হেমা চাকমা—পাহাড়ের প্রতিবাদী চেতনার এক প্রতীক:শান্তি, সুশাসন ও মানবাধিকারের ২৮ বছরের অসমাপ্ত যাত্রা
Inspired by the original text by Nippon Chakma Chitti
নিপ্পন চাকমা চিত্তির লেখা ‘হেমা চাকমা—পাহাড়ের প্রতিবাদী চেতনার এক প্রতীক’—শিরোনামটি যেন এক যুগের আহ্বান। এটি শুধু একটি নাম নয়; এটি একটি ইতিহাস, একটি প্রতিরোধের দর্শন, এবং একটি জাতির আশা-আকাঙ্ক্ষার প্রতিফলন। হেমা চাকমা, যিনি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদের (ডাকসু) নির্বাচিত সদস্য[1][2], তিনি শুধু পার্বত্য চট্টগ্রামেরই নয়, সমগ্র বাংলাদেশের প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর জন্য এক প্রতীকী চেতনা।
এই প্রবন্ধে আমরা হেমা চাকমার চেতনাকে কেন্দ্র করে পার্বত্য চট্টগ্রামের (CHT) শান্তি, সুশাসন ও মানবাধিকারের বাস্তব চিত্র অনুসন্ধান করব। ১৯৯৭ সালের শান্তিচুক্তির[3] ২৮ বছর পরও কেন পাহাড়ের মানুষ প্রত্যাশিত শান্তি পায়নি—তার প্রামাণ্য-ভিত্তিক বিশ্লেষণই এই লেখার মূল লক্ষ্য। আমাদের দৃষ্টিভঙ্গি শান্তিপূর্ণ, গণতান্ত্রিক ও অহিংস; আমরা তথ্যের ভিত্তিতে ন্যায় ও অংশগ্রহণমূলক শাসনের পথ খুঁজি।
প্রেক্ষাপট: শান্তিচুক্তির প্রতিশ্রুতি ও বাস্তবতা
১৯৯৭ সালের ২ ডিসেম্বর বাংলাদেশ সরকার ও পার্বত্য চট্টগ্রাম জনসংহতি সমিতির (PCJSS) মধ্যে স্বাক্ষরিত হয় ঐতিহাসিক পার্বত্য চট্টগ্রাম শান্তি চুক্তি[3]। এই চুক্তি জুম্ম জনগণের আত্মনিয়ন্ত্রণ, ভূমি অধিকার ও সাংস্কৃতিক স্বীকৃতির আশা জাগিয়েছিল। কিন্তু বাস্তবতা ভিন্ন। PCJSS-এর ২০২৫ সালের বার্ষিক মানবাধিকার প্রতিবেদন[4][5] অনুযায়ী, চুক্তির দুই-তৃতীয়াংশ মূল ধারা এখনও বাস্তবায়িত হয়নি[6]। অন্তর্বর্তীকালীন সরকারও এই চুক্তি বাস্তবায়নে কোনো উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি আনতে পারেনি[7]।
চুক্তি বাস্তবায়নের চিত্র (PCJSS বিশ্লেষণ)
মোট ৭২টি ধারা • সরকারি দাবি ৬৫টি বাস্তবায়িত[8]হেমা চাকমা: এক প্রতিবাদী চেতনার প্রতীক
হেমা চাকমা পাহাড়ের মেয়ে—খাগড়াছড়ির পানছড়ি উপজেলার চেঙ্গী ইউনিয়নের সাবেক চেয়ারম্যান অনিল চন্দ্র চাকমার কন্যা। তিনি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের স্বাস্থ্য অর্থনীতি ইনস্টিটিউটের চতুর্থ বর্ষের শিক্ষার্থী[1]। ২০২৫ সালের ডাকসু নির্বাচনে তিনি ‘প্রতিরোধ পর্ষদ’ প্যানেল থেকে ৪,৯০৮ ভোট পেয়ে নির্বাচিত হন[1][2]—একমাত্র প্রার্থী যিনি এই প্যানেল থেকে জয়ী হন।
তবে তাঁর বিজয়ের পথ মসৃণ ছিল না। তিনি প্রকাশ্যে জানিয়েছেন নির্বাচনের সময় পোস্টার ছেঁড়া, সাইবার বুলিংসহ নানা বাধার সম্মুখীন হয়েছেন। এমনকি মুক্তিযুদ্ধে চাকমা জনগোষ্ঠীর অবদান নিয়েও প্রশ্ন তোলা হয়েছে[11]।
তবু তিনি থামেননি। অমর একুশের অনুষ্ঠানে তিনি সংখ্যালঘুদের মাতৃভাষার অধিকারের কথা বলেছেন[12], শিক্ষার্থীদের অধিকার, প্রান্তিক কণ্ঠের মর্যাদা ও ন্যায়ের দাবি উচ্চারণ করেছেন। তাঁর এই অবস্থান কেবল ব্যক্তিগত সাহস নয়; এটি সাংবিধানিক অধিকার—বাকস্বাধীনতা, সংগঠনের স্বাধীনতা ও বৈষম্যহীনতার চেতনার বহিঃপ্রকাশ।
“অন্যায়কে অন্যায় বলা এবং ন্যায্য অধিকারের প্রশ্নে মাথা নত না করা—এই চেতনাই হেমা চাকমাকে পাহাড়ের প্রতিবাদী চেতনার প্রতীক করে তুলেছে।”
— নিপ্পন চাকমা চিত্তির পর্যবেক্ষণ
হেমা চাকমার বিজয় তাই একটি নির্বাচনী ফলাফলের চেয়ে বেশি কিছু। এটি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের মতো জাতীয় পরিসরে পাহাড়ের প্রতিনিধিত্বের স্বীকৃতি, তরুণ জুম্ম নারীদের জন্য একটি রোল মডেল, এবং বাংলাদেশের বহুত্ববাদী গণতন্ত্রের পরীক্ষা। যখন একজন পাহাড়ি ছাত্রী কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদে দাঁড়িয়ে মাতৃভাষার অধিকারের কথা বলেন, তখন তা ১৯৫২-এর চেতনাকেই সম্প্রসারিত করে—সব ভাষার মর্যাদা, সব মানুষের মর্যাদা।
ঐতিহাসিক ধারাবাহিকতা: লারমা থেকে কল্পনা, কল্পনা থেকে হেমা
স্বায়ত্তশাসনের পথপ্রদর্শক
জুম্ম জনগোষ্ঠীর অবিসংবাদিত নেতা, যিনি সাংবিধানিক স্বীকৃতি ও আত্মনিয়ন্ত্রণের দাবিকে জাতীয় রাজনীতির কেন্দ্রে এনেছিলেন[13][15]। তাঁর স্বপ্ন ছিল একটি ধর্মনিরপেক্ষ, অন্তর্ভুক্তিমূলক বাংলাদেশ—যেখানে পাহাড় ও সমতল একই সংবিধানের ছায়ায় সমান মর্যাদা পাবে। তাঁর চিন্তা আজও পার্বত্য চট্টগ্রামের শাসন-কাঠামো আলোচনায় প্রাসঙ্গিক।
পাহাড়ি নারীর প্রতিরোধের প্রতীক
একজন সাহসী মানবাধিকার কর্মী, যিনি সেনা দমন-পীড়ন ও নারীর অধিকারের প্রশ্নে সরব ছিলেন[14][16][17]। ১৯৯৬ সালের ১২ জুন সেনাবাহিনীর সদস্যদের দ্বারা অপহরণের পর তিনি নিখোঁজ হন[16][17]। অ্যামনেস্টি বলেছে—“We will never say that she is dead”[17]—এই বাক্য আজও বিচারের অপেক্ষার প্রতীক।
নিপ্পন চাকমা চিত্তি হেমা চাকমাকে এই দুই ধারার উত্তরসূরি হিসেবে দেখেছেন। লারমার রাজনৈতিক দূরদর্শিতা ও কল্পনার নারীবাদী সাহস—দুইয়েরই শান্তিপূর্ণ, গণতান্ত্রিক রূপ আজকের প্রেক্ষাপটে হেমা চাকমার কণ্ঠে প্রতিধ্বনিত হয়। পার্থক্য একটাই—তিনি অস্ত্র নয়, যুক্তি; সংঘাত নয়, সংবিধান; প্রতিশোধ নয়, ন্যায়বিচারের ভাষায় কথা বলেন। এই কারণেই তিনি তরুণ প্রজন্মের কাছে প্রেরণা—পাহাড়ের প্রতিবাদ এখন বিশ্ববিদ্যালয়ের মঞ্চে, ভাষা আন্দোলনের মঞ্চে, মানবাধিকারের বৈশ্বিক ভাষায় উচ্চারিত।
শান্তির অন্তরায়: ভূমি, পরিচয় ও নিরাপত্তা
হেমা চাকমার প্রতিবাদ শুধু ব্যক্তিগত নয়; এটি পাহাড়ের মানুষের দীর্ঘদিনের পাঁচটি স্তম্ভের সংকটের প্রতিফলন—ভূমি, পরিচয়, সংস্কৃতি, শিক্ষা ও নিরাপত্তা। বিশেষ করে ভূমি সমস্যা চিরাচরিত ও কাঠামোগত। ১৯৬০-এর দশকে কাপ্তাই বাঁধ নির্মাণের ফলে প্রায় ২৫০ বর্গকিলোমিটার এলাকা প্লাবিত হয় এবং প্রায় ১ লক্ষ আদিবাসী বাস্তুচ্যুত হয়। সেই বাস্তুচ্যুতি আজও নিষ্পত্তি হয়নি; বরং নতুন করে ভূমি দখল, বনায়ন, পর্যটন ও সেটেলমেন্ট প্রকল্পের চাপে জুম্মদের প্রথাগত ভূমি আরও সংকুচিত হচ্ছে।
সাংবিধানিক স্বীকৃতির অভাব একটি বড় চ্যালেঞ্জ। সংবিধানের ২৩(ক) অনুচ্ছেদে ‘উপজাতি’, ‘ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠী’ প্রভৃতি পরিভাষা ব্যবহার করা হলেও, ‘আদিবাসী’ হিসেবে একটি স্বতন্ত্র মর্যাদা নিশ্চিত করা হয়নি[19]। ভাষা, আইন ও নীতিতে এই অস্বীকৃতি দৈনন্দিন জীবনে বৈষম্য তৈরি করে—শিক্ষায়, চাকরিতে, বিচারে। ২০১০ সালে হাইকোর্ট আঞ্চলিক পরিষদ আইনকে অসাংবিধানিক ঘোষণা করলেও আপিল বিভাগে সেই রায় স্থগিত রয়েছে[20]—যা আইনি অনিশ্চয়তা আরও বাড়িয়েছে এবং প্রশাসনিক ক্ষমতা হস্তান্তরকে বিলম্বিত করেছে[22]।
ভূমি কমিশনে ২,২০০+ আবেদন জমা পড়লেও নিষ্পত্তি কার্যত অচল[18]। ২০২৫ সালেই ৩০০+ একর ভূমি দখলের অভিযোগ[10]। যখন প্রথাগত ভূমি অধিকার লিপিবদ্ধ হয় না, তখন উন্নয়নও টেকসই হয় না। সম্প্রদায়ভিত্তিক ম্যাপিং ও যৌথ যাচাই ছাড়া শান্তি কাগজে থেকে যাবে।
“ভূমি সমস্যার সমাধান হলে বাকি ৮০% বিরোধ স্বয়ংক্রিয়ভাবে সমাধান হবে”
৩.১ সামরিকীকরণ ও নিরাপত্তা সংকট
শান্তিচুক্তি স্বাক্ষরের পরও সামরিকীকরণ কমেনি, বরং তা এক ধরনের শাসনকাঠামোতে পরিণত হয়েছে[20]। ২০২৫ সালে ১৯৩টি গ্রামে সামরিক অভিযান চালানো হয়েছে[10]। বাওম সম্প্রদায়ের ১২৬ জন সদস্যকে (যাদের মধ্যে ৩০ জন নারী ও শিশু) সামরিক অভিযানে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। যৌথ অভিযানের নামে বাড়ি তল্লাশি, আটক, এবং ভয়ভীতি—এগুলো আস্থা তৈরির পথে বড় বাধা।
নারীর নিরাপত্তা পরিস্থিতি বিশেষভাবে উদ্বেগজনক। ২০২৫ সালে CHT কমিশন ৮টি ধর্ষণ (৫টি গণধর্ষণ), ৭টি ধর্ষণচেষ্টা এবং ৪টি যৌন হয়রানির ঘটনা নথিভুক্ত করেছে[21]। PCJSS-এর প্রতিবেদনে ৮টি বিচারবহির্ভূত হত্যা, ১১৭টি ইচ্ছাকৃত গ্রেপ্তার ও ২৬টি নারী ও শিশু নির্যাতনের ঘটনা উল্লেখ আছে[10]। প্রতিটি ঘটনার দ্রুত, স্বচ্ছ ও ভুক্তভোগী-বান্ধব তদন্ত না হলে বিচারহীনতার সংস্কৃতি শক্তিশালী হয়, এবং শান্তির সামাজিক ভিত্তি দুর্বল হয়।
নিরাপত্তা মানে কেবল ক্যাম্পের সংখ্যা নয়; নিরাপত্তা মানে নারী যখন জুমে যেতে ভয় পাবেন না, শিশু যখন স্কুলে যেতে নিরাপদ বোধ করবে, এবং একজন তরুণী যখন ডাকসুতে দাঁড়িয়ে নির্ভয়ে মাতৃভাষার অধিকারের কথা বলতে পারবে।
Legal Grounding & International Standards
টেকসই শান্তির পথ: সুপারিশ ও করণীয়
হেমা চাকমার মতো প্রতিবাদী কণ্ঠ আমাদের শেখায়—শান্তি কেবল চুক্তি স্বাক্ষরের মাধ্যমেই আসে না; তা আসে ন্যায়, স্বীকৃতি ও অংশগ্রহণমূলক শাসনের মাধ্যমে। নিম্নে ছয়টি জরুরি, বাস্তবায়নযোগ্য সুপারিশ তুলে ধরা হলো:
শান্তিচুক্তির পূর্ণ বাস্তবায়নে সময়-বদ্ধ রোডম্যাপ [8]
১৯৯৭ চুক্তির অবশিষ্ট ২৯টি অবাস্তবায়িত ও ১৮টি আংশিক ধারা বাস্তবায়নে ২৪ মাসের প্রকাশ্য রোডম্যাপ প্রণয়ন করতে হবে। প্রতি ত্রৈমাসিকে সংসদীয় কমিটিতে অগ্রগতি রিপোর্ট, এবং PCJSS ও সুশীল সমাজের যৌথ মনিটরিং। ভূমি বিরোধ নিষ্পত্তি কমিশনকে প্রথাগত আইন ও মৌজা রেকর্ডের ভিত্তিতে কার্যকর করতে হবে।
আদিবাসী স্বীকৃতি ও ভাষা অধিকার [19]
সংবিধানে ‘আদিবাসী’ হিসেবে স্পষ্ট স্বীকৃতি প্রদান ও আত্মনিয়ন্ত্রণের অধিকার নিশ্চিত করতে হবে। প্রাথমিক শিক্ষায় মাতৃভাষা ভিত্তিক শিক্ষা, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়সহ পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ে জুম্ম ভাষা ও সংস্কৃতি চর্চা কেন্দ্র, এবং ২১ ফেব্রুয়ারিতে সব মাতৃভাষার অন্তর্ভুক্তি।
বিকেন্দ্রীভূত শাসন ও ক্ষমতা হস্তান্তর [22]
CHT আঞ্চলিক পরিষদ ও জেলা পরিষদকে ভূমি, শিক্ষা, স্বাস্থ্য ও স্থানীয় উন্নয়নে প্রকৃত ক্ষমতা হস্তান্তর করতে হবে। হাইকোর্টের ২০১০ সালের রায়ের আইনি অনিশ্চয়তা নিরসনে আপিল বিভাগে দ্রুত নিষ্পত্তি ও আইন সংস্কার জরুরি।
নিরাপত্তা সংস্কার ও জবাবদিহি [10]
সামরিকীকরণ পর্যায়ক্রমে কমিয়ে আনতে হবে, বেসামরিক প্রশাসনের নেতৃত্বে কমিউনিটি পুলিশিং জোরদার করতে হবে। বিচারবহির্ভূত হত্যা ও ইচ্ছাকৃত গ্রেপ্তার বন্ধে স্বাধীন তদন্ত, ভিডিও ডকুমেন্টেশন ও ক্ষতিপূরণ নীতি চালু করতে হবে।
নারী ও শিশু সুরক্ষা [21]
যৌন সহিংসতার প্রতিটি অভিযোগে ৪৮ ঘণ্টার মধ্যে মেডিকেল, আইনি ও মনোসামাজিক সহায়তা নিশ্চিত করতে হবে। ভিকটিমদের জন্য নিরাপদ আশ্রয়, গোপনীয়তা রক্ষা, এবং দ্রুত বিচার ট্রাইব্যুনাল। বাওম সম্প্রদায়সহ সব সম্প্রদায়ের নারীদের জন্য বিশেষ সুরক্ষা ব্যবস্থা।
ভূমি ন্যায়বিচার: ৮০% সমাধানের চাবিকাঠি [18]
সম্প্রদায়ভিত্তিক ভূমি ম্যাপিং, প্রথাগত মৌজা প্রধানের অংশগ্রহণ, এবং ডিজিটাল রেকর্ডে জুম চাষের জমির স্বীকৃতি। ২,২০০+ আবেদন নিষ্পত্তিতে মোবাইল ট্রাইব্যুনাল ও স্থানীয় শুনানি। ‘ভূমি সমস্যার সমাধান হলে বাকি ৮০% বিরোধ স্বয়ংক্রিয়ভাবে সমাধান হবে’—এই বাস্তবতাকে নীতি-কেন্দ্রে আনতে হবে।
উপসংহার: হেমা চাকমার চেতনা—আমাদের কর্তব্য
নিপ্পন চাকমা চিত্তি তার লেখার শেষে বলেছেন, “হেমা চাকমার সাহস ও ত্যাগ পাহাড়ের মানুষের মধ্যে ন্যায়, অধিকার ও আত্মমর্যাদার চেতনা আরও শক্তিশালী করুক।” এটি শুধু একটি প্রার্থনা নয়; এটি একটি কর্তব্যবোধ। এই কর্তব্য আমাদের সবার—রাষ্ট্রের, নাগরিক সমাজের, বিশ্ববিদ্যালয়ের, এবং প্রতিটি বিবেকবান মানুষের।
হেমা চাকমা—যিনি ডাকসু নির্বাচনে জয়ী হয়েছেন[1], যিনি জাতীয় পর্যায়ে সংখ্যালঘুদের মাতৃভাষার অধিকারের কথা বলেছেন[12], যিনি পাহাড়ি তরুণীদের জন্য এক রোল মডেল—তিনি আমাদের মনে করিয়ে দেন: ন্যায্য অধিকার কেউ দয়া করে দেয় না; তা আদায় করতে হয়। আর সেই আদায়ের পথ হতে হবে শান্তিপূর্ণ, গণতান্ত্রিক ও ন্যায়ভিত্তিক।
কিন্তু এই পথ বাধাগ্রস্ত হচ্ছে চুক্তি বাস্তবায়নে দীর্ঘসূত্রিতা[8], সামরিকীকরণ[20] ও ভূমিদখলের কারণে[10]। পাহাড়ের মানুষ আজও অপেক্ষায়—একটি পূর্ণ শান্তির, একটি ন্যায্য সমাজের। ২৮ বছর অনেক দীর্ঘ সময়। একটি প্রজন্ম বড় হয়েছে চুক্তির অপেক্ষায়। আরেকটি প্রজন্ম এখন প্রশ্ন করছে—শান্তি কি কেবল কাগজে থাকবে, নাকি জীবনে ফিরবে?
তাই আমাদের কর্তব্য—হেমা চাকমার মতো প্রতিটি প্রতিবাদী কণ্ঠকে সম্মান জানানো, শান্তিচুক্তি বাস্তবায়নে চাপ প্রয়োগ করা, এবং পাহাড়ের মানুষের মর্যাদা রক্ষায় সোচ্চার হওয়া। কারণ, শান্তি কেবল একটি চুক্তি নয়; এটি একটি প্রতিশ্রুতি—সবার জন্য সমান অধিকার, মর্যাদা ও ন্যায়বিচারের প্রতিশ্রুতি।
তথ্যসূত্র ও দ্রষ্টব্য (ভেরিফাইড)
২২টি উৎস • PCJSS, SATP, Hill Voice, The Daily Star, New Age, Amnesty, UNPO সহ
- [1]Hema Chakma elected DUCSU executive member — Parbatta News — প্রকাশিত: ২০২৬-০৮-০২
- [2]Two students from minority communities elected to Ducsu — TOB News — প্রকাশিত: ২০২৫-০৯-১০
- [3]পার্বত্য চট্টগ্রাম শান্তিচুক্তি, ১৯৯৭ — বাংলাপিডিয়া
- [4]PCJSS Annual Human Rights Report 2025 (Highlights) — SATP — প্রকাশিত: ২০২৬-০১-০২
- [5]JSS releases human rights report: 606 people victims of HR violations in 2025 — Hill Voice — প্রকাশিত: ২০২৬-০১-০১
- [6]Between Reform and Repression: Geopolitics and Human Rights in the CHT — UNPO Academy — প্রকাশিত: ২০২৬-০৩-১৭
- [7]Yunus made no efforts as situation in Bangladesh's Chattogram Hill Tracts worsened in 2025 — Lokmat Times — প্রকাশিত: ২০২৬-০১-০২
- [8]28yrs of CHT accord: Disappointment, frustration keep growing — The Daily Star — প্রকাশিত: ২০২৫-১২-০২
- [9]Violence against women rises: PCJSS report — New Age — প্রকাশিত: ২০২৬-০৪-১১
- [10]Extrajudicial killings continue in CHT, says PCJSS report — TOB News — প্রকাশিত: ২০২৬-০১-০১
- [11]Shibir draws flak for remarks on role of nat'l minorities in Liberation War — New Age — প্রকাশিত: ২০২৬-০৩-০৫
- [12]Cultural activists observe Amar Ekushey — New Age [হেমা চাকমার ভাষণ] — প্রকাশিত: ২০২৬-০৩-০২
- [13]MN Larma's dream of a secular country unrealised — The Daily Star — প্রকাশিত: ২০১৮-০৯-১৫
- [14]Re-examining Peace and Prospects of Establishing Restorative Justice in CHT — UNPO Academy — প্রকাশিত: ২০২৬-০৭-২০
- [15]UNPO: Chittagong Hill Tracts — UNPO
- [16]The Search for Kalpana Chakma — Commonwealth Foundation — প্রকাশিত: ২০১৬-০১-২৮
- [17]‘We will never say that she is dead’ — Amnesty International — প্রকাশিত: ২০১৩-১২-০২
- [18]CHT Land Commission: 2,200+ applications, yet largely ineffective — The Daily Star — প্রকাশিত: ২০২৫-১২-০২
- [19]Give constitutional recognition to ethnic minorities: discussion — New Age — প্রকাশিত: ২০২৫-১২-১১
- [20]CHT Peace Accord implementation faces fresh complications — Prothom Alo English — প্রকাশিত: ২০২৫-১২-০২
- [21]Bangladesh: Settler Violence in Chittagong Hill Tracts — HIC-MENA — প্রকাশিত: ২০২৫-১০-০৯
- [22]Committee asks govt to transfer depts to CHT regional council — New Age — প্রকাশিত: ২০২৫-০৯-১৯

No comments:
Post a Comment
Please validate CAPTCHA