ভারতকে গণহত্যার উদ্দেশ্য প্রমাণ করতে হয় না। প্রয়োজন শুধু এই যে ভারত গুরুতর ঝুঁকি সম্পর্কে জানত এবং সহায়তা প্রতিরোধে যৌক্তিকভাবে উপলব্ধ সব উপায় ব্যবহারে ব্যর্থ হয়েছে। Bosnia v. Serbia, Common Article 1, ARSIWA Article 16 অনুযায়ী সেই মানদণ্ড পূরণ হয়েছে।
“রাষ্ট্রের প্রতিরোধের বাধ্যবাধকতা এবং সেই অনুযায়ী কাজ করার কর্তব্য সেই মুহূর্ত থেকে শুরু হয় যখন রাষ্ট্র গুরুতর ঝুঁকি সম্পর্কে জানে বা জানা উচিত যে গণহত্যা সংঘটিত হবে।” — ICJ, Bosnia v. Serbia (২০০৭), প্যারা ৪৩১
একজন মানবাধিকার রক্ষক ও শাসন বিশ্লেষক হিসেবে আমি বলছি না যে ভারতকে প্রতিরক্ষা উৎপাদন বা কৌশলগত অংশীদারিত্ব থেকে সরে আসতে হবে। আমি বলছি যে মানবাধিকার due diligence ছাড়া শাসন শাসন নয়; এটি দায়িত্ব পরিত্যাগ। স্বচ্ছতা ছাড়া লাইসেন্সিং বিবেচনা নয়; এটি দায়মুক্তি। এবং যে অস্ত্র এমন একটি থিয়েটারে পৌঁছায় যেখানে গণহত্যা সম্ভাব্য, কঠোর, প্রকাশ্য, স্বাধীন ঝুঁকি মূল্যায়ন ছাড়া, তা ভারতকে — এবং তার কোম্পানি ও কর্মকর্তাদের — সেই আইনি এক্সপোজারের অঞ্চলে নিয়ে যায় যা আন্তর্জাতিক আইন সহযোগিতার জন্য সংরক্ষণ করে।
প্রতিকারমূলক পথ স্পষ্ট, কার্যকর এবং ভারতের নিজস্ব সাংবিধানিক নির্দেশের সাথে সামঞ্জস্যপূর্ণ: হস্তান্তর বন্ধ, লাইসেন্স প্রকাশ, বাধ্যতামূলক HRDD আইন প্রণয়ন, রপ্তানি সিদ্ধান্তকে সংসদীয় ও বিচার বিভাগীয় তদারকির আওতায় আনা এবং পররাষ্ট্রনীতিকে peremptory norm-এর সাথে সামঞ্জস্য করা। ততক্ষণ পর্যন্ত, “মেড ইন ইন্ডিয়া” চিহ্নিত প্রতিটি চালান যা ইসরায়েলে পৌঁছায়, তা শুধু ধাতু ও বিস্ফোরক বহন করে না, বরং সেই পূর্বানুমেয় ঝুঁকিও বহন করে যে এটি ভারতের সবচেয়ে মৌলিক নিয়ম লঙ্ঘনে ব্যবহৃত হবে যার প্রতি শ্রদ্ধা বৃদ্ধির অঙ্গীকার ভারত করেছিল।
তথ্যসূত্র ও প্রমাণ
- অ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনাল, MADE IN INDIA: THE SUPPLY OF WEAPONS AND AMMUNITION TO ISRAEL, Index: ASA 20/1327/2026, জুলাই ২০২৬। ২,৫৯৬ চালান বিশ্লেষণ।
- ICJ, South Africa v. Israel, অন্তর্বর্তীকালীন ব্যবস্থা ২৬ জানু ২০২৪; Nicaragua v. Germany ৩০ এপ্রিল ২০২৪; উপদেষ্টা মতামত ১৯ জুলাই ২০২৪।
- Bosnia v. Serbia ২০০৭, প্যারা ৩৯২-৪৩২; গণহত্যা কনভেনশন Art I, III(e); জেনেভা কনভেনশন সাধারণ ধারা ১।
- Arms Trade Treaty Art ৬,৭; ARSIWA Art ৪,৮,১৬,৪১(২); UNGPs; ভারতীয় সংবিধান Art ১২,২১,৫১(গ)।
- সুপ্রিম কোর্ট: Ashok Kumar Sharma বনাম Union of India W.P. (C) ৫৫১/২০২৪, ৯ সেপ্টে ২০২৪; Ajay Hasia ১৯৮১; Pradeep Kumar Biswas ২০০২।
- বাণিজ্য তথ্য: PLR ১০,৫৭১ ফিডিং ট্রে, ৩৩,০৩৩ বোল্ট ক্যারিয়ার; Indo-MIM ৫৯,৬৩৭ সিয়ার; Kalyani ৯,৬০০ বডি; MIL ১,০০০ HE; AWEIL ১২০ লঞ্চার; Alpha Elsec ১২২ ওয়ারহেড; IOL ১৭৮ সেন্সর।
- MV Marianne Danica, MV Borkum, শ্রমিক ফেডারেশন বয়কট; Al Jazeera, Middle East Eye রিপোর্ট।
No comments:
Post a Comment
Please validate CAPTCHA