Skip to main content
Breaking NewsDeveloping public-interest story

Latest

Monday, August 3, 2026

Reading time

পূর্ণ রাজনৈতিক পছন্দহীন অধিকার: আজাদ জম্মু ও কাশ্মীরের মানবাধিকার পরিস্থিতি

পূর্ণ রাজনৈতিক পছন্দহীন অধিকার: আজাদ জম্মু ও কাশ্মীরের মানবাধিকার পরিস্থিতি
মানবাধিকার বিশ্লেষণ ```

পূর্ণ রাজনৈতিক পছন্দহীন অধিকার

পাকিস্তান-শাসিত আজাদ জম্মু ও কাশ্মীরের মানবাধিকার পরিস্থিতি এবং প্রতিকারের পথনকশা

তথ্য হালনাগাদ:

প্রস্তাবিত Alt text: শাসন, প্রতিনিধিত্ব ও নাগরিক অধিকারের দাবিতে পাকিস্তান-শাসিত আজাদ জম্মু ও কাশ্মীরে নাগরিকদের গণসমাবেশ।

নির্বাহী সারসংক্ষেপ

পাকিস্তান-শাসিত আজাদ জম্মু ও কাশ্মীর—সংক্ষেপে AJK—এ নির্বাচিত আইনসভা, রাষ্ট্রপতি, প্রধানমন্ত্রী, উচ্চ আদালত, সুপ্রিম কোর্ট, রাজনৈতিক দল, স্থানীয় প্রতিষ্ঠান এবং সক্রিয় নাগরিক সমাজ রয়েছে। অঞ্চলটির অন্তর্বর্তী সংবিধানে মতপ্রকাশ, সংগঠন, শান্তিপূর্ণ সমাবেশ, চলাচল, ধর্ম, পেশা ও সম্পত্তির অধিকারসহ গ্রেপ্তার ও বিচারপ্রক্রিয়াসংক্রান্ত সুরক্ষাও স্বীকৃত।

তবে এই প্রাতিষ্ঠানিক কাঠামোর মধ্যে সব ধরনের অহিংস রাজনৈতিক বিকল্প সমানভাবে অনুমোদিত নয়। AJK-এর অন্তর্বর্তী সংবিধানের ৭(৩) অনুচ্ছেদ পাকিস্তানে জম্মু ও কাশ্মীরের অন্তর্ভুক্তির আদর্শের বিরুদ্ধে ব্যক্তি বা রাজনৈতিক দলের প্রচার ও কার্যক্রম নিষিদ্ধ করে।

একই সংবিধানের অধীনে গঠিত ৫৩ সদস্যের আইনসভায় AJK-এর ভেতরে বসবাসকারী মানুষ সরাসরি মাত্র ৩৩ জন সদস্য নির্বাচন করেন। পাকিস্তানের বিভিন্ন স্থানে বসবাসরত শরণার্থীদের জন্য ১২টি আসন এবং পরোক্ষভাবে নির্বাচিত আরও আটটি আসন রয়েছে।

২০২৪–২০২৬ সালের গণআন্দোলনগুলো এই দ্বৈত বাস্তবতা স্পষ্ট করেছে। বিদ্যুৎ, আটা, মূল্যস্ফীতি, সুশাসন, রাজনৈতিক প্রতিনিধিত্ব ও অভিজাত সুবিধার বিরুদ্ধে আন্দোলন সরকারকে কিছু দাবি মানতে বাধ্য করেছে। একই সময়ে দেখা গেছে ইন্টারনেট বন্ধ, গণগ্রেপ্তার, আন্দোলনকারী জোটকে নিষিদ্ধ ঘোষণা, প্রাণঘাতী বলপ্রয়োগের অভিযোগ, পুলিশ ও সরকারি স্থাপনায় হামলা এবং হতাহতের সংখ্যা নিয়ে পরস্পরবিরোধী দাবি।

টেকসই প্রতিকারের জন্য শুধু আইনশৃঙ্খলা পুনঃপ্রতিষ্ঠা যথেষ্ট নয়। প্রয়োজন স্বাধীন তদন্ত, শান্তিপূর্ণ মত ও আন্দোলনের আইনি সুরক্ষা, সন্ত্রাসবিরোধী ব্যবস্থার বিচারিক পর্যালোচনা, ইন্টারনেট বন্ধের কঠোর নিয়ন্ত্রণ, পুলিশি জবাবদিহি, সাংবিধানিক বহুত্ব এবং অন্তর্ভুক্তিমূলক রাজনৈতিক প্রতিনিধিত্ব।

সচিত্র তথ্যসংক্ষেপ: এক নজরে AJK

আইনসভার মোট সদস্য ৫৩ জন
সরাসরি নির্বাচিত সদস্য ৪৫ জন
AJK-এর অভ্যন্তরীণ আসন ৩৩টি
পাকিস্তানে শরণার্থী আসন ১২টি
পরোক্ষ বা সংরক্ষিত সদস্য ৮ জন
পাকিস্তানের জাতীয় সংসদে নিজস্ব আসন নেই
২০২৫ সালের অস্থিরতায় নথিভুক্ত মৃত্যু অন্তত ৯ জন
নথিভুক্ত আহত ২০০ জনের বেশি
১৯ জুন ২০২৬ পর্যন্ত সরকারি হিসাবে মৃত্যু অন্তত ২৪ জন
১৯ জুন পর্যন্ত আটক ৫১৫ জন

যোগাযোগ বন্ধ, সংবাদমাধ্যমের সীমিত প্রবেশাধিকার এবং পরস্পরবিরোধী দাবির কারণে এসব সংখ্যাকে চূড়ান্ত ও পূর্ণাঙ্গ হিসাব হিসেবে দেখা উচিত নয়।

বিতর্কিত ভূখণ্ড এবং বিতর্কিত পরিভাষা

পাকিস্তান AJK-কে নিজস্ব নির্বাচিত প্রতিষ্ঠানসমৃদ্ধ একটি স্বশাসিত অঞ্চল হিসেবে বর্ণনা করে। ভারত অঞ্চলটিকে “Pakistan-occupied Kashmir” বলে। জাতিসংঘ ও তুলনামূলকভাবে নিরপেক্ষ আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমে সাধারণত “Pakistan-administered Kashmir” শব্দটি ব্যবহৃত হয়।

মানবাধিকার পর্যালোচনার উদ্দেশ্য পরিভাষার মাধ্যমে ভূখণ্ডটির চূড়ান্ত রাজনৈতিক মালিকানা নির্ধারণ করা নয়। এর প্রধান বিষয় হওয়া উচিত সেখানে বসবাসকারী মানুষের জীবন, নিরাপত্তা, মর্যাদা, জীবিকা, রাজনৈতিক পছন্দ এবং ন্যায়বিচার।

পাকিস্তানের জাতীয় পরিষদ বা সিনেটে AJK-এর নিজস্ব ভূখণ্ডভিত্তিক আসন নেই। ফলে পাকিস্তানের কেন্দ্রীয় প্রতিষ্ঠানের সিদ্ধান্তে প্রভাবিত হলেও AJK-এর মানুষ সেই প্রতিষ্ঠানগুলোতে সরাসরি ভূখণ্ডভিত্তিক প্রতিনিধিত্ব পান না।

সংবিধানে স্বীকৃত অধিকার এবং রাজনৈতিক পছন্দের সীমা

AJK-এর অন্তর্বর্তী সংবিধান শান্তিপূর্ণ সমাবেশ, সংগঠন ও মতপ্রকাশের স্বাধীনতা স্বীকার করে। তবে নিরাপত্তা, জনশৃঙ্খলা, নৈতিকতা, আদালত অবমাননা, মানহানি এবং পাকিস্তানের সঙ্গে বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্কের মতো কারণে আইনি বিধিনিষেধ আরোপের সুযোগ রেখেছে।

সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ সীমাবদ্ধতা হলো ৭(৩) অনুচ্ছেদ। এতে পাকিস্তানের সঙ্গে জম্মু ও কাশ্মীরের অন্তর্ভুক্তির আদর্শের বিরুদ্ধে কোনো ব্যক্তি বা রাজনৈতিক দলের প্রচার নিষিদ্ধ। কিছু সাংবিধানিক পদে শপথ গ্রহণের ক্ষেত্রেও ওই অন্তর্ভুক্তির উদ্দেশ্যের প্রতি আনুগত্য প্রকাশ করতে হয়।

ফলে নাগরিকেরা অনুমোদিত একটি রাজনৈতিক পরিসরের মধ্যে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করতে পারেন, কিন্তু স্বাধীন কাশ্মীর, কনফেডারেশন কিংবা অন্য কোনো অহিংস সাংবিধানিক বিকল্পের পক্ষে সমান আইনি সুরক্ষায় প্রচার করতে পারেন না।

অহিংস রাজনৈতিক বিকল্প ভোটারদের সামনে উপস্থাপনের আগেই আইনগতভাবে বাদ দেওয়া হলে নির্বাচন প্রক্রিয়াগতভাবে প্রতিযোগিতামূলক হলেও রাজনৈতিকভাবে অসম্পূর্ণ থেকে যেতে পারে।

সশস্ত্র কর্মকাণ্ড, সহিংসতায় উসকানি, বিদেশি নির্দেশনায় নাশকতা বা জননিরাপত্তার প্রত্যক্ষ হুমকি নিষিদ্ধ করা রাষ্ট্রের বৈধ দায়িত্ব। কিন্তু অহিংস সাংবিধানিক মতামতকে একই শ্রেণিতে ফেলা রাজনৈতিক স্বাধীনতার মৌলিক সংকোচন।

১২টি শরণার্থী আসন ও প্রতিনিধিত্বের বিরোধ

AJK আইনসভায় ৫৩ জন সদস্যের মধ্যে ৪৫ জন সরাসরি নির্বাচিত হন। এদের ৩৩ জন AJK-এ বসবাসকারী ভোটারদের দ্বারা এবং ১২ জন পাকিস্তানের বিভিন্ন স্থানে বসবাসরত নির্দিষ্ট কাশ্মীরি শরণার্থী নির্বাচনী এলাকার ভোটারদের দ্বারা নির্বাচিত হন।

পাঁচজন নারী, একজন ধর্মীয় আলেম, একজন প্রবাসী কাশ্মীরি এবং একজন পেশাজীবী বা টেকনোক্র্যাট পরোক্ষভাবে নির্বাচিত হন।

শরণার্থী আসনের সমর্থকেরা বলেন, এই ব্যবস্থা সাবেক জম্মু ও কাশ্মীর রাষ্ট্রের রাজনৈতিক ঐক্য এবং সংঘাতে বাস্তুচ্যুত জনগোষ্ঠীর প্রতিনিধিত্ব সংরক্ষণ করে। বিরোধীরা বলেন, AJK-এর বাইরে বসবাসরত ভোটারদের নির্বাচিত সদস্যরা স্থানীয় সরকার গঠনে নির্ধারক হয়ে উঠতে পারেন এবং স্থানীয় অধিবাসীদের রাজনৈতিক পছন্দকে দুর্বল করতে পারেন।

২০২৬ সালের জুনে AJK Supreme Court রায় দেয় যে ১২টি আসন সাংবিধানিকভাবে সুরক্ষিত এবং নির্বাহী পদক্ষেপে এগুলো বিলোপ করা যাবে না। পরিবর্তনের জন্য নিয়মতান্ত্রিক সাংবিধানিক সংশোধন প্রয়োজন।

নাগরিক সমাজের সক্ষমতার প্রমাণ হিসেবে আন্দোলন

AJK-এ মানুষের রাজনৈতিক সংগঠনের বাস্তব ক্ষমতা রয়েছে। ব্যবসায়ী, পরিবহনকর্মী, আইনজীবী, শিক্ষার্থী ও সাধারণ নাগরিকেরা বড় আন্দোলন গড়ে তুলেছেন।

২০২৪ সালের বিদ্যুৎ, ভর্তুকিযুক্ত আটা ও শাসনসংক্রান্ত আন্দোলনের পর সরকার কিছু গুরুত্বপূর্ণ দাবি মেনে নেয়। বিতর্কিত জনসমাবেশ ও জনশৃঙ্খলাবিষয়ক অধ্যাদেশও গণপ্রতিরোধের পর প্রত্যাহার করা হয়।

২০২৫ সালের সেপ্টেম্বর–অক্টোবরে Joint Awami Action Committee শাসন, প্রতিনিধিত্ব ও অর্থনৈতিক দাবিসংবলিত ৩৮ দফা কর্মসূচি নিয়ে অঞ্চলব্যাপী ধর্মঘট ও বিক্ষোভ আয়োজন করে। HRCP-এর হিসাবে অন্তত ছয় বেসামরিক ব্যক্তি ও তিন পুলিশ সদস্য নিহত এবং দুই শতাধিক মানুষ আহত হন।

পরবর্তী আলোচনায় কেন্দ্রীয় সরকার বহু দাবি মেনে নেয় এবং একটি আর্থিক প্যাকেজ ঘোষণা করে। তবে শরণার্থী আসনের বিরোধ অমীমাংসিত থাকে।

২০২৬ সালের দমনাভিযান ও তথ্য যাচাইয়ের সংকট

৫ জুন ২০২৬ তারিখে AJK কর্তৃপক্ষ Joint Awami Action Committee-কে আঞ্চলিক সন্ত্রাসবিরোধী আইনের অধীনে নিষিদ্ধ সংগঠন ঘোষণা করে। Amnesty International জানায়, পরবর্তী ব্যবস্থার মধ্যে ইন্টারনেট বন্ধ, ব্যাপক স্বেচ্ছাচারী গ্রেপ্তার এবং প্রাণঘাতী শক্তি ব্যবহারের অভিযোগ রয়েছে।

Reuters ১৯ জুন জানায়, প্রায় দুই সপ্তাহের অস্থিরতায় সরকারি কর্মকর্তাদের হিসাবে অন্তত ২৪ জন নিহত হন—২০ বেসামরিক ও চার পুলিশ সদস্য। আঞ্চলিক পুলিশপ্রধানের হিসাবে ৯৭ পুলিশ সদস্য আহত এবং ৫১৫ জন আটক হন।

রাস্তা, ব্যাংক, জ্বালানি ও যোগাযোগব্যবস্থা অচল হয়ে পড়ায় দিনমজুর, চালক, রোগী, শিক্ষার্থী এবং ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীরা গুরুতর ক্ষতির সম্মুখীন হন।

২৭ জুলাই নির্বাচনের প্রথম ধাপের সময় আন্দোলনকারী নেতৃত্ব Rawalakot এলাকায় ৩০ জনের বেশি নিহত হওয়ার দাবি করে। যোগাযোগ ও সংবাদপ্রবাহ বন্ধ থাকায় Reuters সংখ্যাটি স্বাধীনভাবে যাচাই করতে পারেনি।

সরকারি কর্মকর্তারা দাবি করেছেন, মুখোশধারী সশস্ত্র ব্যক্তি এবং পাকিস্তানি তালেবান-সংশ্লিষ্ট জঙ্গিরা আন্দোলনে প্রবেশ করে নিরাপত্তা বাহিনীর ওপর গুলি চালিয়েছে। বিশ্বাসযোগ্য প্রমাণ পাওয়া গেলে অভিযুক্ত ব্যক্তিদের সাধারণ ফৌজদারি বিচারপ্রক্রিয়ার আওতায় আনতে হবে।

তবে কিছু সশস্ত্র ব্যক্তির উপস্থিতি পুরো আন্দোলনকারী জনগোষ্ঠীকে বৈধ লক্ষ্যবস্তুতে পরিণত করে না। আন্তর্জাতিক মান অনুসারে শান্তিপূর্ণ বিক্ষোভকারী এবং সহিংসতায় জড়িত ব্যক্তিদের আলাদা করতে হবে।

ইন্টারনেট বন্ধ প্রযুক্তিগত নয়—মানবাধিকারের ব্যবস্থা

দীর্ঘমেয়াদি যোগাযোগ বিচ্ছিন্নতা শুধু রাজনৈতিক প্রচার বন্ধ করে না। এটি জরুরি চিকিৎসা, ব্যাংকিং, শিক্ষা, সাংবাদিকতা, আইনজীবীর সহায়তা, পরিবারের যোগাযোগ, প্রমাণ সংরক্ষণ এবং স্বাধীন মানবাধিকার পর্যবেক্ষণ বাধাগ্রস্ত করে।

তথ্য বন্ধ হলে গুজব ও প্রচারণা বরং আরও শক্তিশালী হয়। প্রতিটি পক্ষ যাচাইবিহীন সংখ্যা ও দৃশ্য ছড়াতে পারে, অথচ সাংবাদিক ও পর্যবেক্ষকেরা সত্য যাচাই করতে পারেন না।

ইন্টারনেট বন্ধের সিদ্ধান্ত তাই স্পষ্ট আইনের অধীন, সীমিত অঞ্চল ও সময়ের জন্য, লিখিত কারণসংবলিত, আদালতে চ্যালেঞ্জযোগ্য এবং স্বাধীনভাবে পর্যালোচনাযোগ্য হওয়া উচিত।

চাপের মধ্যে নির্বাচন

নিরাপত্তা পরিস্থিতির কারণে ২০২৬ সালের নির্বাচন একাধিক ধাপে ভাগ করা হয়। প্রথম ধাপ ২৭ জুলাই এবং দ্বিতীয় ধাপ ২ আগস্ট অনুষ্ঠিত হয়। ভূমিধসের কারণে কিছু কেন্দ্রে ভোট স্থগিত হয় এবং পুনছ বিভাগের চূড়ান্ত ধাপ পরবর্তী তারিখে নির্ধারিত ছিল।

রাজনৈতিক দলগুলো জালিয়াতি, বলপ্রয়োগ, হামলা ও ভোট কারচুপির পাল্টাপাল্টি অভিযোগ তোলে। দ্বিতীয় ধাপে একজন রাজনৈতিক কর্মী নিহত এবং আরও কয়েকজন আহত হওয়ার খবর প্রকাশিত হয়।

ভোটগ্রহণের আয়োজন গুরুত্বপূর্ণ। কিন্তু নির্বাচন শুধু ব্যালট গণনার বিষয় নয়। বিশ্বাসযোগ্য নির্বাচনের জন্য অবাধ চলাচল, যোগাযোগ, সংবাদমাধ্যমের প্রবেশাধিকার, ভয়মুক্ত প্রচার, সমান রাজনৈতিক সুযোগ, নিরপেক্ষ নিরাপত্তা এবং কার্যকর নির্বাচনী বিরোধ নিষ্পত্তি প্রয়োজন।

সাংবাদিকতা, ভিন্নমত ও গুম

স্বাধীন মানবাধিকার প্রতিবেদনে AJK-এর সাংবাদিকতা সেন্সরশিপ, হয়রানি, অপর্যাপ্ত আইনি সুরক্ষা, অনিরাপদ কর্মপরিবেশ এবং আত্মনিয়ন্ত্রণে আক্রান্ত বলে উল্লেখ করা হয়েছে। অঞ্চলটির রাজনৈতিক মর্যাদা নিয়ে স্বাধীন আলোচনা বিশেষভাবে সীমিত।

সাংবাদিক ও কবি আলী আহমদ ফারহাদ শাহের ঘটনা এই ঝুঁকির একটি উদাহরণ। Reporters Without Borders জানিয়েছে, ২০২৪ সালের মে মাসে Islamabad-এর বাসা থেকে তাকে তুলে নেওয়া হয় এবং পরে AJK পুলিশ স্বীকার করে যে অনলাইনে কথিত উসকানিমূলক উপাদান প্রকাশের অভিযোগে তাকে আটক রাখা হয়েছে। প্রায় ৩০ দিন পর তিনি জামিন পান।

HRCP-এর নথি অনুসারে ২০১১ সালের মার্চ থেকে ২০২৫ সালের জুন পর্যন্ত AJK-সংশ্লিষ্ট ৭১টি নিখোঁজ ব্যক্তির মামলা নথিভুক্ত হয়েছিল। ৬১টি নিষ্পত্তি এবং ১০টি অমীমাংসিত ছিল।

একটি গোপন বা অস্বীকৃত আটকও আইনের শাসনের গুরুতর ব্যর্থতা, কারণ এটি আটক ব্যক্তিকে স্বাভাবিক বিচারিক সুরক্ষার বাইরে নিয়ে যায়।

নারী, শিশু ও প্রান্তিক জনগোষ্ঠী

সংবিধান নারীর অংশগ্রহণ উৎসাহিত করে এবং আইনসভায় পাঁচটি সংরক্ষিত নারী আসন রয়েছে। কিন্তু সংরক্ষিত প্রতিনিধিত্ব নারীর বেকারত্ব, বিনা মজুরির যত্নকাজ, লিঙ্গভিত্তিক সহিংসতা এবং বিচারপ্রাপ্তির সমস্যার সমাধান করেনি।

HRCP ২০২৫ সালে যৌন সহিংসতা, পুলিশি হয়রানি, তথাকথিত নৈতিকতা রক্ষা এবং ব্যক্তিগত তথ্য ব্যবহার করে নারীদের ব্ল্যাকমেইলের অভিযোগ নথিভুক্ত করেছে।

সমাজকল্যাণ বিভাগ কেবল দুটি জেলায় ৪৮টি শিশু নির্যাতনের ঘটনা নথিভুক্ত করে। সব দশ জেলায় শিশু সুরক্ষা ইউনিট না থাকায় প্রকৃত সংখ্যা বেশি হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।

কিছু ইতিবাচক উদ্যোগও রয়েছে। ট্রান্সজেন্ডার ব্যক্তিদের সামাজিক সুরক্ষা কর্মসূচিতে অন্তর্ভুক্ত রাখা হয়েছে; সুদমুক্ত ঋণ প্রকল্পে নারী, ট্রান্সজেন্ডার ও প্রতিবন্ধী ব্যক্তিদের অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে; এবং Muzaffarabad-এ প্রতিবন্ধী ব্যক্তিদের জন্য বিশেষ ফ্রিল্যান্সিং কেন্দ্র প্রতিষ্ঠিত হয়েছে।

ধর্মীয় স্বাধীনতা ও সংখ্যালঘু সুরক্ষা

সংবিধানে ধর্মপালন এবং উপাসনালয় পরিচালনার অধিকার আছে। তবে মুসলিম ব্যক্তির ধর্মান্তর নিষিদ্ধ বা দণ্ডিত করার আইন অনুমোদনের বিধান বিবেক ও বিশ্বাসের স্বাধীনতার সঙ্গে গুরুতর সংঘাত সৃষ্টি করে।

HRCP জানায়, ২০২৫ সালের মার্চে Kotli-তে অন্তত ৭৬টি আহমদিয়া কবরফলক ক্ষতিগ্রস্ত হয়। বছরের প্রথম তিন মাসে ক্ষতিগ্রস্ত আহমদিয়া কবরফলকের মোট রিপোর্টকৃত সংখ্যা ১৬৯-এ পৌঁছায়।

কর্তৃপক্ষ ফৌজদারি মামলা করেছে, যা প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ। কিন্তু পুনরাবৃত্ত হামলা দেখায় যে শুধু ঘটনার পর মামলা যথেষ্ট নয়।

সংখ্যালঘু সুরক্ষার জন্য প্রয়োজন ঝুঁকিপূর্ণ উপাসনালয় ও কবরস্থানের আগাম নিরাপত্তা, বিদ্বেষমূলক প্রচারের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা, অপরাধীদের নিরপেক্ষ বিচার এবং প্রশাসনে সমান আচরণ।

অর্থনৈতিক, সামাজিক ও সাংস্কৃতিক অধিকার

বর্তমান সংকটকে শুধু সাংবিধানিক মতবিরোধ হিসেবে দেখলে মূল বাস্তবতা আড়ালে থেকে যাবে। বিদ্যুতের মূল্য, আটা ভর্তুকি, বেকারত্ব, সরকারি সেবা, অভিজাত ব্যয়, সম্পদ বণ্টন এবং দুর্বল স্থানীয় জবাবদিহি নাগরিক ক্ষোভকে তীব্র করেছে।

মানবাধিকার প্রতিবেদনে শিক্ষা, বিচারব্যবস্থার ডিজিটাল সেবা, সামাজিক সুরক্ষা ও বিশেষায়িত চিকিৎসায় কিছু অগ্রগতি নথিভুক্ত হয়েছে। একই সঙ্গে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বন্ধ, AJK বিশ্ববিদ্যালয়ের আর্থিক সংকট, স্বাস্থ্যসেবা সহায়তার স্থগিতাবস্থা, দুর্যোগ, ঝুঁকিপূর্ণ সড়ক এবং সেবা পেতে ভৌগোলিক প্রতিবন্ধকতাও চিহ্নিত হয়েছে।

দীর্ঘ ধর্মঘট ও যোগাযোগ বন্ধ এসব সমস্যাকে আরও গভীর করে। একজন দিনমজুরের আয় বন্ধ হওয়া, রোগীর হাসপাতালে যোগাযোগ করতে না পারা কিংবা শিক্ষার্থীর অনলাইন শিক্ষাব্যবস্থা থেকে বিচ্ছিন্ন হওয়াও মানবিক নিরাপত্তার প্রশ্ন।

মানবাধিকারভিত্তিক প্রতিকারের পথনকশা

প্রথম ৩০ দিনের তাৎক্ষণিক ব্যবস্থা

  • সব ধরনের যোগাযোগ সম্পূর্ণ পুনঃস্থাপন করতে হবে।
  • নিহত, আহত, আটক ও নিখোঁজ ব্যক্তিদের যাচাইকৃত তালিকা প্রকাশ করতে হবে।
  • আটক ব্যক্তির অবস্থান পরিবারকে জানাতে এবং আইনজীবীর প্রবেশাধিকার নিশ্চিত করতে হবে।
  • শান্তিপূর্ণ আন্দোলনকারীদের মুক্তি দিতে হবে, যদি না তাদের বিরুদ্ধে দ্রুত স্বীকৃত ফৌজদারি অভিযোগ আদালতে উপস্থাপন করা হয়।
  • ২০২৬ সালের জুন থেকে সংঘটিত প্রত্যেক মৃত্যু ও গুরুতর আহত হওয়ার ঘটনা তদন্তে স্বাধীন কমিশন গঠন করতে হবে।
  • সাংবাদিক, আইনজীবী ও স্বাধীন মানবাধিকার পর্যবেক্ষকদের প্রবেশাধিকার নিশ্চিত করতে হবে।

প্রথম ছয় মাসে আইনি ও প্রাতিষ্ঠানিক সংস্কার

  • Joint Awami Action Committee-এর নিষেধাজ্ঞার দ্রুত ও পূর্ণাঙ্গ বিচারিক পর্যালোচনা করতে হবে।
  • সামষ্টিক শাস্তির পরিবর্তে ব্যক্তি-ভিত্তিক অপরাধের বিচার করতে হবে।
  • জাতিসংঘের মানদণ্ড অনুযায়ী শক্তি ব্যবহারের বিস্তারিত আইন প্রণয়ন করতে হবে।
  • স্বাধীন পুলিশ অভিযোগ কমিশন প্রতিষ্ঠা করতে হবে।
  • ভুয়া সংবাদ, সরকারি সমালোচনা বা শান্তিপূর্ণ ভিন্নমতকে অস্পষ্ট ভাষায় অপরাধে পরিণত করা আইন পর্যালোচনা করতে হবে।
  • ইন্টারনেট বন্ধের প্রতিটি আদেশে লিখিত প্রয়োজনীয়তা, সময়সীমা এবং বিচারিক পর্যালোচনা বাধ্যতামূলক করতে হবে।
  • স্বাধীন বাজেট ও তদন্তক্ষমতাসম্পন্ন AJK মানবাধিকার কমিশন প্রতিষ্ঠা করতে হবে।

এক থেকে তিন বছরের সাংবিধানিক ও গণতান্ত্রিক সংস্কার

  • অন্তর্ভুক্তিমূলক সাংবিধানিক প্রক্রিয়ার মাধ্যমে ৭(৩) অনুচ্ছেদ পর্যালোচনা করতে হবে।
  • সহিংসতায় সরাসরি উসকানি ও সশস্ত্র কর্মকাণ্ড নিষিদ্ধ রেখে অহিংস সাংবিধানিক বিকল্পের পক্ষে মতপ্রকাশ সুরক্ষিত করতে হবে।
  • শরণার্থী আসন নিয়ে AJK-এর বাসিন্দা, শরণার্থী জনগোষ্ঠী, নারী, তরুণ ও আইনজ্ঞদের অংশগ্রহণে গণশুনানি আয়োজন করতে হবে।
  • শরণার্থী প্রতিনিধিত্ব রক্ষা করে সরকার গঠনে এর অসম প্রভাব কমানোর বিকল্প বিবেচনা করতে হবে।
  • পাকিস্তানের কেন্দ্রীয় পর্যায়ের AJK-সংশ্লিষ্ট সিদ্ধান্তে স্থানীয় জনগণের কার্যকর অংশগ্রহণ নিশ্চিত করতে হবে।
  • স্থানীয় সরকারকে স্থিতিশীল উন্নয়ন বাজেট ও প্রশাসনিক ক্ষমতা দিতে হবে।

নারী, শিশু ও প্রান্তিক মানুষের সুরক্ষা

  • নারীর সংরক্ষিত আসনের পাশাপাশি সাধারণ আসনে সরাসরি প্রতিদ্বন্দ্বিতার সুযোগ বাড়াতে হবে।
  • লিঙ্গভিত্তিক সহিংসতার বিশেষ তদন্ত এবং ভুক্তভোগীকেন্দ্রিক আইনি সহায়তা নিশ্চিত করতে হবে।
  • সব জেলায় শিশু সুরক্ষা ইউনিট প্রতিষ্ঠা করতে হবে।
  • আন্তর্জাতিক শিশু অধিকার মানদণ্ডসম্মত অভিন্ন ন্যূনতম বিবাহের বয়স নির্ধারণ করতে হবে।
  • সংখ্যালঘু উপাসনালয় ও কবরস্থানে আগাম নিরাপত্তা দিতে হবে।
  • ট্রান্সজেন্ডার ও প্রতিবন্ধী ব্যক্তিদের শিক্ষা, স্বাস্থ্য, কর্মসংস্থান ও বিচারপ্রাপ্তির পরিমাপযোগ্য সুযোগ দিতে হবে।

পাকিস্তান ও আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের ভূমিকা

কেন্দ্রীয় সংস্থা বা পাকিস্তানের প্রভাবাধীন প্রতিষ্ঠানের পদক্ষেপের জন্য পাকিস্তানেরও মানবাধিকারগত দায়িত্ব রয়েছে। স্বাধীন তদন্ত ও পর্যবেক্ষণে সহযোগিতা করা তার দায়িত্ব।

জাতিসংঘ মানবাধিকার দপ্তর, চুক্তিভিত্তিক কমিটি এবং বিশেষ প্রতিবেদকদের পাকিস্তান-শাসিত ও ভারত-শাসিত—উভয় কাশ্মীরেই নিয়মিত প্রবেশাধিকার চাওয়া উচিত। পর্যবেক্ষণ অবশ্যই সমান ও নীতিনির্ভর হতে হবে।

নিয়ন্ত্রণরেখার এক পাশে অধিকার লঙ্ঘন অন্য পাশের লঙ্ঘনের অজুহাত হতে পারে না।

আন্তর্জাতিক সম্পৃক্ততার কেন্দ্রে রাষ্ট্রের ভূরাজনৈতিক প্রচার নয়—নাগরিক, সাংবাদিক, মানবাধিকারকর্মী ও ভুক্তভোগীদের অধিকার থাকা উচিত।

উপসংহার

AJK-কে এমন অঞ্চল বলা ঠিক নয় যেখানে কোনো অধিকারই নেই। মানুষ সেখানে ভোট দেন, আদালতে যান, সংবাদ প্রকাশ করেন, সংগঠন গড়েন, আন্দোলন করেন এবং কখনো সরকারকে নীতি পরিবর্তনে বাধ্য করেন। আইনসভা ও আদালতও কিছু ক্ষেত্রে কার্যকর প্রাতিষ্ঠানিক ভূমিকা দেখিয়েছে।

একইভাবে AJK-কে পূর্ণ রাজনৈতিক স্বাধীনতাসম্পন্ন অঞ্চল বলাও সঠিক নয়। সাংবিধানিক বিধান অহিংস রাজনৈতিক বিকল্পকে সীমিত করে; প্রতিনিধিত্ব বিতর্কিত; সাংবাদিক ও সমালোচকেরা চাপের মুখে পড়েন; এবং নিরাপত্তা সংকটে মতপ্রকাশ, চলাচল, সমাবেশ ও ন্যায়বিচারের অধিকার দ্রুত সংকুচিত হয়।

সশস্ত্র হামলা থেকে মানুষ ও পুলিশ সদস্যদের রক্ষা করা রাষ্ট্রের বৈধ দায়িত্ব। আন্দোলনের নেতাদেরও সহিংসতা রোধ, হাসপাতাল ও সাধারণ মানুষকে সুরক্ষা এবং অপরাধ তদন্তে সহযোগিতার দায়িত্ব রয়েছে।

কিন্তু কোনো দায়িত্বই সামষ্টিক শাস্তি, জবাবদিহিহীন প্রাণঘাতী শক্তি, গোপন আটক বা দীর্ঘ তথ্য অবরোধকে বৈধ করে না।

টেকসই পথ হলো ক্ষোভ দমন করা নয়, বরং সাংবিধানিকভাবে তার সমাধান করা—সত্য উদ্‌ঘাটন, জবাবদিহি, আইনসম্মত পুলিশিং, অন্তর্ভুক্তিমূলক প্রতিনিধিত্ব, স্থানীয় অর্থনৈতিক ন্যায়বিচার এবং অহিংস রাজনৈতিক চিন্তার স্বাধীনতার মাধ্যমে।

কাশ্মীরের চূড়ান্ত রাজনৈতিক ভবিষ্যৎ যা-ই হোক, সেই সমাধানের অপেক্ষায় AJK-এর মানুষের জীবন, মর্যাদা, মতপ্রকাশ, ন্যায়বিচার ও গণতান্ত্রিক অংশগ্রহণের অধিকার অনির্দিষ্টকালের জন্য স্থগিত রাখা যায় না।

নির্বাচিত নির্ভরযোগ্য তথ্যসূত্র

  1. Azad Jammu and Kashmir Interim Constitution, 1974
  2. Human Rights Commission of Pakistan, State of Human Rights in 2024
  3. Human Rights Commission of Pakistan, State of Human Rights in 2025
  4. ২০২৬ সালের জুনের দমনাভিযান নিয়ে Amnesty International-এর বিবৃতি
  5. যোগাযোগ বন্ধ ও প্রাণঘাতী শক্তি ব্যবহারের অভিযোগ নিয়ে Amnesty International-এর বিবৃতি
  6. ২০২৬ সালের জুনের অস্থিরতা নিয়ে Reuters-এর প্রতিবেদন
  7. ২০২৬ সালের জুলাইয়ের নির্বাচন ও সহিংসতা নিয়ে Reuters-এর প্রতিবেদন
  8. জাতিসংঘ মানবাধিকার দপ্তরের কাশ্মীরবিষয়ক প্রতিবেদন
  9. শরণার্থী আসনসংক্রান্ত রায় নিয়ে Associated Press-এর প্রতিবেদন
  10. আলী আহমদ ফারহাদ শাহের ঘটনা নিয়ে Reporters Without Borders-এর নথি
  11. United Nations Basic Principles on the Use of Force and Firearms

© ২০২৬ মিনহাজ সামাদ চৌধুরী ও Bangladesh HR Defender। পুনঃপ্রকাশের ক্ষেত্রে লেখকের পরিচয়, সূত্র ও সম্পাদকীয় প্রেক্ষাপট অক্ষুণ্ণ রাখা উচিত।

```
Bangladesh HR Defender — স্বাধীন মানবাধিকার বিশ্লেষণ, আইন গবেষণা ও জননীতি বিষয়ক প্রকাশনা।

No comments:

Post a Comment

Please validate CAPTCHA