ভঙ্গুর বেসামরিক প্রশাসনে Functioning প্রশাসন: ডিসি মো. সারোয়ার আলমের আলোচিত ১০ মাস ও সুশাসনের ব্যবচ্ছেদ
২০২৪ সালের ৫ আগস্ট-পরবর্তী পটপরিবর্তনের পর বাংলাদেশের সামগ্রিক মাঠ প্রশাসন ও আইনশৃঙ্খলা ব্যবস্থা এক নজিরবিহীন প্রাতিষ্ঠানিক পঙ্গুত্বের মুখোমুখি হয়েছিল। পুলিশ বাহিনীর মনোবল তলানিতে গিয়ে ঠেকেছিল এবং মাঠপর্যায়ের কর্তৃত্ব প্রায় অকার্যকর হয়ে পড়েছিল। ঠিক সেই ভঙ্গুর বাস্তবতায় সিলেটের প্রাকৃতিক পর্যটনকেন্দ্র সাদাপাথর থেকে প্রকাশ্য দিবালোকে কোটি কোটি টাকার খনিজ পাথর চুরির মহোৎসব শুরু হয়। এমন গভীর প্রশাসনিক শূন্যতার মুহূর্তে ২০২৫ সালের ১৮ আগস্ট জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয় থেকে প্রজ্ঞাপন জারির মাধ্যমে সিলেটের জেলা প্রশাসক ও জেলা ম্যাজিস্ট্রেট হিসেবে নিয়োগ দেওয়া হয় আলোচিত ম্যাজিস্ট্রেট মো. সারোয়ার আলমকে। ২০০৮ সালে ২৭তম বিসিএস প্রশাসন ক্যাডারে যোগ দেওয়া এবং পরবর্তীতে র্যাবের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট হিসেবে ভেজালবিরোধী অভিযানে দেশব্যাপী জনপ্রিয়তা পাওয়া এই কর্মকর্তা ২১ আগস্ট সকাল সাড়ে ৯টায় সিলেটে যোগদান করেন।
তাঁর দায়িত্বকালের মাত্র ১০ মাস সিলেট তো বটেই, গোটা দেশের প্রশাসনিক চর্চায় এক অনন্য বিতর্কের জন্ম দিয়েছে। একজন জেলা ম্যাজিস্ট্রেট কীভাবে স্থবির হয়ে পড়া পুলিশ, নিষ্ক্রিয় পৌর প্রশাসন ও রাজনৈতিক শক্তিকে একই টেবিলে বসিয়ে ‘Functioning’ বা সচল প্রশাসনে রূপান্তর করতে পারেন, তিনি তার প্রত্যক্ষ দৃষ্টান্ত তৈরি করেছিলেন।
১. প্রাকৃতিক সম্পদের সার্বভৌমত্ব রক্ষা: সাদাপাথর উদ্ধারে ‘জিরো টলারেন্স’
দায়িত্ব গ্রহণের মাত্র ৮ ঘণ্টার মাথায় কোনো প্রকার আমলাতান্ত্রিক কালক্ষেপণ না করে ভোলাগঞ্জ ও সাদাপাথর এলাকায় অবৈধভাবে মজুতকৃত খনিজ পাথরের বিরুদ্ধে সরাসরি অভিযান পরিচালনা করেন সারোয়ার আলম। প্রথম দিন বিকেলেই টুকেরগাঁও এলাকার চাচা-ভাতিজা স্টোন ক্রাশার, মেসার্স আল করিম স্টোন ক্রাশারসহ তিনটি বৃহদাকার মিলে অভিযান চালিয়ে পাথর জব্দ করা হয়। পরিবেশ ও রাষ্ট্রীয় সম্পদ সুরক্ষায় তিনি প্রকাশ্যে ঘোষণা দিয়েছিলেন, “সাদাপাথর থেকে যাতে আর একটি পাথরও চুরি না হয় সেই ব্যবস্থা করা হচ্ছে। সাদাপাথরকে আগের রূপে ফিরিয়ে দিতে যা যা করা দরকার তাই করা হবে।”
প্রশাসনের দৃঢ় অবস্থানের মুখে শনিবার বিকেল থেকে রোববার রাত ৮টা পর্যন্ত অন্তত শতাধিক সাধারণ ব্যবসায়ী ও নাগরিক স্বেচ্ছায় প্রায় ২ লাখ ঘনফুট পাথর নিজস্ব পরিবহন খরচে ফেরত দিয়ে যান। এছাড়া ধোপাগুল এলাকা থেকে উদ্ধারকৃত ৫০ হাজার ঘনফুট পাথর একশটি ট্রাকে করে ভোলাগঞ্জে পূর্বের প্রাকৃতিক অবস্থানে ফিরিয়ে নেওয়া হয়। প্রশাসনের হিসাব অনুযায়ী সব মিলিয়ে প্রায় ২৬ লাখ ঘনফুট পাথর উদ্ধার নিশ্চিত করা হয়েছিল। রাষ্ট্রের কর্তৃত্ব পুনঃপ্রতিষ্ঠার এই উদ্যোগ স্থানীয়দের কাছে তাঁর ‘পাথরকাণ্ডে ইন’ বা গৌরবোজ্জ্বল প্রবেশ হিসেবে স্মরণীয় হয়ে থাকে।
২. মানবিক পুনর্বাসনভিত্তিক নগর শৃঙ্খলা: ‘লালদিঘীরপাড় মডেল’
উচ্ছেদ অভিযানের চিরাচরিত ধ্বংসাত্মক পথ পরিহার করে মানবিক পুনর্বাসনের এক অভিনব নজির স্থাপন করে জেলা প্রশাসন। ১৯ অক্টোবর থেকে প্রধান সড়ক ও ফুটপাতে হকার বসা নিষিদ্ধ করার পূর্বে সিলেট সিটি করপোরেশন ও মেট্রোপলিটন পুলিশকে সাথে নিয়ে লালদিঘীরপাড় মাঠে ১০টি সুবিন্যস্ত গলিতে ইট, বাঁশ ও ত্রিপল দিয়ে সম্পূর্ণ বিনামূল্যে হকারদের জন্য ড্রেন ও টয়লেট সুবিধাসহ অস্থায়ী শেড নির্মাণ করে দেওয়া হয়।
- ফুটপাত দখলমুক্তকরণ: চৌহাট্টা, জিন্দাবাজার ও বন্দরবাজারের মতো তীব্র যানজটপূর্ণ বাণিজ্যিক এলাকা দীর্ঘ কয়েক দশক পর টানা কয়েক সপ্তাহ ফুটপাত ও হকারমুক্ত রাখা সক্ষম হয়েছিল।
- অবৈধ পরিবহন নিয়ন্ত্রণ: সিলেট নগরীতে অনুমোদিত ১৯,০০০ সিএনজি অটোরিকশার বাইরে অবৈধ ও লাইসেন্সবিহীন যানবাহনের বিরুদ্ধে ১৫ দিনের স্পষ্ট সময়সীমা নির্ধারণ করে ২২ সেপ্টেম্বরের মধ্যে সড়ক থেকে অপসারণের কঠোর নির্দেশনা জারি করা হয়।
- রেলওয়ের টিকিট কালোবাজারি দমন: ২৪ অক্টোবর থেকে টিকিটে উল্লেখিত নামের সাথে যাত্রীর জাতীয় পরিচয়পত্রের (NID) মিল থাকা বাধ্যতামূলক করা হয় এবং স্টেশনে নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট নিয়োগ করে টিকিট কালোবাজারি চক্রকে সম্পূর্ণ স্তব্ধ করে দেওয়া হয়।
৩. সান্ধ্যকালীন অর্থনীতি ও আইনশৃঙ্খলার ভারসাম্য: রাত ৯:৩০ নীতি
জাতীয় বিদ্যুৎ সাশ্রয় নীতির সাথে স্থানীয় বাস্তবতার সমন্বয় ঘটিয়ে ৭ ডিসেম্বর থেকে ফার্মেসি ও রেস্তোরাঁ ব্যতীত সকল বাণিজ্যিক প্রতিষ্ঠান রাত ৯:৩০-এর মধ্যে বন্ধের নির্দেশ কার্যকর করা হয়। রাত ১০টার পর অলিগলিতে অযাচিত আড্ডা ও দোকান খোলা রাখার বিরুদ্ধে প্রশাসনের নিয়মিত অভিযানের ফলে নগরীতে কিশোর গ্যাংয়ের উৎপাত, নৈশকালীন মাদক কারবার ও চাঁদাবাজি শূন্যের কোঠায় নেমে আসে।
৪. আধ্যাত্মিক প্রতিষ্ঠানে জবাবদিহি: শাহজালাল (রহ.) মাজারের ঐতিহাসিক অডিট
৭০০ বছরের ধর্মীয় ও ভাবগাম্ভীর্যপূর্ণ ঐতিহ্যের অন্তরালে থাকা দান-অনুদানকে প্রাতিষ্ঠানিক জবাবদিহির আওতায় আনাই ছিল সারোয়ার আলমের মেয়াদের সর্বাধিক সাহসী ও বিস্ফোরক পদক্ষেপ।
মাজারের এই বিপুল অর্থ ব্যবস্থাপনায় একটি যুগান্তকারী নীতি প্রণয়ন করা হয়—আয়ের ৩৫% সরাসরি ব্যাংকে স্থায়ী উন্নয়ন তহবিলে জমা থাকবে এবং অবশিষ্ট ৬৫% মাজারের খাদেম, কর্মচারী ও দৈনন্দিন পরিচালনা ব্যয়ে স্বচ্ছতার সাথে বণ্টন করা হবে। জেলা প্রশাসনের নিজস্ব কল্যাণ তহবিল থেকেও তিনি মাজারে ৫ লাখ টাকা অনুদান প্রদান করেন। পরবর্তীতে ২৩ সেপ্টেম্বর সার্কিট হাউসে সরকারের সাবেক বাণিজ্যমন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদিরের নেতৃত্বে ১২ সদস্যের উচ্চক্ষমতাসম্পন্ন কমিটি গঠনের মাধ্যমে এ প্রক্রিয়া স্থায়ী কাঠামোর রূপ পায়।
৫. জনস্বার্থ ও মেগা অবকাঠামো প্রকল্পে দৃশ্যমান অগ্রগতি
দৈনন্দিন আইনশৃঙ্খলা রক্ষার বাইরে সিলেটের দীর্ঘমেয়াদী গণদাবি ও আটকে থাকা রাষ্ট্রীয় প্রকল্পগুলোতে সারোয়ার আলম অভাবনীয় গতি সঞ্চার করেছিলেন:
- ওসমানী মেডিকেলকে দালালমুক্তকরণ: সিলেট বিভাগের সর্ববৃহৎ সরকারি চিকিৎসা আশ্রয়স্থল এমএজি ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ছদ্মবেশী দালাল সিন্ডিকেটের দৌরাত্ম্য বন্ধে যৌথ বাহিনীর অভিযান পরিচালনা ও নিয়মিত নজরদারি প্রতিষ্ঠা।
- ক্যান্সার হাসপাতাল চালুর প্রতিশ্রুতি: ওসমানী মেডিকেল সংলগ্ন নির্মাণাধীন বিশেষায়িত ক্যান্সার ইউনিটটি সরজমিনে পরিদর্শন করে ৩ মাসের মধ্যে পূর্ণাঙ্গ চিকিৎসা কার্যক্রম চালু করার প্রশাসনিক অচলাবস্থা দূরীকরণ।
- মহাসড়ক প্রকল্পে জমি অধিগ্রহণ জটিলতা নিরসন: ২০২১ সালে শুরু হওয়া ১৭,০০০ কোটি টাকার সাসেক (SASEC) ঢাকা-সিলেট ৬-লেন প্রকল্পের ৮৩০ একর জমির মধ্যে জমি অধিগ্রহণের অগ্রগতি আটকে ছিল মাত্র ১৫ শতাংশে। সারোয়ার আলম আদালতে ঝুলন্ত ১১৩টি মামলার সিংহভাগ নিষ্পত্তির ব্যবস্থা করে ২-৩ মাসের মধ্যে অধিগ্রহণ সমাপ্তির দোরগোড়ায় নিয়ে আসেন। একই সাথে একনেকে অনুমোদিত সিলেট-চারখাই-শেওলা চার লেন প্রকল্পের থমকে থাকা অধিগ্রহণ কার্যক্রমে গতি ফিরিয়ে আনেন।
- প্রবাসী কল্যাণ ও সরকারি সম্পত্তি উদ্ধার: জেলা প্রশাসনের বহু মূল্যবান বেদখলকৃত দোকানকোঠা নামমাত্র ভাড়ায় আটকে রাখা প্রভাবশালী সিন্ডিকেটকে উচ্ছেদ করে সেখানে আধুনিক ১০ তলা ভবন এবং প্রবাসী বাংলাদেশিদের ওয়ান-স্টপ সেবায় ‘ওভারসিজ সেন্টার’ প্রতিষ্ঠার মহাপরিকল্পনা গ্রহণ।
৬. তুলনামূলক শাসনব্যবস্থা: মাঠের বাস্তব বনাম কেন্দ্রের ফাঁপা আস্ফালন
সুশাসন ও জননীতি বিশ্লেষকের দৃষ্টিতে জেলা প্রশাসক মো. সারোয়ার আলমের কর্মপদ্ধতি কেন্দ্রীয় নীতিনির্ধারকদের এক চরম কাঠগড়ায় দাঁড় করিয়ে দেয়। মাঠপর্যায়ের একজন জেলা ম্যাজিস্ট্রেট যখন ধ্বংসস্তূপে দাঁড়িয়ে রাষ্ট্রযন্ত্রকে সচল করেন, তখন কেন্দ্রের দায়িত্বপ্রাপ্ত ব্যক্তিরা কেবল বাগাড়ম্বরেই সীমাবদ্ধ থাকেন—
| মাঠের কার্যক্ষম প্রশাসন (ডিসি মো. সারোয়ার আলম) | কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের রূপরেখা (স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমেদ) |
|---|---|
|
• দায়িত্ব গ্রহণের ৮ ঘণ্টার মধ্যে সরাসরি অভিযান পরিচালনা এবং ২৬ লাখ ঘনফুট লুণ্ঠিত পাথর উদ্ধার। • হকারদের পুনর্বাসন নিশ্চিত করে ফুটপাত উদ্ধার এবং ১৯ হাজার বৈধ সিএনজির তালিকা প্রণয়ন। • ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানের স্পর্শকাতর স্থানে শত বছরের অস্বচ্ছতা ভেঙে কোটি টাকার তহবিলের প্রকাশ্য হিসাবায়ন। • টিকিটের কালোবাজারি রোধে NID বাধ্যতামূলক করা এবং স্বাস্থ্য-মহাসড়ক প্রকল্পের আইনি জট খোলা। • প্রত্যাহারের আদেশের পর দলমত নির্বিশেষে সর্বস্তরের জনতার চোখে জল ও রাজপথে পুনর্বহালের গণদাবি। |
• ২০২৬ সালের ১৭ ফেব্রুয়ারি আনুষ্ঠানিকভাবে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের দায়িত্বভার গ্রহণ। • “গত ৬ মাসে কোনো গুম বা বিচারবহির্ভূত হত্যা হয়নি” কিংবা “ডিসেম্বরে কোনো অস্থিতিশীলতা সম্ভব নয়”—জাতীয় গণমাধ্যমে এমন গতানুগতিক রাজনৈতিক বিবৃতি প্রদান। • ভঙ্গুর পুলিশ বাহিনীকে মাঠে কার্যকর, জনবান্ধব ও দুর্নীতিমুক্ত করার দৃশ্যমান জাতীয় রূপরেখার স্পষ্ট অনুপস্থিতি। • দুর্নীতিবাজ ও সুবিধাবাদী সিন্ডিকেটের বিরুদ্ধে কার্যকর মাঠপর্যায়ের পদক্ষেপের চেয়ে বাগাড়ম্বরপূর্ণ আস্ফালনে সীমাবদ্ধতা। |
৭. মানবাধিকার ও জননীতি বিশ্লেষকের অবস্থান: রাষ্ট্রের প্রতি স্পষ্ট দাবি
একজন সচেতন নাগরিক, মানবাধিকারকর্মী ও জননীতি বিশ্লেষক হিসেবে রাষ্ট্রের সর্বোচ্চ নীতিনির্ধারণী মহলের কাছে আমাদের সুস্পষ্ট পর্যবেক্ষণ ও দাবি:
প্রথমত, মো. সারোয়ার আলমের মতো সৎ, নির্মোহ ও অকুতোভয় কর্মকর্তাদের স্বাধীনভাবে আইন প্রয়োগের পূর্ণ এখতিয়ার নিশ্চিত করতে হবে। কোনো কায়েমি স্বার্থ বা সিন্ডিকেটের আঁতে ঘা লাগার পর ১০ মাসের মাথায় জেলা পর্যায় থেকে বদলি বা ওএসডি করার পুরোনো আমলাতান্ত্রিক সংস্কৃতি বন্ধ না হলে রাষ্ট্র কখনোই দুর্নীতিমুক্ত হতে পারবে না।
দ্বিতীয়ত, আইন-শৃঙ্খলা ও জননিরাপত্তা নিশ্চিতের স্বার্থে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় পরিচালনায় সারোয়ার আলমের মতো পরীক্ষিত, দৃঢ়চেতা ফিল্ড-অফিসারদের নীতিনির্ধারণী ও নির্বাহী একক নেতৃত্বে নিয়ে আসার বিষয়টি রাষ্ট্রকে গভীরভাবে ভাবতে হবে। ভেঙে পড়া পুলিশ ও দিশেহারা সিভিল প্রশাসন নিয়ে সিলেটে তিনি যে ‘Functioning Model’ দেখিয়েছেন, তা জাতীয় পর্যায়ে আইনশৃঙ্খলা পুনরুদ্ধারে এক অব্যর্থ দিকনির্দেশক হতে পারে।
তৃতীয়ত, ফাঁপা রাজনৈতিক বক্তব্য নয়, মাঠপর্যায়ে দৃশ্যমান কাজের সংস্কৃতি গড়তে হবে। স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমেদসহ কেন্দ্রীয় নেতৃত্বের উচিত সারোয়ার আলমের মাঠপর্যায়ের প্রশাসনিক সাহস থেকে শিক্ষা নিয়ে জনআস্থা ফিরিয়ে আনা।
ইতিহাস সবসময় দৃশ্যমান কর্মকে মনে রাখে। কে প্রকাশ্যে লুট হতে দিয়েছিল আর কে ব্যক্তিগত ঝুঁকি নিয়ে তা ফিরিয়ে এনেছিল—তা জনস্মৃতিতে চিরকাল অমলিন থাকে। মাত্র ১০ মাসের সংক্ষিপ্ত সময়ে সিলেটের জন্য সারোয়ার আলম রেখে গেছেন জনপ্রশাসনের একটি আদর্শিক পাঠ্যপুস্তক: প্রশাসনিক সদিচ্ছা, নৈতিক সততা এবং জনগণের প্রতি দায়বদ্ধতা থাকলে চরম ভঙ্গুর রাষ্ট্রযন্ত্রের মধ্যেও একটি কার্যকর ‘Functioning প্রশাসন’ গড়ে তোলা সম্ভব।
যাচাইকৃত তথ্যসূত্র ও রেফারেন্স লিংকসমূহ (Verified Reference Links)
- ১. বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম (bdnews24): সাদাপাথর লুট ও উদ্ধার অভিযান, ক্রাশার মিলে তাৎক্ষণিক জেলা প্রশাসনের যৌথ অভিযান সংক্রান্ত প্রতিবেদন — bangla.bdnews24.com
- ২. দ্য বিজনেস স্ট্যান্ডার্ড (TBS News): ভোলাগঞ্জ ও ধোপাগুল থেকে লুণ্ঠিত পাথর উদ্ধার এবং প্রাকৃতিক পরিবেশে প্রতিস্থাপন পরিসংখ্যান — tbsnews.net
- ৩. দৈনিক যুগান্তর (Jugantor): লালদিঘীরপাড় হকার পুনর্বাসন মডেল এবং নগরীর সড়ক ও ফুটপাত দখলমুক্তকরণ যৌথ অভিযান — jugantor.com
- ৪. বাংলাদেশ সংবাদ সংস্থা (BSS): শাহজালাল (রহ.) মাজারের সিলগালাকৃত দানবাক্স স্থাপন, প্রকাশ্য গণনা এবং ১২ সদস্যের সরকারি তদারকি কমিটি — bssnews.net/bangla
- ৫. ডেইলি অবজারভার (The Daily Observer): রেলওয়ের টিকিট কালোবাজারি দমনে এনআইডি যাচাই এবং এমএজি ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের দালাল সিন্ডিকেট উচ্ছেদ — observerbd.com
- ৬. খবরের কাগজ (Khaborer Kagoj): সাসেক (SASEC) ঢাকা-সিলেট চার লেন মহাসড়ক ও শেওলা প্রকল্পের জমি অধিগ্রহণ এবং ১১৩টি মামলার জট নিরসন সংক্রান্ত রিপোর্ট — khaborerkagoj.com
- ৭. সিলেটভিউ২৪ (SylhetView24): ডিসি সারোয়ার আলমের আকস্মিক প্রত্যাহার আদেশ এবং সিলেটের সর্বস্তরের নাগরিকদের টানা দুই দিনের বিক্ষোভ ও মানববন্ধন — sylhetview24.net
- ৮. দি এশিয়ান এজ (The Asian Age): নৈশকালীন বাণিজ্যিক প্রতিষ্ঠান বন্ধের শৃঙ্খলা এবং জেলা প্রশাসনের ওভারসিজ সেন্টার ও ১০ তলা বহুমুখী অবকাঠামো পরিকল্পনা — dailyasianage.com
- ৯. সিলেট জেলা প্রশাসন বাতায়ন (Sylhet District Administration Portal): জেলা প্রশাসনের প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত, মোবাইল কোর্টের কার্যক্রম ও সার্বিক উন্নয়ন বিবরণী — sylhet.gov.bd

No comments:
Post a Comment
Please validate CAPTCHA